আমার চেতনার রঙে রাঙানো এই খেলা ঘরে:

~0~0~! আপনাকে স্বাগতম !~0~0~

***************************************************



Saturday, 2 May 2009

Di-Voter, Bangladeshi ebong Hindu-Musalmaner samajik Rajniti

                                       (লেখাটা পড়তে বরাহ চাই)

ডি-ভোটার, বাংলাদেশি এবং হিন্দু মুসলমানের সামাজিক রাজনীতি

গেল ৯ এপ্রিলের দৈনিক যুগশঙ্খের ২ এবং ৭ নং পৃষ্ঠাতে দুটো সংবাদ   বেরিয়েছে । প্রথমটির শিরোনাম, ডি ভোটার সম্পর্কে চুপ রাজনৈতিক দলগুলি, ক্ষুব্ধ যুবছাত্র ফেডারেশন। দ্বীতিয়টির শীরোনাম, ডি ভোটাররা কং-অগপ-র বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন বরপেটা জেলায়। প্রথম সংবাদের ভেতরে সারা অসম বাঙালি যুব ছাত্র ফেডারেশনের গুয়াহাটি মহানগর কমিটির এক সভার সংবাদ রয়েছে । রাজা দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ডি ভোটারের সমস্যা নিয়ে কোনো কথা না বলাতে বিজেপি এবং কংগ্রেসের সমালোচনা করা হয়েছে । তাই এবারের  লোক সভা নির্বাচন বাঙালিদের বর্জন করবার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বক্তব্য রেখেছেন । সভাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১২ এপ্রিলে ফেডারেশেনের আরো এক সভা হবে, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে । কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল সে কথাতে আমরা পরে আসছি। আপাতত দ্বিতীয়  সংবাদটির কথাতে আসি ।
সেখানে যিনি সংবাদটি পরিবেশন করেছেন তাঁর নামটিই বেশ চিত্তাকর্ষক । সেই যিনি গেয়েছিলেন, সব লোকে কয় লালন  কী জাত সংসারে . . ., সেই ফকিরের নামে সেই সাংবাদিকের নাম লালন ফকির । সংবাদের শুরুতে তিনি অসম আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন। কি করে এ রাজ্যের বহু ভোটার  ডি-ভোটার হয়ে গেলেন তার ইতিবৃত্ত ব্যাখ্যা করেছেন। লিখেছেন বহু পরিবারে এমন হয়েছে যে এক দুজন সদস্য ডি-ভোটার হয়ে গেলেও তাদেরই ভাই-বোন হয়তো ডি-ভোটর নন। তারপর তিনি জানিয়েছেন এবারের নির্বাচনের আগে বরপেটা জেলার এমন বহু ভোটার ও তাদের পরিবারের লোকেরা সুবিধাবাদী  কংগ্রেস-অগপ-র বিরুদ্ধে জোর প্রচার চালাবেন । খিলঞ্জিয়া সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর এইসব ডি-ভোটারের পরিবারের লোকেরা ইতিমধ্যে বরপেটা জেলার গরেমারি-বানিয়াপাড়া, বাগোদি, ভৈরাগুড়ি, হাউলি বহরির পার, কলগাছিয়া, মইনবাড়ি, বাঘবরে সভাসমিতি অনুষ্ঠিত করেছেন। লালন ফকির লিখেছেন, জেলার নির্বাচনী অফিসার সঞ্জয় দত্ত স্বাক্ষরিত এক তথ্য মতে, বরপেটা মহাকুমাতে মোট ২৩,৩২৫ জন ডি-ভোটার রয়েছেন । এদের মধ্যে ৪০নং সরভোগ বিধান সভা কেন্দ্রে ডি-ভোটার পুরুষ ২৭২৫ জন, মহিলা ৫০৩৫জন মোট ৭৭৬০। ৪৩নং বরপেটা বিধান সভা কেন্দ্রে পুরুষ ৬২৯ জন, মহিলা ৭৩৫ জন, মোট ১৩৬৪ জন। ৪৪নং জনিয়াতে পুরুষ ২৪৫৬ জন, মহিলা ৪২২৪ জন, মোট ৬৬৮০ জন । তেমনি ৪৫ নং বাঘবরে ডি-ভোটার পুরুষ ৯২৭ জন, মহিলা ২৫৩৬ জন, মোট ৩৪৬৩ জন । ৪৬ নং সরুক্ষেত্রীতে পুরুষ ৬৮১জন, মহিলা ১৫৪৮জন, মোট ২২২৯ জন এবং ৪৭নং চেঙায় পুরুষ ৫৫৪ জন, মহিলা ১২৭৫ জন, মোট ১৮২৯ । মজার কথা হলো বরপেটার এই মোট ২৩,৩২৫ জন ডি-ভোটারের বেশিরভাগই গৃহবধূ  
        এখন নির্বাচন পেরিয়ে গেছে। জানিনা ১২ এপ্রিলের ফেডারেশনের সভাতে কী সিদ্ধান্ত হল । জানিনা বরপেটার সেইসব ডি-ভোটাররা ঠিক কী প্রচার করলেন, কংগ্রেস-অগপকে হারাতে চাইলেন না ভোট বয়কট করতে চাইলেন । নির্বাচনের পর এগুলো কোনো ইস্যুও থাকেনা, সংবাদও হয় না ।
        কেবল বরপেটা জেলাতেই নয় কাছাড়-করিমগঞ্জ সহ সারা রাজ্যে ১৯৯০তে ডি-ভোটার ছিল প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার। এই পনের বছরে তা কমে মাত্র  অর্ধেক হয়েছে । এখন এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ । অর্থাৎ  সবাইকে এই সন্দেহের তালিকা থেকে মুক্তি পেতে এখনো দেড় দশকের বেশি সময়ের দরকার পড়বে ।
            সমস্যাটা হিন্দু-মুসলমান দুপক্ষেই এক । দুপক্ষই বিদেশি  হবার  দায় থেকে মুক্তি পাচ্ছে না । দুপক্ষকেই অসমিয়া জাতীয়তাবাদের মার সইতে হচ্ছে । কিন্তু তার থেকেও বড় কথা দুপক্ষ পরস্পরকে মারছে, জোট বাঁধবে না । দুপক্ষের সংগঠনগুলোকেই বিশ্বাস করতে মন মানে না । এদের নিজেদের মধ্যে শত বিরোধ, শত বিভাজন। কারণ, শেষ অব্দি দালালিতে গিয়ে সব শেষ হয় । সবাই দালালির ভাগ নিয়ে , দর কষাকষি নিয়ে ব্যস্ত । কাকে মেরে কে খায় !
        আত্মরক্ষার জন্যে এ রাজ্যের ময়মনসিংহ থেকে আগত বাঙালি মুসলমানেরা নিজেদের অসমিয়া লিখিয়েও রেহাই পাচ্ছে না । পাবার কথা নয় । এমন কৃত্রিম পরিচয় নিয়ে সরকারী কাগজে স্বীকৃতি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু মানুষতো আর কাগজ নয়। তারা আসলটা চায়। সাধারণ অসমিয়া তাদের মধ্যে অসমিয়াত্ব দেখে না । দেখে বাংলা, বাঙালি, বাংলাদেশ । তাই তাদের বিপদের শেষ নেই ।  
বাঙালি হিন্দুরা দেশভাগের দায়তো তাদের দিচ্ছেই, সঙ্গে নিজেদের অসমিয়া লিখিয়ে  বাকি বাঙালিদের সংখ্যালঘু বানিয়ে রাখার ঝালও এদের উপরই মেটাচ্ছে। আজকাল  ব্রহ্মপুত্রের সব হিন্দু বাঙালি নিজেরা স্বদেশি থাকতে চায়, কিন্তু মুসলমানদের বাংলাদেশে তাড়াতে চায় । বরাকেও তাই । তাই এক বড় অংশ ভাজপা-র সমর্থক । নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভাঙা একেই বোধহয়   বলে । এই হিন্দুদের সমর্থনেই আই-এম-ডি-টি বাতিল হলো । এখন ডি-ভোটার হলে বা বিদেশি  বলে ওপারে তাড়া খেলে চেঁচায় কেন ? ওই ফেডারেশনও  