আমার চেতনার রঙে রাঙানো এই খেলা ঘরে:

~0~0~! আপনাকে স্বাগতম !~0~0~

*******************************************************************************************************

Showing posts with label Islam. Show all posts
Showing posts with label Islam. Show all posts

Friday, 27 January 2012

আপাতত, বাঙালি ঐক্যের সমস্যাটা বলি আবার।

 ( এই লেখাটি  'বন্ধ হোক সব বঞ্চনা, আমরাও চাই উন্নত বরাক' নামের এক ফেসবুকে গ্রুপে আমাদের চারজনের আড্ডাতে করা আমার এক মন্তব্যের সম্পাদিত রূপ। আড্ডা হচ্ছিল আমার, Shekhar,Hilal এবং Shovon মধ্যেই)
                রাকের বন্ধুরা আছেন, এমন কোনো গ্রুপে এমন চিন্তা উদ্রেককারী আলোচনা খুব কম হয়। তাই এই আড্ডাটা আমার মাথাতে ঘুরছিল। দেখলাম, আমি কিছু কিছু বিষয় সত্যি আগে দেখিনি। যেমন Shekharদেব শুরুতেই বরাক আর ব্রহ্মপুত্রের বাস্তবতাকে মনে রেখেই ঐক্য সূত্র খোঁজতে গেছিলেন। এটা আগে আমার চোখে পড়েনি। তাঁর শেষ দিকের মন্তব্যের সূত্রে আবার পড়ে পেলাম। আমাদের এই আড্ডাতেই দেখা গেল যে Hilalভাষা ঐক্যের পক্ষে বলছিলেন, কিন্তু তাঁকেই আবার মুসলমান মর্যাদার পক্ষেই দাঁড়াতে হলো। আমাকে এবং Shekharবাবুকেতো বটেই। Shovonনিশ্চয়ই গভীরে না ভেবে আলটপকা মন্তব্য করে না। কিন্তু এটা বোঝা যায় যে মুসলমানদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা নিয়ে তাঁর অনুসন্ধান নেই। আমি আমার বক্তব্যের পক্ষে পরে নথি দিচ্ছি। আপাতত, বাঙালি ঐক্যের সমস্যাটা বলি আবার।                
             এই যে বৈচিত্রগুলো, সেগুলোর প্রতি যদি শ্রদ্ধা নিয়ে কৌতুহল বাড়ানো যায় এবং আমাদের সবার পুরোনো সমস্ত চিন্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে যাচাই করি, এবং অবশ্যি সেই লক্ষ্যে এক প্রবল আশাবাদ পোষণ করি তবে একটা সূত্র মিলতে পারে। আমি ভালো জানি না সেটি কী? কিন্তু মিলতে পারে। বৈচিত্র আর বিরোধের যে দুটো আন্তসম্পর্কিত কিন্তু আলাদা বস্তু-- এই সত্য মনে রাখতে হবে, এটা আপাতত বলতে পারি। এবারে আবার আসি শোভনের কথাতে। এমন কথাতে যেকোনো লোকই আপত্তি করবেন , কেউ মুসলমান হলে করবেনই,"why does it happen with a particular community only? Why not with the other minority religious groups?"
