আমার চেতনার রঙে রাঙানো এই খেলা ঘরে:

~0~0~! আপনাকে স্বাগতম !~0~0~

*******************************************************************************************************

Saturday, 3 March 2018

অভ্র ব্যবহার করে ফটোশপে বাংলা লিখুন

ছবি ১
টোশপে বাংলা লেখা একটা সমস্যা। সরাসরি লেখা যায় না। অনেকেই লিপঅপিস আদিতে বাংলা লিখে কপি পেষ্ট করেন। বা ডিটিপি কী বোর্ড ব্যবহার করে কাজ চালান। অভ্র কী বোর্ড ব্যবহার করে সহজেই আপনি লিখতে পারেন। উপায়টি এখানে বলে দিচ্ছি। আপনি যেভাবে ফটোশপে লেখেন, সেভাবেই লিখতে পারেন। শুধু অভ্র কী বোর্ডের ব্যবস্থাপনাতে (সেটিংস) সামান্য পরিবর্তন আনতে হবে যতক্ষণ আপনি ফটোশপে কাজ করছেন।
       আপনাকে যেটি করতে হবে, অভ্র কী বোর্ডের বারে গিয়ে সেটিংস দেখতে হবে। সেখানে দেখুন লেখা আছে output as ansi । এই ছবি ২-র মতো।  ক্লিক করুন।  একটি নতুন জানালা খুলবে। জিজ্ঞেস করবে আপনি আনসি ব্যবহার করতে চাইছেন কি না।
ছবি ২

আপনি ছবি ৩-এ দেখাবার মতো করে use ansi anyway-তে ক্লিক করে বেরিয়ে আসুন।
ছবি ৩
এবারে ফটোশপ গিয়ে কালপুরুষ আনসি এবং সিয়াম রুপালি আনসি খুঁজে বের করুন। ছবি ৪এ যেভাবে দেখাচ্ছে। 
ছবি ৪

     যে কোনো একটি ব্যবহার করুন। এবং লিখতে থাকুন। আপনার কাছ না থাকলে এখান থেকে ফন্ট দুটি নামিয়ে আনুন। আপনি বাংলাপেডিয়া ফণ্টও নামাতে পারেন। বিজয়ের সব না হলেও অনেক ফন্টই কাজ করবে। নামিয়ে নিন।  একই পদ্ধতিতে আপনি পেজমেকারেও বাংলা লিখতে পারেন। ছাপাখানাতে এর পরে অভ্রকে জনপ্রিয় করে তুলতেই পারেন। ছবি ৫ দেখুন
ছবি ৫
      তবে আপনি যদি ছবি সম্পাদনা এবং তৈরির জন্যে মুক্ত উৎসের জিম্প বা জি আই এম পি ব্যবহার করেন, তবে সেসব কোনো ঝামেলাই নেই। বেনসেন, আদর্শলিপি ইত্যাদি অভ্র কী বোর্ডের যেকোনো ফণ্ট ব্যবহার করেই দিব্বিই ইচ্ছে খুশি মতো বাংলা লিখতে পারেন। জিম্প ফটোশপেরই মতো, কিন্তু খানিক সহজও। ছবি ৬ দেখুন
ছবি ৬



আপনি এই ভিডিওটিও দরকারে দেখে নিতে পারেন...

