আমার চেতনার রঙে রাঙানো এই খেলা ঘরে:

~0~0~! আপনাকে স্বাগতম !~0~0~

*******************************************************************************************************

Showing posts with label On Bangladeshi and D-Voter. Show all posts
Showing posts with label On Bangladeshi and D-Voter. Show all posts

Sunday, 29 August 2010

রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জিঃ সন্দেহ আর শংকা

From My Google Blog
                                                                  
 মূল অসমিয়াঃআব্দুল সালাম *
                  
                         ’বছরের ভূমিকম্পের শেষ ধাক্কাটিও ১৯৮৫ র ১৫ আগষ্টে সম্পাদিত অসম চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেছিল। অসমের মানুষ ধীরে ধীরে অনুভব করলেন বিদেশি সমস্যা আর বিদেশি খেদা আন্দোলনের  প্রকৃত চরিত্র। সাম্প্রদায়িকতা আর উগ্র জাতীয়তাবাদের থেকে জন্ম নেয়া ফ্যাসিজমের ধার কমতে শুরু করল, কিন্তু তাতে খুশি  নয় সংঘ পরিবার, রাজনৈতিক দল বিজেপি আর তাদের সমভাবাপন্ন দলগুলো ।

           অসমে পূর্ববঙ্গীয় মূলের যেসব মুসলমানদের বৃটিশ তার ঔপনিবেশিক  স্বার্থেই আমদানি করে এনে বন-জংগল, নদী পাড়ের চরাঞ্চল আর অনুর্বর জমিতে বসিয়েছিল, সেই সব মানুষকেই আবারো শত্রু এবং বৃহৎ বাংলাদেশ বা ইসলামিস্তান সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারী বলে চিহ্নিত করে অহরহ তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত আরম্ভ হয়েছিল, সেই ষাটের দশকের থেকে। আগেকার অসম আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রকৃত সত্য অনুধাবন করে এখন মৌনতা অবলম্বন করে বসে আছে, কিন্তু সাম্প্রদায়িক সাম্প্রদায়িক মনের অনেকে আইনের সাহায্যে হবে না জেনে মুসলমানদের ‘হাতে বা ভাতে’ মারবার জন্যে সভা-সমিতিতে প্রকাশ্যে আহ্বান জানাতে  শুরু করল।

                    দরিদ্র নিরালম্ব মুসলমানেরা ঠেলা রিক্সা চালিয়ে, হোটেলের থালা বাসন ধুয়ে, নালা নর্দমা পরিষ্কার করে, বছরের হিসেবে চুক্তিতে হাল বেয়ে বা দিন মজুরি করে কোনোক্রমে পেটেভাতে টিকে ছিল। এদেরই কাউকে কাউকে উজান অসম বা অরুণাচলের মতো জায়গা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ভাতে মারবার ব্যাবস্থা হয়েছিল।  এই মুসলমানদের কেউ না ছিল  বিদেশি  না বাংলাদেশি। তারা ছিল ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ এবং নৃগোষ্ঠিগত সাফাই অভিযানের (এথনিক ক্লিনজিঙে)  বলি ভারতীয় নাগরিক। এমন অমানবিক আর বেআইনি কাজকর্ম দেখেও এমনিতে যারা মানবাধিকার, আইনের শাসন, সংবিধানের কথা বলে কথার খৈ ফোটান তাদের মুখ রইল বন্ধ হয়ে।বৃহৎ অসমিয়া জাতির স্বার্থে কলম ধরে যারা বৌদ্ধিক নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তাদেরকে কলম রইল বন্ধ হয়ে। যাদেরকে হৃদয়বান এবং অসমের চিন্তানায়ক বলে শ্রদ্ধা করা হয় তারাও রইলেন মৌন। ‘মৌনেনঃ সম্মতি লক্ষনম’। বেঁচে থাকবার দুর্বার  প্রবৃত্তিতে সেই সব শ্রমজীবী মানুষগুলো বৌ বাচ্চাকে লালন পালন করতে ভারতের নানা প্রদেশে দৌড়ে গেল। বিজেপি, শিবসেনা আর অন্যান্য উগ্রহিন্দুত্ববাদি সংগঠনগুলো সেখান থেকেও এই ভারতীয় মুসলমানদের তাড়িয়ে দিল। মহাপুরুষ শংকর দেবের অসাম্প্রদায়িক দর্শনের প্রচার করতে ব্যস্ত অসমের এক সংবাদপত্র এই দুর্ভাগা মুসলমানদের ‘বিষ্ঠা’ বলে ঘৃণাভরা লেখা ছাপালো। এমন কুকর্ম চলছেই , বন্ধ হয় নি।