  আপত্তি করবেন, কারণ এটা সত্য নয়। ভারতে
পার্শি বাদ দিয়ে কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘুই ভালো নেই। বস্তুত আর্থিক এবং সামাজিক ভাবে খৃষ্টান এবং বৌদ্ধরা সবচে' পশ্চাদপদ অবস্থানে রয়েছেন। এমন কি আর্থিক ভাবে সবল এক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীও যে সামাজিক ভাবে নিরাপত্তা এবং মর্যাদাহীন অবস্থাতে পৌঁছে যেতে পারেন, সেটি আমরা আশির দশকে শিখদের বেলা দেখেছি। আর মুসলমানমাত্রকেই  যখন তখন 'পাকিস্তানের চর' বা 'দেশদ্রোহী'  ভাবা হয় তখন কোনো মুসলমানই অন্যের সম্পর্কে স্বচ্ছন্দ বোধ করে না। আরেকটা কথা, দরিদ্র লোকেরা ধর্মকে আকড়ে ধরবেই , এমন কি বাস্তবে সবচে' অধার্মিক কাজেও তাদেরকেই বেশি পাওয়া যাবে। এই সত্য বহু হিন্দু মধ্যবিত্ত জেনে বুঝেও অনেক সময় বোঝেন না। সম্প্রতি অরিজিত চৌধুরী যুগশঙ্খে নিবন্ধ লিখে প্রশ্ন তুলেছেন একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের লোকেরাই কেন বরাকে এতো অসামাজিক কাজ করছেন? তিনি মুহিব মজুমদারের উপর আক্রমণ, ভাঙাতে দোকান বাড়ি জ্বালানো ইত্যাদি প্রসঙ্গ টেনেছেন। নিত্য যারা অসম্মানের পরিবেশে থাকেন তারা 'ভদ্রলোকে'র মতো সর্বত্র ভারসাম্য রাখবেন কী করে? আমেরিকাতেও দেখা যাবে নিগ্রোরাই সবচে বেশি সামাজিক অসাম্যের শিকার, আবার কোনো নিগ্রো পাড়াতে চোর ছ্যেচ্ছড়ের হাত থেকে গা বাঁচানো যাবে না। 'ভদ্রলোকে'রা কোটি কোটি টাকা সুইস বেঙ্কে রাখেন, টেক্স ফাঁকি দেন, জেলে গেলেও নক্ষত্রের সম্মান পান। কৃষকেরা চুরি করে , ডাকাতি করে এবং জেলে পচেন। ভারতের যেকোনো জেলে গেলে দেখা যাবে সেখানে পচছেন মুসলমান , খৃষ্টান এই সব ধর্মীয় সংখ্যালঘুর মানুষ , এবং অবশ্যই দলিত জনজাতির মানুষেরা। আমার একবার জেলবাসের সৌভাগ্য হয়েছিল, আর শিক্ষক জীবনে অন্য কাজেও জেলে গেছি। দেখেছি।
            এবারে আসি, বাংলাদেশে বা পকিস্তানে সংখালঘুরা কেমন আছেন-- সেই প্রশ্নে মুসলমানদের বিশেষ করে,বা তাদের সমর্থণে যারা বলবেন তাদের সাফাই দিতে হয় কেন? ওগুলোতো বিদেশ। দিতে হয় এর জন্যে যে ঐ দুটো প্রতিবেশি দেশের নজির দিয়ে দেখাবার প্রয়াস হয়, দেখো মুসলমানরা নিজেরা সুযোগ পেলে অন্যের প্রতি কেমন করে? সুতরাং এই কৈফিয়ত এই দেশের মুসলমানদের আত্মমর্যাদার স্বার্থেই দিতে হয়। জীবনে উন্নতির জন্যেও আত্মমর্যাদা বোধটা খুব জরুরি। কেননা এটি এক ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসও দেয়। ভারতে ইমামরা মুসলমানদের কী বিপদ ঘটাচ্ছে এই নিয়ে খুব তর্ক করা হয়, কিন্তু এরা যে 'ভুল পথে' হলেও সেই আত্মমর্যাদা এবং আত্মবিশ্বাস সুরক্ষার কাজ করেন সেই সত্য গোপন করা হয়। আজকাল বদরুদ্দীন আজমল এই লক্ষ্যে রীতিমত খৃষ্টান মিশনারীদের মতো ব্যাপক কাজ করছেন। তাঁর এই সব কাজে বহু হিন্দু দরিদ্রজনও লাভান্বিত হচ্ছেন। এই নিয়েও দুটো ভালো লথা কাগজে খুব কম লেখা হয়। নিত্যদিন 'ইমাম' বিরোধী হিন্দু আস্তিক বা নাস্তিকেরা যা আজেবাজে লিখে মুসলমানদের সেই মর্যাদাবোধ এবং আত্মবিশ্বাসের জায়গাকে তলানিতে ঠেকিয়ে দেন, এবং তাতে 'অর্থনীতি বহুভূর্ত' ভাবে সস্তা শ্রমিক পেতে , রাজনৈতিকভাবে নিজেদের কর্তৃত্ব বহাল রাখতে এই সব 'সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী হিন্দু'দের সুবিধে হয় এই নিয়ে ভাবনাচিন্তাই খুব কম , লেখা লেখিতো আরো কম। যে লিখবে তার চৌদ্দ গোষ্ঠীর শ্রাদ্ধ হবে। 