আসলে হিন্দুদের সংগঠন । হিন্দুদের নিয়েই মাথা ব্যথা। গেল শরতে আসুর বিদেশি  খেদা অভিযানে ওরাও সঙ্গে ছিল । মুসলমান  পিটিয়েছে । এরা নির্বাচন বয়কট করবে !! ভাবাই যায় না ! হোজাইতে দেখলাম ওদের একটা পক্ষ এইউডিএফ-কে সমর্থণ জানাবে বলাতে অন্যেরা চটে লাল । সে পক্ষ বোধহয় ভাজপার-পক্ষে ছিল । ভাজপা বলছে, শুরু থেকেই বলছে , ‌হিন্দুরা শরণার্থী, বিদেশি  নয় । অগপ মুখে অন্তত হিন্দু মুসলমান ভাগ করেনা । কিন্তু এবারের নির্বাচনে সর্বানন্দ সনোয়াল কিন্তু তিনসুকিয়া মার্ঘেরিটার বাঙালিদের ভীড়ে এই কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন যে হিন্দু বাঙালিরা বিদেশি  নয় । এখন শুনছি তিনি ভাজপাতে যোগ দিলেও দিতে পারেন ।
        এই ভাজপা সবাইকে খাবে । অসমিয়াদেরও, হিন্দু বাঙালিদেরও আর মুসলমানদেরতো বটেই । অসম আন্দোলনের সমর্থণে ভাজপা আগে ভাগে ছিল । আই আম ডি টি আইন বাতিলের আন্দোলনেও ওরা সরব ছিল । সেই আন্দোলনের ফসল অসম চুক্তির দৌলতে এখন হিন্দুরাও তাড়া খাচ্ছে, ডি-ভোটার   হচ্ছে । তবু হিন্দুরা স্বপ্ন দেখছে, এই ভাজপাই ওদের বাঁচাবে । অন্তত মুসলমানদের ভাজপাই তাড়াবে আর কেউ নয় !! মুসলমান অসম থেকে গেলে কী হবে ? অসমিয়া হিন্দু ভাইরা বাঙালিদের বুকে তুলে নেবে , না নিচ্ছে ? বরং সংখ্যাতে বাঙালি আরো কম, আরো দুর্বল হবে । হবে কি ?
        না, এতো বোকা হিন্দু বাঙালি নয় । তার রক্তে আছে ব্রিটিশ-ভারত তথা বাংলার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদারির রক্ত । মুসলমানরা হিন্দু নিম্ন বর্ণের সঙ্গে মিলে ব্রাহ্মণ-কায়স্থ জমিদারদের প্রজা ছিল । সেই জমিদারির নেশা এখনো যায় নি । আমাদের বরাক উপত্যকার সাংসদ-বিধানসভা সদস্যদের আচার আচরণেই তা স্পষ্ট । এখনো সে কেন্দ্রীয় সরকার আর চাকরির বড় ভাগটাই নিজের দখলে রেখেছে । সন্তোষ মোহন থেকে ভারি মন্ত্রী নেই । আর বেঙ্কে, রেলে, চা-বাগানে ব্যবসা-বাণিজ্যে বাঙালির চেয়ে করো ভার বেশি  নেই ।   তার জন্যেই এরা অসমিয়াদের বিরুদ্ধে খুব একটা মুখ খুলে না , কিন্তু মুসলমানদের তাবে রাখতে চায় এখনো । আর তাবে রাখবার স্বপ্ন দেখছে অসমিয়াদেরো । কারো কারো স্বপ্ন আছে মুসলমান চলে গেলেই অসমে সংখ্যা গরিষ্ঠ হবে হিন্দু বাঙালি । তখন এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে । তাই আপাতত ভাজপা-অগপ জোট । যা আসলে বাঙালি-অসমিয়া জোট ।
অসমিয়াদের স্বপ্ন এই নয়া-অসমিয়াদের হয় আরো বেশি অসমিয়া বানাও, নতুবা দর কষাকষি  করতে অপারগ আরো দুর্বল আরো সস্তা শ্রমিক বানাও । ঠিকার কাজগুলো আসমিয়ারাই করে কিনা । সস্তার ঠকার শ্রমিক তাদেরই চাই । বাঙালিদের স্বপ্ন---  হয় বাঙালি হও । নতুবা বাংলাদেশে যাও ।