Wednesday, 7 February 2018

গুহাচিত্র বনাম ফেসবুক স্টেটাস


(ছবি ঋণঃ আনন্দবাজার পত্রিকা)
কটা কাল ছিল মানুষ গুহাতে ছবি এঁকে নিজের 'স্টেটাস' জানাতেন। সেগুলো স্থানে ভ্রমণ করতে পারত না। কিন্তু কালে ভ্রমণ করে একাল অব্দি এসে পৌঁছেছে। সভ্যতার ইতিহাস পাঠ তাই এখনো সহজ হয়ে আছে। আজকাল লোকে ফেসবুকে, টুইটারে স্টেটাস লেখেন। সেগুলো দ্রুত স্থান ভ্রমণ করে। তারপরে তলিয়ে যায়। হোয়াটস এপে হলে যাকে পাঠানো হলো, তিনি পর মুহূর্তে 'ডিলিট' করে দেন। এই হচ্ছে, এর সর্বোচ্চ সম্মান। তার মানে গুহাচিত্রের বিপরীতে এই সব কালভ্রমণ করতে একেবারেই অক্ষম। চিরকালীন' বলে শব্দটি এখানে একেবারেই বেমানান।
          সম্প্রতি দেখলাম, কেউ  কেউ স্টেটাস দিয়ে জানাচ্ছেন দেখলাম ফেসবুকে আর ভালো লাগছে না। যারা জানাচ্ছেন , তারা যে ফেসবুকের চমকে ধরা কে সরা জ্ঞান করছিলেন , তাও দেখছিলাম। ভালো যদি নাই লেগে থাকেসে আমাদের কাছে সুসংবাদ। আন্তর্জালে আমার উপস্থিতি এই ফেব্রুয়ারিতে এক দশক পার করেছে। আন্তর্জালে বাংলা লেখালেখি ভারতেই যারা শুরু করেছিলেনখুব অতিশয়োক্তি হবে নাতাদের প্রথম দিককার মানুষ আমি। তখন পূর্বোত্তরে কেউ লিখতেনই না। গোটা ভারতে যে কজন হাতগুণা লিখতেনআমরা বলতে গেলে পরস্পরকে চিনতাম। ফেসবুক থাকলেও সেরকম জনপ্রিয় ছিল না। তখন ব্লগ ছিলছিল ই-মেল গ্রুপঅর্কুট , ইত্যাদি। অসমিয়াতেও কেউ লিখতেন না। ২০১০এ ফেসবুক পোষ্ট করলেই ই-মেলে চলে যাচ্ছেদেখে ব্যবহারকারী হুহু করে বাড়তে শুরু করে। আমরা সেই সময় অসমিয়ার প্রচারে প্রসারেও কাজ করি যেমনপূর্বোত্তরে বাংলা লেখালেখি নিয়েও কাজ শুরু করি। রোমানে বাংলা--অসমিয়া লিখিয়েদের থেকে কত গালি অপমান যে সইতে হয়েছে বোঝাই কী করে! এক বন্ধু প্রায় বাজিই ধরেছিলেন আন্তর্জালে বুঝি বাংলা লেখাই যায় না। তাঁকে যখন শিলচরে গিয়ে প্রায় জোরে ধরেই বাংলা লেখা দেখাইশেখাই---ফিরতে না ফিরতে দেখি তিনি ফেসবুকে গ্রুপ খুলে বসেছেনবাংলাতে। ফেসবুকের এতোই চমক। অথচতিনি কবি। আশা করেছিলামনিজের একখানা ব্লগ করবেন। যেভাবে নিজের খাতাতে স্থায়ীভাবে লিখে রাখেনসেভাবেই ব্লগে লিখে রাখবেন। যেভাবে নিজের সম্পাদিত কাগজ করবেনসেভাবেই ব্লগ সম্পাদনা করবেন। কিন্তু সেগুলোতে তো এতো এতো গরম গরম লাইকআর বাহবা মেলে না। ফলে সমস্যা হলো। তারা লাইকের মোহে বুঁদ রইলেন। এবং রাতারাতি কেউকেটা বিখ্যাত হয়ে গেলেন (বলে ভেবে নিলেন)। গোঁদের উপরে বিষফোড়ার মতো এলো স্মার্টফোন। বাংলা লেখালেখি সে আরো সহজ করে তুলল। এখন আর বলতে হলো না। বা হয় না।