           এবারে, যতটা বলা হয়, সত্যি কি মুসলমান প্রধান দেশ গুলোতে সংখ্যালঘুদের অবস্থা খুব খারাপ? সব দেশেই কি? তবে দুবাই সহ, মধ্য এশিয়ার বহু দেশে ভারতীয় হিন্দুরা দলে দলে যান কী করতে? আফগানিস্তানের সংগে ভারতের এতো প্রেম কিসের। ঐ দেশতো ধর্মনিরপেক্ষে বলে এখনো নিজেকে ঘোষণা করে নি। হ্যা, অধিকারের অসাম্য আছে, আছে মর্যাদারও। যেমন আছে ভারতে। পাকিস্তানে বা বাংলাদেশে যদি হিন্দু লোক রাজনীতি, ব্যবসাতে তেমন উন্নতি করতে পারেন নি, তবে বিপরীতে এটাওতো ঠিক ওদের দেশে গুজরাট, ভাগলপুর, নেলীও হয় নি। সুতরাং বলতে গেলে বিরুদ্ধে, সব দেশের বিরুদ্ধেই বলা যাবে। ভারতে মুসলমানদের সংরক্ষণ দিয়ে দিলে ধর্মনিরপেক্ষতা গেল কোথায় এই প্রশ্ন তোলা হয়। কিন্তু এই প্রশ্ন যারা করে----, ১৯৯২র মুম্বাই দাঙ্গার , ১৯৮৩র নেলি দাঙ্গার কোনো বিচার হয় না কেন? ১৯৯৪র মুম্বাই বোম ব্লাস্টের অপরাধী ধরা পড়ে জেলেও যায়, কিন্তু যার প্রতিক্রিয়াতে এই সব হয় সেই বাবরি ভাঙ্গার নায়করা এতো সম্মানের সঙ্গে বুক ফুলিয়ে ঘুরে কী করে?  এই সব প্রশ্নের উত্তরটা কী? সে যাই হোক, আপনি যে পক্ষেই থাকুন, একটি কথাতো সত্যি যে ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নাতীত নয়। তবে এই প্রশ্ন করবার মানেই বা কী যে একটিও মুসলমান দেশ নেই যেগুলো ধর্ম নিরপেক্ষ। আবার এও সত্য নয়, যেসব মুসলমান প্রধান দেশ ঘোষিত ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ তাদের রাষ্ট্রনায়কদের একনায়ক বলে যখন মিছেমিছিই আমেরিকা প্রায় নৃশংসভাবে হত্যা করে তখন আবার আমরা নিজেদের গনতন্ত্রের বড়াই করে আহ্লদাদে মেতে উঠি। ইরাকে বা লিবিয়াতে যা হলো। মুসলমান যাবেতো যাবে কোথায়?
             এই প্রশ্নও কি মাথাতে আসেন না, যে মুসলমানদের প্রতি আল্লাই বড় অবিচার করে গেছেন! কী মুস্কিল! ভারত ছাড়া প্রায় সমস্ত মুসলমান প্রধান দেশে তিনি তেল দিয়ে গেছেন। ইন্দনেশিয়া মালোশিয়াতেও। আর একটা দেশ থেকে সামন্তবাদ বিদায় নেবে কিনা সেটি সিদ্ধান্ত নেবার দায়, ইউরোপ বাদ দিলে আর কোনো এশিয়, আফ্রিকী দেশগুলোর নিজেদের হাতে ছিল না। ভারতেও নয়। ভারতেও সামন্তবাদ টিকে আছে। আর তেলপ্রধান দেশগুলোতেতো বটেই। সৌদী রাজা বা ব্রুনেইর রাজার বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি করে না। সামন্তবাদ ঔপনিবেশিক শক্তিকে সস্তা শ্রম, কাঁচামালের অবাধ লুণ্ঠন এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাজারের নিশ্চিতি দেয়। আর তাই, আমরা মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের উত্থানে যতই বিপন্নবোধ করি, মার্কিনিরা তাদের সঙ্গেই কারবার করবার আলাপ জমাচ্ছে। ইরাকেও তাই হয়েছে। আফগানিস্তানেও মোটেও ধর্ম সম্পর্ক শূণ্য সরকার ক্ষমতাতে নেই। বরং বিচ্ছিন্ন কিছু জনজাতীয় যুদ্ধবাজদের জোট সরকার