এ আসলে হিন্দু বাঙালি আর অসমিয়ার  ছদ্মবেশী লড়াই  । যা কাল না হলে পরশু সামনে আসবেই । কে জেতে দেখতে হবে । মুসলমানেরা কিন্তু বোঝে না এই অসমিয়া-বাঙালির লড়াই । তারা এও জানে না তার দেশ কোনটা । কারণ সে কৃষক। সে শ্রমিক । তার চাই কাজ, তার চাই জমি । কপাল যেখানে তাকে এগুলো জোটাবে সেখানে সে  যাবে । মারতো তাকে সর্বত্র খেতেই হয় । ভারত হোক আর বাংলাদেশে । ব্রহ্মপুত্র হোক আর বরাকে । তার একমাত্র তাই এখনো আল্লাই ভরশা !!!!   
এই মুসলমানদের পক্ষ নিয়ে কথা বললে সবই ক্ষেপে যায় । এ বুঝি ধর্ম নিরপেক্ষতা হলো না !! তখন ভাজপারাও সমদর্শী হয়ে পড়ে ! আর সরকারী বামদেরো চোখ-মুখ কেমন আবছা হয়ে যায় । দুপক্ষেরই সাম্প্রদায়িকতা বুঝি সমান বিপদ ! নিকুচি করেছে সম-দর্শনের । কোথায় রাজা ভোজ আর কোথায় গঙ্গু তেলি ! এ হল হিন্দি সিনেমার ডায়ালগ । মনে পড়ে গেল । কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রীর সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে ধুবড়ির দূর প্রত্যন্ত চরের গেঁও কৃষকের  বুঝি সম-দর্শণ ! আগে স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়-বেঙ্ক-রেল-তেল-কয়লা-চা-বাগান সবেতে মুসলমানদের এনে সমতা  দেখাও , তার পর সমানে সমানে কুস্তি কর ।         তার জোটে না ভাত, তাকে    কেউ শেখাবে বিহু, কেউ পড়াবে  রবীন্দ্রনাথ !! এ বিপদ থেকে বাঁচতে সে পাঁচ  ওক্ত নামাজ পড়ে, আল্লাহকে ডাকে । বেশ করে । আরো করবে । যতদিন আল্লাহ তাকে মুক্তি না দেবেন   এই শাষন শোষণ আর অত্যাচার থেকে ।
আজ যদি সংখ্যালঘুর অধিকারটা চিনের প্রাচীরেরে মতো আইনের প্রাচীর গড়ে সুরক্ষিত করে ফেলা যায় , তবে কাল মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গেলেওতো কারো বিপদ নেই পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো । কাল হিন্দু ধর্ম আর সংস্কৃতি বিপন্ন হবে কী করে ? বাঙালি হিন্দুদেরই বা তখন অসমিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠের থেকে ভয়টা কিসের ? আর যদি বাঙালি কাল অসমে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও যায় তবুও শংকরদেব-আজান ফকিরের আসন টলাবে বিহু নাচের ঢোল ফাঁসাবে এমন সাহসটা কার হবে ?
অন্যকে সম্মান আর সুরক্ষা দিলে নিজের সম্মান আর সুরক্ষাও   বাড়বে বই কমবে নাএরকম ভালো ভালো কথা কি হিন্দুদের কোনো ধর্ম গ্রন্থে সত্যি লেখেনি ? শঙ্কর-মাধবের বৈষ্ণব ধর্মে কি তেমন কোনো কথা নেই ? আমার বিশ্বাস হয় না । আর যদি বা আছে তবে সে শাস্ত্রবাক্যে কোনো হিন্দুর বিশ্বাস নেই কেন ? এইতো লাখ টাকার প্রশ্ন ! উত্তরটা কে দেবে ? কখন দেবে ?
--
লিখে শেষ ঃ ০২-০৫-০৯ রাত বারোটা ত্রিশ । পাঠাবো  জনকণ্ঠে  
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Google+ Badge

^ Back to Top--'উপরে ফিরে আসুন'