ভালোই তো হলোতাই নাভাবের আদান প্রদান খুব দ্রুত হতে শুরু করল। ভাবের তুফান ছুটল। সেই তুফানে বহু বাড়ি ঘর সংসার উড়েও গেল। তুফান সব সময়েই ভালো। তার মানে বর্ষা এলো। এবারে চাষাবাদ হবেফসল ফলবে। কিন্তু তুফানের আগে পরে বানও ডাকে। বানের তোড়ে সব ভেসে মিশে একাকারও হয়ে যায়। আর তৈরি করে দলা দলা আবর্জনা। সেই সব আবর্জনা দেখে যদি ঘেন্নাতে কেউ কেউ চলেই যানবাংলা ভাষার পক্ষে তবে সেই সব সুসংবাদ। কিন্তু আমরা যাই না কেনকারণপালাবার মধ্যে সুখ নেই। আবর্জনার পুণর্ব্যবস্থাপনার  মধ্যে রয়েছে যেটুকু। খুব কম লোকে তাতে হাত দিচ্ছেন। সেই কম লোকেই আগামীর দিশা দেখাবেন বলে আমার বিশ্বাস। এই যেমন একটিই মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়একটিই মাত্র কলেজ কলকাতার সরসুনা কলেজ আন্তর্জালের বিশাল জগতের রহস্য নিয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছেনআলো দেখাচ্ছেন--- ভাবা যায় কি সেই সব কাজের একটি অংশ হলো রবীন্দ্রনাথের নানা পাঠের আন্তর্জাল উপস্থিতি। ফেসবুকের মহাপুরুষ--নারীরা সেসব সম্ভবত দেখেনও নিকল্পনাও করতে পারেন না। বাংলা ওয়েবজিনওয়েবপত্রিকাক্রমেই বাড়ছে। এমন কি পূর্বোত্তরেও। ঈশানের পুঞ্জমেঘকাঠের নৌকার বয়সতো হচ্ছেই। (জনপ্রিয় নয় যদিওঅনেকে ঘেন্নাও করেন। সেসব ভালো)। বেশ কিছু ইউনিকোড পত্রিকা এখন আসাম ত্রিপুরার থেকে বেরোচ্ছে। রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ, বিশ্বরাজ ভট্টাচার্যে মতো তরুণ কবিরা এখন ব্লগজিনে মজেছেন। একা একাই আলোর মশাল হাতে তুলে নিয়েছেন। খুব কম। তাতেই আশা জাগছে। রাতের আকাশের আঁধার কণাদের সংখ্যাই তো বেশি। অগুনতি তারারাও রয়েছে বটে। দেখা গেলে বোঝা যায় আকাশ পরিষ্কার। সুতরাং তাদেরও ফেলা যাবে না। কিন্তু আলো করে তো একা চাঁদ। আমাদের এই নবীন চাঁদদের অভিনন্দন... তাঁদের পক্ষ বদল ঘটুক। রাহু-কেতুর ভোগে না পড়লেই হলো। আমাদের জন্যে সেই সুসংবাদ। ফেসবুকে অনেকেই প্রশংসা প্রশস্তি করেনআসলে নিজেরা বিনিময়ে তোল্লা পাবেন বলে। কিন্তু এই তরুণেরা জানেনআমাদের প্রশস্তি নির্ভেজাল। কেবলই ভাষা এবং ভাবের সমবেত স্বার্থে। 
          আজ সকালে প্রবীণ কথাশিল্পী মিথিলেশ ভট্টাচার্য আমাকে ফোন করেছিলেন। আন্তর্জালের 'আবর্জনানিয়ে নিজের উষ্মা জানাতে। আমিও সমবেদনা জানালাম। কিন্তু সঙ্গে করে মনে হলোআমাদের এই সব শুক্লপক্ষ সংবাদও এই প্রবীণদের কাছে পৌঁছানো চাই। তাঁরা আন্তর্জালে আসবেন না। তাঁদের সসম্মানে অন্যরকম করে নিয়ে আসা চাই। আমাদের দৈনিক কাগজের আত্মপ্রতিষ্ঠাকামী 'অসভ্যসম্পাদক যখন সাহিত্যের পাতাতে রাশিফল ছেপে যাচ্ছেআর ভগীরথ মিশ্রআবুল বাসারঅমর মিত্রদের 'জয়পতাকাআমাদের দেখিয়ে বিদ্রূপ করে যাচ্ছেতখন আমাদের অনুপস্থিত পূর্বসূরিদের সসম্মান উপস্থিতি সম্ভব করাটা হোক আমাদের পরবর্তী রণকৌশল। সেই কাজ একা কারো দ্বারা সম্ভব নয়। সমবেত 'ভাবান্দোলনে'র দ্বারা সেসব সম্ভব। আমাদের 'রিফিউজি লতাজীবনের অন্ত পড়ুক। তৃণ গজাক , তার ফাঁকে ফাঁকে মহীরুহ অঙ্কুর মেলুক।