চালাচ্ছে। যারা মোটেও মার্কিনি বা ভারতীয় শিল্পপতিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো যোগ্যতা রাখে না। আর সত্য বলতে, ধর্মনিরপেক্ষ জাতি রাষ্ট্র একটি বোর্জুয়া মিথ্যাচার হিসেবেই থেকে গেছে। বৃটেন নিজেই এখন আবার নতুন করে এই সব প্রশ্নে জেরবার। আগামী দুই একবছরে স্কটিশরা বেরিয়ে গেলেও যেতে পারে যাদের সঙ্গে ইংলিশদের ভাষিক এবং ধর্মীয় বিরোধ রয়েছে। পুঁজিবাদ এগুলো জিইয়ে রাখে। কারণ, তার লুণ্ঠনকে সে যতই বাজারে স্বাধীনতার উপর ছেড়ে দেবার বড়াই করুকনা কেন, এতো ঠিক যে তার জুয়াচুরী আড়ালে থাকে না। এখনকার আর্থিক সংকট দেখাচ্ছে এই সত্যতা। 
            এই জোচ্চুরিকে আড়াল করবার জন্যে শাসকদের দরকার পড়ে সংখ্যাগুরুদের মধ্যে এক সমর্থণ ভিত্তি গড়ে তুলবার। সেই সংখ্যাগুরুর একটি ধর্মও থাকে, থাকে ভাষাও। আর ঠিক তাই আজকের কোনো দেশেই সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা আর মর্যাদা নিয়ে থাকতে পারে না। যারা এর বিরুদ্ধে লড়বেন তাদের তাই 'হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই বলেও লাভ নেই', 'লাভ নেই অসমিয়া বাঙালি ভাই ভাই বলেও'। আবার এর অর্থ এও নয় যে তবে 'হিন্দু মুসলিম বা অসমিয়া বাঙালি কাটাকাটি করা যাক' এর সবগুলোই শাসকদের লাভ করে দেয়। প্রথমটি তাদের উদ্দেশ্যকে আড়াল করে, দ্বিতীয়টি বড়বেশি উন্মুক্ত করে। শুরু তাই অবশ্যই করতে হবে সংখ্যালঘুর পক্ষে দাঁড়িয়ে সংখ্যাগুরুর নিপীড়িতদের এক করে। আর ঠিক তাই, আমি প্রায়ই অসমিয়াদের পক্ষেও দুই একটা কথা বলে ফেলি। তাতে শিলচরের কিছু বন্ধু আমাকে তাদের দালাল বলে ফেলেন। অর্থাৎ , আমি এমন একটা লোক যে কিনা 'হিন্দু বাঙালি', কিন্তু 'হিন্দু' আর 'বাঙালি' ছাড়া আর সবার পক্ষে দালালি করে! আরে বাবা, যারা একতরফা অসমিয়া বিরোধী বা বিদ্বেষী, সবেতেই অসমিয়া ষঢ়যন্ত্র দেখেন তারাতো নিজেদের লড়াইটা শুরু করবার আগেই হেরে বসে থাকেন। আর ঠিক তাই, বরাক উপত্যকার আজ অব্দি কোনো হিল্লে হলো না। ব্রহ্মপুত্রেরও বটে।
                                                                                                         (c) ছবি

Sunday, 22 August 2010

বারাক ওবামার ধর্ম আর রক্ত-তেল চোরা সাদা সাহেবদের কেয়ামতের দিন


               মেরিকার আকাশ বাতাস এখন একটি মসজিদ নির্মাণের প্রশ্নে সরগরম। ঠিক মসজিদ নয়, ১১সেপ্টেম্বর, ২০০১এ ধ্বংশ প্রাপ্ত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের নিচের তলার সামান্য কাছেই একটি ইসলামি কেন্দ্রের  নির্মাণের প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতি ওবামা সমর্থণ জানিয়েছিলেন। যে কেন্দ্রে একটি মসজিদও থাকবে।  তাঁর বক্তব্য ছিল, এই দেশে মুসলমানদের অন্য সবার মতোই ধর্ম চর্চার সমান অধিকার রয়েছে। ব্যস! তাতেই চটে লাল আমেরিকা! এতো ভালো কথা সহ্য করতে তারা আর প্রস্তুত নয়। পরে তাঁকে একটু পিছিয়ে এসে বলতে হয়েছে, যারা সেই কেন্দ্র গড়তে চাইছেন তাদের উৎসাহিত করতে তিনি কিছু বলেন নি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ন্যান্সি পেলসি বলেছেন, সংবিধান সব ধর্মের সমান অধিকার দিয়েছে বটে, কিন্তু একটি ধর্ম কেন্দ্র হবেটা কোথায় সেটি হবে একেবারেই স্থানীয় সিদ্ধান্ত।    