             পূর্ববঙ্গীয় মূলের মুসলমানের ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোস পরা কিছু সংগঠন আর হিন্দুত্ববাদি নেতা সংগঠনের আগ্রাসী কাজ কর্মে শংকিত হয়ে পড়ল। ধর্মনিরপেক্ষতা আর অসম –অসমিয়াদের স্বার্থে নিত্য মুখর সারা অসম ছাত্র সংস্থাকেও এমন অমানবিক কাজের বিরোধীতা করতে কখনো দেখাতো যায়ই নি, উল্টে দেখা গেল সমর্থন দিতে ।  এই ‘মিঞারা’ হয়ে গেলেন ‘বাংলাদেশি-ইসলামিস্তানের সৈনিক’ , ট্রেডমার্কধারী সফট টার্গেট। দুর্ভাগা এই মানুষগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার হিটলারের অধীনের দেশগুলোর ইহুদি এবং বিশ শতকের ষাটের দশক অব্দি আমেরিকার নিগ্রোদের মতো সমস্ত ক্ষেত্রে বৈষম্য, বঞ্চনা আর লাঞ্ছিত মানুষের মতো জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এদের মধ্যের কিছু মানুষ-- যারা মন্ত্রী, এম এল এ, আধিকারিক ইত্যাদি হতে পেরেছেন তাদের অবস্থা জার্মান নাজি কনসেন্ট্রেশন কেম্পের ‘কাপো’ দের থেকে ভালো কিছু নয়।


         এতো কিছুর পরেও এই মানুষগুলো ঘোর অন্ধকারের পরে আলোর জন্যে  বড় আগ্রহে পথ চেয়ে রইল। অসমে যে সমস্ত পূর্ববঙ্গ মূলের মুসলমান রয়েছেন তারা  সেই বৃটিশ যাদের পাঁচ টাকার ‘রেলওয়ে ফেমিলি টিকিটে’ পূববাংলা থেকে অসমে এনে বি-ফর্মে ( B-form) জমি আবন্টন দিয়ে বসিয়েছিল তাদের তৃতীয় পুরুষ বা বংশধর। এই মানুষগুলোকেই ভোতার লিস্টে নামভর্তীর জন্যে বারে বারে সরকারী আধিকারিকদের সামনে  লাইন দিতে হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ন্যায়ালয়ের বিচারকের পরিবারের লোক, উকিল কিম্বা সরকারী কর্মচারীরাও রেহাই পেলেন না। ঠিক ইহুদি আর নিগ্রোদের মতৈ ডানদিকে পুরুষেরা আর মহিলারা বাঁদিকে।

