আমার চেতনার রঙে রাঙানো এই খেলা ঘরে:

~0~0~! আপনাকে স্বাগতম !~0~0~

*******************************************************************************************************

Wednesday, 23 February 2011

শ্রী চরণেষু মা



                                                   
                                                                                 মূল অসমিয়াঃ ঋষিরাজ শর্মা

মা, তোমাকে একখানা চিঠি লিখব বলে ভেবেছিলাম।
সেই যে যে কবে তোমার কলজে ছিঁড়ে খোকার মাথায় হাত বুলিয়ে বিদায় দিয়েছিলে
ঝরে যেতে দেবে না বলেই তো চোখের জলগুলোকে যত্ন করে তুলে রাখলে
কি বিশাল তোমার হৃদয়ের প্রতিটি ঘর
যেখানে তুমি সঞ্চিত রেখেছো সময়গুলো
সেই সময়গুলোকেই একত্র করে লেখার কথা ছিল একদিন
তোমার বিশালতাকে কবে আমি পারব চিনে নিতে?
মা, আমি পেয়েছি বন্ধুত্বের স্বাদ, দেখেছি স্নেহের প্রকাশ
আমি দেখেছি নদী পার করে আসা প্রতিটি লোকের গুপ্ত অহংকার
আর দেখেছি আত্মপ্রতিষ্ঠার দৌড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলা প্রতিটি মানুষের নীরব শোক
এদেরেই দেখাতে চেয়েছিলাম তোমাকেও
কিন্তু কেউ একজন আমাকে একদিন বললে,
আজকাল বুঝি হৃদয়ের বার্তা বয়ে বেড়ানো বন্ধ করেছে চিঠি
মা, তুমিতো অন্তত তোমার খোকার মনের কথাগুলো বুঝে পাবে
আমি এখনও সেদিনের খোকা হয়েই আছি তোমার জন্যে
মা, দিনগুলো পাল্টে গেছে
হয়তো তুমি যে সময়গুলোকে তুলে রেখেছিলে সেগুলো আজ ইতিহাস
পাঁচ বছরে কত নদী তাদের স্রোত বদল করেছে তুমিতো রাখোনি তার হিসেব
পাঁচ বছরে শ্মশানে ফুটেছে ফুল, বেড়েছে দিন, বেড়েছে রাত
নাবলা কথাগুলো বলে বলেই কে যে কোথায় কতটা বেড়ে গেল
তুমিতো তার খবর রাখোনি
কতটা রেখেছি কাছে, কতটা দিয়েছি
সবই আজ অতীত হয়েছে মা
তোমাকে লিখতে আমার কষ্ট হচ্ছে
এই দূরদেশেও অনুভব করছি জাতির পতন আর ব্যর্থ রণহুংকার
মা, জীবনের সমস্ত দরজা বন্ধ হবার পর
আমি ছুটছি ভোগবাদের পেছনে পেছন
প্রতি পদক্ষেপে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে আমার সত্ত্বা
স্বপ্নগুলো বড় ভয়ানক মা
শুধুমাত্র বেঁচে থাকবার তাড়নাতে চোখ থাকতেও অন্ধ, আমি আজ কান থাকতেও কালা
বিপন্ন পথ ধরে বহুদূর এগুবার পর দিনগুলোর হাত ধরে এগুতে শিখেছি
আর একদিন হাত ধরে আলোর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিলে এক সুজন
দেখলাম আজও ভোরের আলোর সেই একই কমলালেবুর মতো রঙ
শাদা শিশিরের আর্দ্রতা আর বাতাসে ভেসে আসা মন্ত্রধ্বনি
বিশ্বাস করবে কি মা, সবাই যেন আজো জেগে আছে
অন্তর দিয়ে বয়ে গেছে সহস্র সমুদ্রের ঢল
আমি মুগ্ধ মা, তোমার সময়গুলো যত্ন করে ধরে রাখা আছে আজও
তুমি তুলে রাখা সময়গুলোকে নতুন সাজে নতুন করে গড়ে পিটে সাজাব বলে ভেবেছি
তুমি আশীর্বাদ দিয়ে যেও মা, তোমার খোকা এখন ঘুরে এসছে
কোনো কিছু পাল্টায়নি এখনো, তুমি শেখাবার মতোই