প্রতিপক্ষ রিপাব্লিকানেরাও দ্বিচারিতার নিদর্শন রেখে মুসলমানেদের অধিকারকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না। বরং উলটে ওবামাকেই ঝেড়ে কাশতে অনুরোধ করছে যাতে তাঁকে চেপে ধরতে সুবিধে হয়। রিপাব্লিকানদের হয়ে সবচে বেশি গলা উঁচু সেই মহিলা সারা পলিন্সের যিনি গেল নির্বাচনে উপরাষ্ট্রপতি পদে দাঁড়িয়ে উল্টপাল্টা মন্তব্য করে প্রচুর লোক হাসিয়েছেন, এবং এখন দুর্নীতির অভিযোগে হালে পানি পাচ্ছেন না। ইদানিং তিনি খুব ধর্মবাতিকগ্রস্থ হয়েছেন।
         যারা এই ইসলামি কেন্দ্রটি গড়তে চাইছে তারা যে খুব ইসলামের বিজয় রথ ছোটাবার বাসনাতে কাজটি করছে তা কিন্তু নয়। তারা হচ্ছেন আমেরিকার সেই মুসলমান যারা  লাদেনের পাপকে ধুয়ে দেবার জন্যে মাঠে নেমেছেন। ইসলামে দানবীয়করণের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে একটা বার্তা দেয়াই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। আর তাদের সঙ্গে যে শুধু মুসলমানেরাই রয়েছেন তাই নয়, রয়েছেন প্রচুর খৃষ্টান, এমনকি অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে তাদের সঙ্গে প্রচুর ইহুদীও রয়েছেন। যে সংগঠনটি এই ইসলামি কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল তাদের নাম ‘কোরডোবা ইনিসিয়েটিভ’ (Cordoba initiative)। কোরডবা হচ্ছে স্পেনের এক বিখ্যাত প্রাচীন প্রাক-ধর্মযুদ্ধ  ইসলামি তীর্থক্ষেত্রে নাম। যায়গাটি তখন ইহুদি, খৃষ্টান , ইসলাম সহ নানা ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের জন্যে বিখ্যাত ছিল। সেখানে যে বিখ্যাত মসজিদটি ছিল ধর্মযুদ্ধের পরে সেটি এক খৃষ্টান চার্চে পরিণত হয়। আমরা সবাই জানি ধর্মযুদ্ধ খৃষ্টান চার্চগুলোর ধর্মীয় সহিষ্ণুতার সবচে’ কুখ্যাত নজির। সেই যুদ্ধ কেবল আরব উত্থানের পতন ঘটায় নি, গোটা ইউরোপকেও ঘনঅন্ধকারে ছেয়ে ফেলে। যাকে আমরা জেনে না জেনে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ বলে চিহ্নিত করে থাকি। প্রায়শঃ এই পদগুচ্ছ অকারণে  ভারতের ইতিহাসেও প্রয়োগ করি। এহেন এক উদ্যোগকে যারা বাধা দিচ্ছেন আর ভাবছেন তাদেরকে  ধর্মকেন্দ্র গড়তে দিলে বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে নিহতদের অপমান করা হবে, তারা যে লাদেনবাহিনীর চে’ ভালো মানুষের দল নন, সেটি বুঝতে বুদ্ধি খাটাবার প্রয়োজন পড়ে না। বুদ্ধিমান অনেকেতো এও বলছেন ‘কোরডবাকে’ ধর্মকেন্দ্র গড়তে দিলে লাদেন সেটিকেও উড়িয়ে দেবেন। কিন্তু আপাতত লাদেনের খৃষ্টান প্রতিপক্ষরাই এর পথ আটকে তার কাজ কমিয়ে দিচ্ছেন । অথচ যে নিউইয়র্কে কেন্দ্রটি হবে, সেখানে প্রায় পাঁচ লক্ষ মুসলমান রয়েছেন আর রয়েছে অজস্র মসজিদ। তাতে এই আরেকটা যোগ হবে মাত্র। কিন্তু এক নতুন বার্তা নিয়ে। সেটি যারা হতে দিচ্ছেন না তারা স্পষ্টতই চাইছেন না ইসলাম তার পুরোনো গৌরবময় পরিচয় ফিরে পাক। পেলে যে মধ্য এশিয়াতে মার্কিনি তেলচোরাদের আসন্ন বিপদ!      