Saturday, 20 January 2018

এন আর সি, অসমিয়া,বাঙালি এবং কিছু কথা



মূল অসমিয়া: জিতেন বেজবরুয়া
বাংলা অনুবাদ: সুশান্ত কর

জিতেন বেজবরুয়ার ব্লগ
(জিতেন বেজবরুয়া তরুণ অসমিয়া বামপন্থী লেখক। লেখাটি অসমিয়াতে অসমিয়া পাঠকের জন্যেই লিখেছেন। এন আর সি নিয়ে মমতা ব্যানার্জির সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং বরাক উপত্যকাতে কিছু ব্যক্তি সংগঠনের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা দিয়ে তিনি শুরু করেছেন, এবং  বাঙালির সমস্যা বুঝে নেবার চেষ্টা করে বাঙালিদের কিছু গণতান্ত্রিক পরামর্শও দিচ্ছেন। কিন্তু আসলে তার লক্ষ অসমিয়া গণতান্ত্রিক মন, যাকে বাঙালির সমস্যার দিকে টানবার চেষ্টা করেছেন। দুই সম্প্রদায়ের গণতান্ত্রিক মানুষের মধ্যে একটি সংলাপ গড়ে উঠবার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন। তিনি বাঙালিকে অসমিয়া হয়ে যাবেন, এমন আশা করবার প্রয়াসের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “বিদেশীর নামে বাংলা মূলের বা বাঙালি মুলমানের মতো করে বাঙালি  হিন্দুদের উপরেও হয়রানি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অসমীয়া জাতীয়তাবাদী দল-সংগঠনগুলোরও ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।  এর বিরুদ্ধে বাঙালি সমাজের থেকে  গণ আন্দোলন গড়ে  তোলা দকার। কিন্তু সেই গণআন্দোলন প্রক্রিয়াতে মমতা ব্যানার্জির অতিপ্রতিক্রিয়ার সমর্থন আসামেও জুটতে পারে, এহেনসম্ভাবনার কথাটি লেখাতে পরিসরের জন্যেই সম্ভবত এড়িয়ে গেছেন। নইলে আমরা নারিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে অসমিয়া গণতান্ত্রিক সমাজেরও অতি প্রতিক্রিয়া দেখেছি। দিল্লির যুব হুঙ্কার সমাবেশে অখিল গগৈর মতো ‘ফ্যাসীবাদ বিরোধী’ ব্যক্তিরও দুই কোটী হিন্দু বাঙালিকে নিয়ে ভোট বেঙ্ক গড়ে উঠবার অতিশয়োক্তিও শুনেছি। অথচ ডি-ভোটারের নামে যে লক্ষাধিক মানুষের উপরে যে অমানবিক ঘটনাগুলো ঘটে, যাদের নাম এন আর সি-তেও আসবার সম্ভাবনা নেই,  সেই নিয়ে তাঁর সেরকম হুঙ্কার শুনিনি। তবু লেখক বাঙালিদের ভেতরেও এবং অসমিয়া বাঙালিদের মধ্যেও আলোচনার দরকারটি মনে করেছেন।    তিনি লিখেছেন, ‘সংঘাতের বাস্তব  কাগুলো কী কী সেসব আলোচনা করা দরকার, খারাপ পাওয়া- ভালো পাবার কথাটি সরিয়ে রেখে’   আমাদের মনে হলো, কথাগুলো বাঙালি পাঠকের কাছেও পৌঁছুনো দরকার। নইলে সংলাপ শুরুই হবে না। তাই অনুবাদ করে নেয়া।--অনুবাদক )