আমি এখনো জন্মেই ভারতীয়, হৃদয়ে নিখাদ অসমীয়া...।।

মূল অসমিয়া রূপ
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

"
মা"লৈ এখন চিঠি
(আন্তৰাষ্ট্ৰীয় মাতৃভাষা দিৱসত মোৰ অন্তৰৰ বতৰা )
মা তোমালৈ এখন চিঠি লিখিম বুলি ভাবিছিলোঁ
সেই যে তাহানিতে বুকুৰ বাবাৰ শিৰত হাত ফুৰাই বিদায় দিছিলা
নোটোকো বুলিয়েইটো চকুপানীবোৰ সযতনে সাঁচি থ’লা
কিমান বিশাল তোমাৰ হৃদয়ৰ প্ৰতিটো কোঠালী
য’ত তুমি সাঁচি ৰাখিছা সময়বোৰ
সেই সময়বোৰকেই একলগ কৰি লিখাৰ কথা আছিল এদিন
তোমাৰ বিশালতাক কেতিয়া চিনি পাম ম‍ই?মা ম‍ই দেখিছোঁ বন্ধুত্বৰ সোৱাদ, মৰমৰ প্ৰকাশ
ম‍ই দেখিছোঁ নদী পাৰ হৈ অহা প্ৰতিজন লোকৰে গুপুত অহংকাৰ
আৰু দেখিছোঁ আত্মপ্ৰতিষ্ঠাৰ দৌৰত নিজকে হেৰুৱাব খোজা প্ৰতিজনৰে নীৰৱ শোক
এই দেখি থকা বোৰকে তোমাকো দেখুৱাবলৈ খুজিছিলোঁ
পিছে কোনোবাই এদিন ক’লে, চিঠিয়ে হেনো হৃদয়ৰ বতৰা কঢ়িওৱা বন্ধ কৰিছে আজিকালি
মা, তুমিতো তোমাৰ বাবাৰ অন্তৰৰ কথাবোৰ বুজি পাবা অন্তত
ম‍ই এতিয়াও তাহানিৰ বাবা হৈয়েই আছোঁ তোমাৰ বাবে
মা সময়বোৰ বদলিল, হয়তো তুমি সাঁচি থোৱা সময়বোৰ আজিৰ বাবে ইতিহাস
পাঁচ বছৰত কত নদীয়ে সোঁত সলালে তাৰ হিচাপ তুমিতো ৰখা নাই
পাঁচ বছৰত মৰিশালিত ফুল গজিল, দিন বাঢ়িল, ৰাতি বাঢ়িল
নোকোৱা কথাবোৰ কৈ কৈয়েই কোনে কিমান কাঢ়িলে
তাৰ খবৰ তুমিতো ৰখা নাই
কিমান ৰাখিলোঁ, কিমান দিলোঁ, সকলোবোৰ আজি অতীত মা
তোমালৈ লিখিবলৈ দুখ লাগিছে, দূৰণীতো অনুভৱ কৰিছোঁ জাতিৰ পতন আৰু ব্যৰ্থ ৰণহুংকাৰ|মা, জীৱনৰ সকলো দ্বাৰ বন্ধ হোৱাৰ পিছত
ম‍ইও দৌৰিছোঁ ভোগবাদীৰ ভাৱনাত
পদে পদে বিশৃংখল হৈ পৰিছে মোৰ সত্ত্বা, স্বপ্নবোৰ বৰ ভয়ানক মা
কেৱল জীয়াই থকাৰ তাড়নাতে চকু থাকিও কণা, কাণ থাকিও কলা আজি ম‍ই
বিপন্ন পথেৰে বহুখিনি আগবঢ়াৰ পিছত দিনবোৰৰ লগত মিলিবলৈ শিকিলোঁ
আৰু এদিন হাতত ধৰি পোহৰৰ স’তে চিনাকী কৰাই দিলে এজনে
দেখিলোঁ আজিও পুৱাৰ বেলিৰ সেই একেই সুমথিৰা ৰং
শুকুলা কুঁৱলীবোৰৰ আৰ্দ্ৰতা আৰু বতাহত ভাঁহি অহা মন্ত্ৰধ্বনি
বিশ্বাস কৰিবানে মা, সকলোবোৰ যেন আজিও সাৰে আছে
অন্তৰেৰে বৈ গৈছে সহস্ৰ সমুদ্ৰৰ ঢল
ম‍ই মুগ্ধ মা, তোমাৰ সময়বোৰ সযতেনে আছে আজিও
তুমি সাঁচি ৰখা সময়বোৰকে ন সাজত নতুনকৈ গঢ়ি পিতি সজাম বুলি ভাবিছোঁ
তুমি আশীৰ্বাদ দি যাবা মা, তোমাৰ বাবা এতিয়া ঘূৰি আহিছে
কোনো কথাই সলনি হোৱা নাই এতিয়াও, তুমি শিকোৱাৰ দৰেই

ম‍ই আজিও জন্মৰে ভাৰতীয়, হৃদয়ৰে অসমীয়া..|| 

4 comments:

পল্লৱপ্রাণ গোস্বামী said...

মূল কবিতাৰ দৰেই অনূদিত কবিতাটো ভাল লাগিল। ধন্যবাদ।

সুশান্ত কর said...

ধন্যবাদ পল্লবপ্রাণ। এনেকৈয়ে আহি থাকিব ইয়াতে।

HRISHIRAJ SHARMA said...

thank u for giving this honour to me..!!

সুশান্ত কর said...

It was just my pleasure Hrishiraj. Keep writing such wonderful poems.