                ইতিমধ্যে নানা কারণে ওবামার  জনপ্রিয়তাতে ভাটা পড়েছে । সামনেই , নভেম্বরে সিনেটের কিছু আসনে মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। তার আগে সে জনপ্রিয়তাতে আর ভাটা পড়ুক সেটি তিনি বা দল চাইছেন না। কিন্তু সম্ভবত আঁচড় যা পড়বার তা পড়ে গেছে। আমেরিকা জুড়ে ইসলাম বিরোধী প্রচার কিছু তো বেড়েইছে, সেই সঙ্গে এই বিশ্বাসও বেড়েছে যে ওবামা আসলে অন্তর থেকে একজন মুসলমানই।
জাতি রাষ্ট্র, ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে পশ্চিমী দেশগুলোর সাধারণত অহংকারে মাটিতে পা পড়েনা। ওদের থেকে পাঠ নিয়ে আমাদের দেশেও অনেকে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ নিতে বলেন। তার মধ্য , কিছু আগ মার্কা বামপন্থীও রয়েছেন। কিন্তু , আমেরিকার ঘটনাক্রম দেখে মনে হচ্ছে না কি যে ওরা আমাদের থেকে আর যাই হোক এ ব্যাপারে মোটেও বেশি সভ্য নয়! কল্পনা করুন যে মুম্বাইর হোটেল তাজের কাছে এক মসজিদ তৈরির  কথা বললেন, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম , কিম্বা কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, শিবসেনা, ভাজপারা কী বলতে পারে আমরা সহজেই  আঁচ করতে পারি।  আব্দুল কালামকে পাকিস্তান আর সোনিয়া গান্ধিকে ইতালি পাঠাবার ব্যবস্থা করে দিলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না! দু’জনকেই তার পরে  সিদ্ধি বিনায়কের মন্দিরে গিয়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করে আসতে হতো। আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকেও ঠিক তেমনটাই করতে হয়েছে!
           ইতিমধ্যে সরকারীভাবে ঘোষণা দিয়ে জানাতে হয়েছে যে রাষ্ট্রপতি ওবামা একজন নিষ্ঠাবান খৃষ্টান এবং রোজ প্রার্থণা করেন। ধর্মীয় উপদেষ্টার পরামর্শ না নিয়ে তিনি দিনের কোনো কাজই করেন না। তার জন্যে কেউ তাঁকে ধর্মান্ধ বা মৌলবাদি বলছে না!  তাঁর বাবা মুসলমান ছিলেন, তিনিও মুসলমান হতেই পারেন। এই সরল  কিম্বা জটিল বিশ্বাস থেকেও এই ক’দিন আগও কিছু মানুষ তাঁকে মুসলমান বলে ভাবতেন। সম্প্রতি নানা কারণে এমন বিশ্বাস করবার লোক বেড়ে গেছিল।  ওই মন্তব্যের দিন কতক আগেই পিউ গবেষণা কেন্দ্র বলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা দেখিয়েছিল ওবামাকে মুসলমান বলে মনে করবার মত লোক ১১% থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ শতাংশ । প্রতি পাঁচজন মার্কিনিদের মধ্যে একজন ভাবছেন ওবামা একজন মুসলমান । ঐ মন্তব্যের পর আগষ্টের মাঝামাঝি টাইমস মেগাজিন আরেকটি সমীক্ষা চালায়। তাতে সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৪ শতাংশ। তারা ভাবছেন ওবামা একজন মুসলমান তাই ওমন কথা বলেছেন। তিনি যে  একজন সৎ মানবতাবাদির অবস্থান থেকে কথাটা বলতে পারেন এই সহজ সত্য ওদের সাদা চামড়াতে ঢাকা উন্নত মস্তকে কিছুতেই ঢুকতে চাইছে না । ৪৭ শতাংশ লোক অবশ্যি সেরকম ভাবছেন না, কিন্তু তাতে ওবামা আশ্বস্ত  হলেও আমাদের হবার কোনো কারণ নেই। কারণ তাঁরা এই ভেবে তুষ্ট যে তিনি একজন নিষ্ঠাবান খৃষ্টান। মাত্র ২৪ শতাংশ এ নিয়ে কোনো মত জানান নি।