গে
৩১ ডিসেম্ব, ২০১৭তে এন আ সির প্ৰথম খসড়া  প্ৰকাশ পাবার পরের উৎকণ্ঠা আর বিভ্রান্তিতে পূর্ণ পরিবেশে পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্ৰী মমতা ব্যানার্জি এই সম্পর্কে যে কথা গুলো বললেন এবং তার পরে যেসব ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াগুলো হচ্ছে সেসব পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। তিনি বললেন, অসমের এন আর সি প্রক্রিয়াটি হচ্ছে বাঙালিদের তাড়াবার এক চক্রান্ত মাত্র। টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে বলা উস্কানিমূলক বক্তব্য, যা অসমের সাম্প্রতিক পরিবেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। অতএব এইধরনের বক্তব্যের সরাসরি নিন্দা করা দরকার। পশ্চিম বাংলার  বৰ্তমান রাজনৈতিক প্ৰেক্ষাপটে বিজেপি বিরুদ্ধে নিজেরস্থান শক্তিশালী করবার জন্যেই যে মমতা বাঙালি সেন্টিমেণ্টের ব্যবস্থা নিয়েছেন, সেটুকু বুঝতে সমস্যা হয় না। এক কথাতে এ হচ্ছে  বাঙালি জাতীয়তাবাদকে নিয়ে তৃণমূল আ বিজেপির মধ্যে টানাটানি তথা প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু অসমের জ্বলন্ত  পরিস্থিতিতে এর অনেক  ভয়ংক সম্ভানা আছে বলেই যেন মনে হয়।
অসমীয়া প্রতিদিন
সে যাই হোক, মমতা ব্যানার্জির এই বক্তব্যকে কোনো বিক্ষিপ্ত-ব্যক্তিগত বক্তব্য বলে সরিয়ে রাখতে পারি নাসে ঘটনার পরে পরেই রাক উপত্যকাতে বিভিন্ন ব্যক্তি আৰু সংগঠ এন আর সির বিরুদ্ধে একই রকমের  অভিযোগ উত্থাপন করছেন  দেখা যাচ্ছেপ্রকাশিত  প্ৰথম খসড়াটিতে  যে অজস্ৰ সমস্যা এবং উল্টোপাল্টা ব্যাপার আছে সেই নিয়ে সামান্যও সন্দেহ নেই সেসব  আসলেধারিতও ছিলঅসম সরকার বহু টালবাহানা করে করে উচ্চতম ন্যায়ালয়ের প্ৰবল চাপেই শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে এই খসড়াটি প্ৰকাশ করতে এগিয়ে এসেছেফলে খসড়াটি স্বাভাবিভাবেই বহু দিক থেকেই আংশিক এবং  ত্রুটিপূৰ্ণ। এবং এর ভিত্তিতে এই মুহূৰ্তটিতে মূল সমস্যাটি সম্পর্কে, অৰ্থাৎ বিদেশী প্ৰশ্নটি  সম্পর্কে  কোনোভাবেই  শেষ সিদ্ধান্ত করতে পারি না, এমনকি যুক্তিসংগত অনুমান করতেও অসুবিধেফলে আমার মনে হয় এন আর সির খসড়াটির সমস্যাগুলোর অধিকাংশই মূলত লাতান্ত্ৰিক এবং প্রায়োগিক।  ধরুন, কারোরিবারে  এনের  নাম এসেছে, কিন্তু অন্য  পাঁচজনের আসে নি, কারো নাম-উপাধি ভুলকরে এসেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। উজান  অসমের  মানুষের  নাম বেশি করে অন্তৰ্ভুক্ত হয়েছে, রাকের হয় নি এর পেছনেও নিশ্চয় এরকম  কারণই নিহিত রয়েছে। আমরা অন্তত: এই অবধি এন আ সি প্ৰক্ৰিয়ার মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্ৰমূলক পরিকল্পনা  লুকিয়ে থাকবার কোনো লক্ষণ দেখতে পাই নি। ফলে বিভিন্ন বাঙালি  ব্যক্তি-সংগঠলাতান্ত্ৰিক-প্রায়োগিক ঘটনা একটিকে  ভুল করে  রাজনৈতিক ড়যন্ত্রের রূপে উপস্থাপন করতে চাইছেনএক্ষেত্রে  বিশেষ করে বাঙালি বিদ্বৎসমাজের  একাংশ অগ্ৰণী ব্যক্তি ভূমিকা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং হতাশাজনক। এন আর সি প্ৰক্ৰিয়াটির  বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে , তা বৃহত্তর গ্ৰহণযোগ্যতাকে আঘাত করে বাঙালি সমাজের কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। এন আর সি সম্পূৰ্ণ বেরিয়ে গেলে বিদেশী সমস্যাটির কতটা সমাধান হবে  সে পরে কথা : কিন্তু তা ফলে বিদেশী সমস্যা সমীকটি যে গুণগতভাবে অনেকটাই বদলে যাবে , তার সমাধানের জন্যে নতুন দিক উন্মোচিত হবে সেটি নিশ্চিত। অৰ্থাৎ অসমের বিদেশী