                 ওই যারা মত দেননি তাদের সংখ্যার থেকে অল্প কিছু বেশি লোক বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সামনে ইস্লামিক কেন্দ্রটি গড়বার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের সংখ্যা ২৬ শতাংশ।  তাদের কেউ কেউ সেই অধিকারের পক্ষে লড়াই চালাবার সাহসও গুটিয়ে নিয়েছেন। এবং বাণিজ্য কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ধর্ণাও দিচ্ছেন। এর মধ্য অভিশপ্ত সেপ্তেম্বরে নিহত আহতদের পরিবারের অনেকেও রয়েছেন, যারা মনে করেন ঘৃণা কখনো ঘৃণার নিদান হতে পারে না। তাদের সংগঠনটির নাম “September 11th Families for Peaceful Tomorrows” । তারা এও এই বলে সভ্যতার চরম নিদর্শন উপস্থিত করছেন, “What better place for healing, reconciliation and understanding than Ground Zero? We honor our family members by practicing American principles and moving forward from Ground Zero to a future of peaceful coexist”
                পিউ গবেষণা কেন্দ্রটি যে সমীক্ষা চালিয়েছিল তাতে মার্কিনি রাজনীতিতে ধর্মের ভূমিকা নিয়ে কিছু মজার তথ্য বেরিয়ে এসছে। বিতর্কিত মন্তব্যটি করাবার আগেই যে কিছু লোক ওবামাকে মুসলমান বলে ঠাউরেছিল তার কারণটি কিন্তু আর কিছু নয়, তিনি তার আগেকার রাষ্ট্রপতিদের থেকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে কম হাজিরা দিচ্ছেন। এর মানে, এখনো সে দেশে এক রাষ্ট্রপতির কাছে ধর্মের, তাও সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মের, থেকে দূরে সরে থাকাটা ভারতীয় উপমহাদেশগুলোর যেকোনো  দেশের মতোই খুব একটা নিরাপদ নয়। এখনো ৪৮ শতাংশ মার্কিনি  লোক মনে করেন রাষ্ট্রকে ধর্মের থেকে দূরে সরে থাকা উচিত নয়। এই সংখ্যাটা  ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ এর আগের দশক থেকে সামান্য কমেছে মাত্র!
                অনেক ভারতীয় কালো সাহেবেরাও মসজিদ নির্মাণ নিয়ে করা ওবামার মন্তব্যকে ভালো চোখে দেখেন নি। তাঁরাও ইসলামী আতঙ্ককে বিশ্বের সবচে বড় বিপদ হিসেবে দেখেন, এবং কোনো মুসলমান ধর্ম কেন্দ্রকে বিশ্বাস করতে পারেন না। আজকাল যে আমেরিকা আর ইউরোপের দেশে দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার ও ব্যবস্থা নেবার প্রবণতা বেড়েছে তাতে তাঁরা খুব হ্লাদিত। তাঁদের ধারণা, এর ফলে পৃথিবী ইসলামী সন্ত্রাসবাদ নামের ‘দানবীয়’ বিপদ থেকে মুক্ত হবে। তাঁদের সাহেব প্রীতিতে অন্ধচোখ দেখেও না যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাতে কিছু মৌলবাদি যদি তিন হাজার লোককে মেরেছিল, যারা মৌলবাদি নয় বলে বড়াই করে সেই সাহেবদের, পশ্চিমী দেশগুলো সেই বাহানা নিয়ে আফগানিস্তান নামের দেশটির  ভেতরে ঢুকে আজ প্রায় একটি দশক জুড়ে ঘাটি গেড়ে বসে মেরেছে তার থেকে বহুগুণ বেশি সাধারণ নিরীহ মানুষ । বছরে সেই সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। তারা জোর করে বা ভয় দেখিয়ে সামরিক ঘাটি করে বসে আছে  মধ্য এশিয়ার প্রায় সমস্ত দেশে। কোনো এক সুদূর আশির দশকের শুরুতে পৌনে দু’শো কুর্দ নাগরিককে মারবার অপরাধে যারা সাদ্দামকে বিচারের প্রহশনে বসিয়ে মেরে ফেললে, তারা এই সাত বছরে মেরেছে ১ লক্ষ ৬১ হাজারেরো বেশি ইরাকি মানুষ। সাদা কিম্বা কালো কোন সাহেবদের চোখেই এই মৃত্যু কোনো আতঙ্কের ব্যাপারই নয়! মধ্য এশিয়ার  দেশগুলোর দখলদারি নিয়ে মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যেও মারামারি করে ওই সাহেবেরা। কারণতো একটাই মাটির তলার তেল সাবাড় করো আর যুদ্ধের বাজার ছড়িয়ে চলো।
              ফ্লরিডার ডোভ ওয়ার্ল্ড আউটরিচ সেন্টার বলে এক খৃষ্টীয় চার্চ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে ওই বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সামনে কোরান পোড়াবে বলে হুমকি দিয়ে রেখেছে। তারা সেই দিনটির নাম দিয়েছে ‘কোরান পোড়ানোর দিন’।  কার্ল মার্ক্সের মতো নিন্দিত নাস্তিক জানতেন যে যিশু খৃষ্টের মতো কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র ছিলেন না। তারপরেও ওই কাল্পনিক ভদ্রলোকটির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার অন্ত ছিলনা। এই তথ্য বহু মার্ক্স বিরোধীতায় অন্ধদের কিম্বা অন্ধ মার্ক্সবাদি নাস্তিকদের জানা নেই। তাঁর মতে খৃষ্টীয় ষষ্ঠ শতক অব্দি খৃষ্ট ধর্মই ছিল রোমান সভ্যতার সমাজবাদ! সেই খৃষ্ট ধর্মের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবার মতো লোক সংখ্যাতে নগন্য হলেও অভাব নেই। The Christian Science Monitor বলে একটি বৈদ্যুতিন কাগজে ডান মারফি  লিখেছেনঃ   The increasingly acrimonious debate over the construction of the so-called Ground Zero mosque in Manhattan, about two blocks away from the World Trade Center towers that were destroyed by Al Qaeda on Sept. 11, 2001, echoes similar debates in Europe and could, if the rhetoric becomes commonplace, have broad and negative ramifications for the integration of America's growing Muslim population ।
              এই সহজ বুদ্ধির লোকের সংখ্যা কমে গেছে আজকের মার্কিনি সাম্রাজ্যবাদিদের শাসিত এবং অনুগত বিশ্বে। বিপদ এইখানেই মারাত্মক। ওবামা এই সহজ বুদ্ধির থেকেই কথাগুলো বলেছিলেন। কিন্তু, তিনিও এই ব্যবস্থার দাস, তাই তাঁকে আপাতত পেছনে হাঁটতেই হলো। কিন্তু তর্কের যে ঢেঊ উঠল তা, ধর্ম এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে গোটা পৃথিবীকে আরো একবার কাঁপাবে। আমাদের দেশের ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে যারা বেশ গৌরবান্বিত, তাদের কথা নাহয় বাদই দিলাম, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গিয়ে যারা ইঊরোপের জাতিরাষ্ট্রগুলোর নজির দিয়ে ভাষা নির্ভর জাতীয়তাবাদের পক্ষে ওকালতি করেন, তাঁরাও তাঁদের তত্বর বিশুদ্ধতা আর  ফাঁকির যায়গাগুলো নিয়ে আরেকবার ভাবতে শুরু করলে আমরা ভবিষ্যত নিয়ে আশান্বিত হতে পারি। 
                                   
আপাতত নইলে কোরান পোড়াবার দিন পালিত হোক। ওদের ক্ষমতা আছে পালন করবে, কে ঠেকাবে!  কিন্তু সেদিন আসবে খুব শীঘ্রই, যেদিন ঐ  তেল আর রক্তচোরা সাদা সাহেবদের কেয়ামতের দিন  পালিত হবে গোটা বিশ্বে, মায় আমেরিকাতেও!  সেই অপেক্ষাতে আমাদের কাটবে আরো কিছু দিন, হয়তো কয়েকটি বছর কিম্বা দশক। কিন্তু আসবে , সে নিশ্চিত !