সমস্যাটির ঐতিহাসিক যাত্ৰাপথে এন আর সি কটি বড়  পদক্ষেপ। ফলে  বিদেশী সমস্যাটির ঐতিহাসিকভাবেকটি পদক্ষেপ এগিয়ে যাবার জন্যে এই প্ৰক্ৰিয়াটি ভালোয় ভালোয় হয়ে যাওয়াটা দরকারি, এবং সেটি সবারই কাম্য হওয়া উচিত। একে  প্ৰতিহত করলে বা ব্যাঘাত জন্মালে সমস্যাটি বরং বেশি জটিল রূনিয়ে ঘূর্ণিতে ঘুরতে থাকবে এবং তার ফলে অন্যদের সঙ্গে বাঙালি সমাজের জন্যেও বেশি সমস্যাসৃষ্টি করবেযদি এন আর সির  প্ৰক্ৰিয়াতে  কোথাও বা  বিশেষ ঘটনা ঘটেছে যেখানে বাঙালি মানুষের বিরুদ্ধে সরকারি কোনো কৰ্মচারী ষড়যন্ত্ৰ করছে বা অসমীয়া জাতীয়তাবাদী সগঠনের মানুষ প্ৰক্ৰিয়াটিতে হস্তক্ষেপ করছে (কেউ কেউ এমন অভিযোগ করেছেন), তবে সেই  ঘটনাগুলো ফাঁস করা হোক এবং আইনি প্ৰক্ৰিয়া আওতাতে আনা হোক অন্যদিকে, প্ৰথম খসড়াতে যে সব অসম্পূৰ্ণতা এবং ত্রুটি দেখতে পাচ্ছেন সেগুলোর প্রতি সরকারের  দৃষ্টি আকর্ষণ করা হোক। লক্ষণীয় যে বৃহত্তর ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক ভূমিকা যাই থাক, সম্প্রতি এন আর সি প্রসঙ্গে অসমিয়া জাতীয়তাবাদী এবং জনগোষ্ঠীগত দল-সংগঠনগুলোর মনোভাব দেখা যাচ্ছে সহযোগিতামূলকই। আসলে এর  অন্যথা হওয়া সম্ভবই নয়, কেননা এই দল-সংগঠনগুলো নিজেদের কথাতেই বাঁধা পড়ে গেছে। ফলে  বাঙালী বিদ্বৎ সমাজ তথা দল-সংগঠনগুলোও যদি এই প্ৰক্ৰিয়াতে আশানুরূ রনে সহযোগিতা করেন তবে এন আর সি সুসম্পন্ন হয়ে যেতে সুবিধে হবে। সুখের বিষয় যে বাঙালি সমাজের অনেক ব্যক্তি তথা সংগঠন এর জন্যে এগিয়েও এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যেরও বিরোধিতা করা  হয়েছে তাদের তরফে।
 অসমিয়া প্রতিদিনে শেষাংশ
অসমিয়া মানুষের মধ্যে নিজেদের পরিচয় সংকট নিয়ে যে ভীতি রয়েছে তার পেছনে বেশ কিছু আর্থ-সামাজিক কারণ রয়েছে, বিদেশী প্রব্রজন সমস্যা তার মধ্যে একটি। সেসব ইতিমধ্যে বিস্তৃত আলোচিত হয়েছে। অসমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি অন্তহীন আধিপত্যের পেছনেও প্রধানত  এই পরিচয় সংকই লুকিয়ে রয়েছে। ফলে অসমে অন্যান্য যে কোনধরনের  রাজনীতির জন্যে ময়দান মুক্ত করতে হলে, প্ৰগতিশীল রাজনীতি বীজ বপন করতে হলে তাগেই এই পরিচয় সংকটের প্ৰশ্নটিরকটি মীমাংসা করে নেয়াটা দরকারিসেই দিক থেকে  এন আ সিরকটি ভূমিকা আছে। নিজেকে  অসমিয়া বলেরিচয় দেয়া-নাদেয়া অন্যান্য  খিলঞ্জিয়া জনগোষ্ঠীর জন্যেও বিদেশী প্ৰব্ৰজ জনবিন্যাসগত সমস্যার থেকে শুরু করে অনেক আৰ্থ-সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করেছেফলে অসমিয়া মানুষকে, অসমের ভূমিপুত্র জনগোষ্ঠীদের এন আর সি লাগবেইএর থেকে বাঙালিরাও নিশ্চয় নিশ্চয় বাদ পড়েন নাসে যাই হোক, এন আর সি  প্ৰশ্নটির আছিলা নিয়ে বাঙালি  সমাজের যেটুকুন ক্ষোভ এবং অভিযোগ উঠে আসছে তাও আসলে  তাৎক্ষণিক নয় সে দীৰ্ঘদিনের  পুঞ্জীভূত বিষয়বিদেশীর নামে বহু বাঙালি মানুষ হয়রানির মুখে পড়ে আসছেন সে সত্য। এখানে স্পষ্ট হয়ে যাওয়া ভালো যে এখন বাঙালিকে তাড়াবে বলে যে হুলস্থূল হচ্ছে, তা হচ্ছে মূলত  হিন্দু বাঙালিদের নিয়েই হচ্ছে, বাংলা মূলের মুলমানদের নিয়ে নয়সে যাই হোক, বিদেশীর নামে বাংলা মূলের বা বাঙালি মুলমানের মতো করে বাঙালি  হিন্দুদের উপরেও হয়রানি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে অসমীয়া জাতীয়তাবাদী দল-সংগঠনগুলোরও ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।  এর বিরুদ্ধে বাঙালি সমাজের থেকে  গণ আন্দোলন গড়ে  তোলা দকা অসমিয়া গণতান্ত্ৰিক-প্ৰগতিশীল শক্তিগুলোকেও এতে  সহযোগ করতে হবেকিন্তু সম্প্ৰতি  বৃহৎ বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে ঢেউ দেখা যাচ্ছে তাতে  সাধাণ বাঙালি জনতার এধরণের এবং অন্যান্য আৰ্থ-সামাজিক সমস্যাড় একটা গুরুত্ব থাকতে দেখা যায় না। এই বাঙালি জাতীয়তাবাদ চালিত হচ্ছে মূলত বৃহৎ বাঙালি  জাতি সাংস্কৃতিক অভিমানকে কেন্দ্র করে বাঙালিরা হচ্ছেন ক বড়  জাতি, অসমিয়ার মতো ছোট নয় যাদের নিজেদেরকটি দেশ আছে, কটি প্রদেশ আছে,  অতি সমৃদ্ধ ভাষা-সংস্কৃতি আছে। সেরকম অবস্থাতে তাদের অসম রাজ্যে অসমিয়া জাতির কাছে একরকম অনুগত হয়ে থাকতে হচ্ছে। অসমের রাজনীতিতে হো, প্ৰশাসনে হো, গণমাধ্যমে হো, গণরিরের উপরেই হোঅসমিয়াদের  আধিপত্য আছে, বাঙালির নেইযেসব  এলাকাতে বাঙালিরা  একত্রিত হয়েকটি সমাজ রূপে টিকে আছেন, সেখানে তাদের নিজের ভাষা-সংস্কৃতি নিৰ্বিঘ্নে টিকিয়ে রাখতে পারছেনকিন্তু যেসব এলাকাতে তাদের অসমিয়া বা অন্য গোষ্ঠী মানুষের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে হচ্ছে সেই এলাকাগুলোতে সেভাবে টিকিয়ে রাখতে পারেন নি। সেসব কারণে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ক্ষোভ এবং অভিযোগ থাকাটি স্বাভাবিক। অসমিয়া জাতীয়তাবাদী দল-সংগঠনগুলোর বিদ্বেষমূলক মনোভাব তথা কা-কর্ম এক্ষেত্রে  ইন্ধন যুগিয়ে আসছেএটি এক অনস্বীকাৰ্য বাস্ত সত্য। কিন্তু প্ৰশ্ন হল এখান থেকে তারা যাবেন কই? টি একটি জটিল প্ৰশ্ন যা উত্ত সহজে পাওয়া কঠিনকিন্তু উত্তর সন্ধানটি অধিক জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে হয়।
অসমিয়া জাতীয়তাবাদের  উন্মেষ কাল থেকেই অসমিয়া-বাঙালি সংঘাত নানা রূপে  চলে আসছিল, বিশ শতকের শেষের দিকে সেটি অধিক তিক্ত হয়ে পড়েছিলসাম্প্রতিক সময়ে এই সংঘাত হয়তো কিছু সুপ্ত রূপে ছিলকিন্তু এন আর সি-কে নিয়ে  মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের পরে যা সব ক্ৰিয়া-প্ৰতিক্ৰিয়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে যেন অসমিয়া-বাঙালি সংঘাত আবার নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে,জঙ্গি রূনিতে শুরু করেছেসেটি  যদি বাস্তবে  ঘটে তবে সে কারো জন্যেই  মঙ্গলজনক হবে নাফলে অসমিয়া-বাঙালি উভয় জাতিরই গণতান্ত্ৰিক-প্ৰগতিশীল শক্তিগুলোর দরকার সময় থাকতেই সতৰ্ক হয়েকটি  সমাধানের জন্যে চেষ্টা করা ভালোএকটি কথা ঠিক যে অসমিয়া-বাঙালি মধ্যে  দীৰ্ঘদিনের  সমন্বয়ের একটি  ঐতিহ্যও রয়েছে সেটি বড় মূল্যবান জিনিসকিন্তু সেসবের স্মরণ মাত্র এই সংঘাতের  মোকাবেলা করতে আমাদের খুব একটা সাহায্যরতে পারবে বলে মনে হচ্ছে নাসংঘাতের বাস্তব  কাগুলো কী কী সেসব আলোচনা করা দরকার, খারাপ পাওয়া- ভালো পাবার কথাটি সরিয়ে রেখে সে যাই হোক,  অসমিয়া-বাঙালি সংঘাত নিনের জন্যে কিছু মানুষ পৃথক রাজ্য গঠনের পোষকতা করেনআমাদের মনে হয় নতুন নতুন রাজ্য গঠনের দাবিতে  উত্তাল  অসমের  প্ৰেক্ষাপটে  সেই উপায় বাস্তসন্মত এবং ফলপ্ৰসূ হবে নাবাঙালিপ্ৰধান এলাকাতে  অসমিয়া বা অন্যান্য গোষ্ঠীর মানুষের  বিরুদ্ধে নৃগোষ্ঠীয় পরিষ্করণের সম্ভানাও নাকচ করতে পারি না। তবে কী করে সংঘাত নিসন হবে  সেটি বিদ্বৎ সমাজের আলোচনার বিষয়কিন্তু কটি কথা ঠিক যে বৃহৎ বাঙালি জাতীয়তাবা অসমের বাঙালিকে রক্ষা তথা উদ্ধার করবে নাঅসমের বাঙালি সমাজকে অসমের মাটিতে নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করতে হবেসেটি কী রকম হবে সে তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই নির্ধারিত হতে হবে।  প্ৰতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো যে তাদের সাহায্য করবে না সেটি বাঙালি জনতা বুঝতে পারছেন। অন্যদিকে, অসমিয়া জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোর বাঙালিদের অসমিয়া করবার চেষ্টা না করাই ভালোতাদের নিজেদের মতো থাকতে দেওয়া দরকার। একপ্ৰকা উগ্ৰ জাতীয়তাবা আরেক প্ৰকা উগ্ৰ জাতীয়তাবাদের  জন্ম দেয়অসমিয়া উগ্ৰ জাতীয়তাবাদ এবং বাঙালি উগ্ৰ জাতীয়তাবাদ এই দুটিই সমা ভয়ঙ্কর এবং সমান গণবিরোধী। ফলে গণতান্ত্ৰিক-প্ৰগতিশীল শক্তিগুলোর এর  দুটিরই বিরোধিতা এবং  সমালোচনা করাকা
অন্যদিকে, এন আর সি-র মধ্যদিয়ে বাঙালি তাড়াতে চাওয়া হচ্ছে বলে যে হুলস্থূল হচ্ছে তার মধ্যে যে প্ৰকৃত সত্যটি লুকিয়ে পড়েছে সেটি হচ্ছে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্ৰশ্নটিএন আর সি প্ৰকৃতপক্ষে কে চাইছে না ? কে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে হিন্দু বিদেশীদের ডেকে আনতে চাইছে এবং  অসম চুক্তিকে নস্যাৎ করতে চাইছে? এর উত্তর সবাই জানেকিন্তু এন আর সিকে সমালোচনা করা বাঙালি বিদ্বৎ সমা এই আল প্ৰশ্নটি সম্পূৰ্ণ ড়িয়ে  চলছেন(অন্য সময়ে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্ৰতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী রকম সে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র কথা)  সমগ্ৰ ভাতবর্ষের সঙ্গে অসমেও এখন হিন্দু জাতীয়তাবাদী শক্তি আধিপত্য প্ৰতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেএরকম প্ৰেক্ষাপটে অসমিয়ারা  বাঙালির  বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্ৰ করছেন না বাঙালিরা অসমিয়ার বিরুদ্ধে করছেন, সেটি আসল  প্ৰশ্ন নয়। আল প্ৰশ্ন , হিন্দু জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলো কী  কছে এবং কাকে কার বিরুদ্ধে ব্যহার করছে? দেখা গেছে যে এন আর সি- বিরুদ্ধে বিষোদ্গার যে চিন্তা,যে  দলের মানুষই করে থাকুন না কেন আর তাদের নিজেদের ইচ্ছা যাই হোক এর  শেষ মুনাফা কিন্তু হিন্দু জাতীয়তাবাদীদেরই হবেকেননা, এন আর সি প্ৰক্ৰিয়াটির আদৰ্শগত বিরোধী তারাই আলোচ্য বিতরকের  ফলস্বরূপে বিতর্কের  কেন্দ্ৰবিন্দুটি অন্যান্য দল-সংগঠনের দিকে চলে গেল, আর চতু হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা  একেবারেই গোবেচারার মতো আড়ালে থেকে গেল। সংক্ষেপে লিখতে  গেলে  এন আর সি-কে কেন্দ্র করে সত্যি যদি কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে তবে সে হলো হিন্দু জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোর হিন্দু বিদেশীদের নাগরিকত্ব দেবার ষড়যন্ত্র।  হিন্দু জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলো একটি সমসত্ব এবং  অখণ্ড হিন্দু বাঙালিররিচিতি নিৰ্মাণ করতে চাইছে এবং নিজেকে তাদের ত্ৰাণকৰ্তা রূপে  প্ৰতিষ্ঠা করতে চাইছেকিন্তু এর আড়ালে  বাঙালি জনতার স্বার্থ লুকিয়ে নেই, লুকিয়ে আছে হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা। হিন্দু বাঙালিদের অসম থেকে তাড়াতে চাওয়া হচ্ছে বলে বৃহৎ বাঙালি জাতীয়তাবাদের  পোষকতা করছেন যে  বাঙালিরা তাঁরা জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে এই হিন্দু জাতীয়তাবাদী পরিকল্পনাকে হাওয়া দিচ্ছেন বলেই আমাদের মনে হচ্ছে। এই হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রকল্প যেমন অসমিয়া জনতার স্বার্থের রিপন্থী, একইরকম সে  বাঙালি মানুষেরও স্বার্থবিরোধীঅসমিয়া-বাঙালি সবারই উচিত তার বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়া।


Google+ Badge