উপযুক্ত নথিপত্র পরীক্ষার শেষে ভোটার লিস্ট তৈরি হলো, ছাত্র সংস্থা নারাজ। অভিযোগ উঠল লাখো লাখো বাংলাদেশির নাম ঢুকেছে। কোনো প্রাথমিক অনুসন্ধান না করেই প্রায় তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার নাগরিকের নামের পাশে সন্দেহজনক ভোটারের ( D-voter) ছাপ মেরে দেয়া হলো। মা-বাবা নয়, সন্তান হলো ডি-ভোটার। দাদা ভারতীয় নাগরিক , ছোট ভাই বোন হলো ডি-ভোটার।  সমকালীন রাজনৈতিক পরিবেশে বৈষম্যের নজির বিহীন ব্যবস্থাতে কিছু সংখ্যালঘু মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে ফেলা হলো। পৃথিবীর আর কোনো দেশে কি কেউ শুনেছে এমন অদ্ভূৎ ব্যবস্থার কথা?
                 অসমে যে সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি প্রস্তুতির          ( উন্নীতকরণ) প্রকল্পকে এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করতে হবে। অসমে এন আর সি প্রস্তুত করা হচ্ছে না , হচ্ছে নবীকরণ । ভিত্তি হবে ১৯৫১ সনের  নাগরিক পঞ্জি । অসম চুক্তির কোন দফাতেই বা ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জিকে ভিত্তি ধরার দলিল করা হয়েছে? এখন সেই অসম্পূর্ণ নাগরিক পঞ্জিকে ভিত্তির দলিল করা হলো কেন, সেইটেই লাখ টাকার প্রশ্ন।  কে দেবে তার উত্তর? কারই বা গরজ পড়েছে ! সমস্ত ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েও ১৯৫১কে ভিত্তি বর্ষ ধরাতে কাউকে দেখা গেল না প্রতিবাদ করতে । সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। অসম চুক্তিতে যদিও ১৯৭১এর ২৮ মার্চের মাঝরাত অব্দি সময়কে নাগরিকত্বের ভিত্তি বছর ধরা হয়েছে, কার্যতঃ এখন ১৯৫১ সনকেই ভিত্তি বছর ধরা হলো। কারণ সরকার নিবন্ধনের জন্যে যে সব দরখাস্তের ফর্ম বিতরণ করেছে তার ১২ নং ঘরটিতে ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জির ক্রমিক নম্বর আর গৃহ সংখ্যা লেখাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পরেই শুধু ১৯৭১, ১৯৬১ এবং তার আগের ভোটার তালিকার তথ্য দিয়ে ফর্মখানা ভরাতে হবে। এভাবেই বরপেটা আর ছয়গাঁও রাজস্ব চক্রে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যঢ়যন্ত্র দিয়ে কত মানুষকে রাষ্ট্রহীন করা যায় তার পরীক্ষামূলক প্রকল্প।
               উপরে উল্লেখিত দুটো রাজস্ব চক্রের মুসলমানেরা ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জিকে মূল প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ঘোষণা করাতে কোনো আপত্তি করেন নি। এ নিয়ে তারা চিন্তিত নন। স্বাধীনতার আগে থেকে তাদের পূর্বপুরুষেরা এই এলাকাতে বাস করে আসছেন । তার নথিপত্র তাদের রয়েওছে।  তারা আশা করছেন রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জিতে নাম নিবন্ধন করে ফটো পরিচয় পত্র পেয়ে গেলে এতো দিন ধরে তারা যে দুর্ভোগ ভোগে আসছেন তার অন্ত হবে। ফুরোবে যত সন্দেহ সংশয় ইত্যাদি। স্বাধীন নাগরিকের মতো থাকতে পারবেন ভারতের সর্বত্র।
কিন্তু,নাগরিকপঞ্জির ফর্ম , ১৯৫১সনের রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জি আর ১৯৭১, ১৯৬১ সনের ভোটার তালিকা দেখে তাদের চোখ কপালে উঠবার জোগাড়। এদের মনে এক সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, ভাবতে বাধ্য হয়েছে কোথাও একটা ষঢ়যন্ত্র হচ্ছে এই মানুষগুলোকে রাষ্ট্রহীন করবার। সাধারণ মুসলমানেরা এটা ভাবতে বাধ্য হলেন যে যে কাজটি ট্রাইবুনেল আর ন্যায়ালয় দিয়ে করা যায় নি, সেই কাজটিই এবারে সহজেই নাগরিকপঞ্জি দিয়ে করতে চাইছে স্বার্থান্বেষী মহল।
                অসমের মুখ্য সচিব ২০০৫ সনের মে মাসে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক সভার পর নাগরিকপঞ্জি উন্নয়নের জন্যে যে কার্যপ্রণালী হাতে নিয়েছিলেন তাতে স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছিলেন যে অসমে বহু জেলাতেই ১৯৫১ সনের নাগরিক পঞ্জি এবং ১৯৬৬-৭১ ভোটার তালিকা আংশিকভাবেই আছে। জনগণ তাদের অসুবিধের কথা বিবেচনা করে নাগরিকত্বের দাবি সাব্যস্ত করতে যাতে অসুবিধে নাহয় তার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিকল্প গ্রহণযোগ্য নথির এক তালিকা তৈরি করবার দায়িত্ব দিয়েছিল। বিকল্প নথির তালিকা তৈরি করবার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারের পিল্লাই মশাই সময় করে উঠতে পারেন নি, এরই মধ্যে দরখাস্ত পেশ করবার শেষ তারিখ  ১০ আগষ্ট দোরগড়াতে এসে পৌঁছে যায়।
                           পুনর্মূদ্রিত এন আর সি আর ভোটার তালিকাগুলোতে এমন কিছু ভুল থেকে গেছে যে গুলোকে সবাই  উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আর ষঢ়যন্ত্রমূলক বলে  ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ নানা সময়ে নানা প্রয়োজনে বরপেটা পুলিশ অধীক্ষক এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিকের থেকে ১৯৫১ সনের নাগরিকপঞ্জি আর ১৯৬৬-৭১ সনের ভোটার তালিকার কপি সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানের জেলা নিবন্ধক ( জেলা শাসক) সেগুলোকে যখন আবার ছেপে প্রকাশ করেছেন তখন দেখা গেল তাতে সেই সব মানুষের নাম নেই। তার উপর আগেই সংগ্রহ করা এন আর সি-র  প্রতিলিপিতে  যার ক্রমিক নম্বর ছিল ৩৭৮, এখন প্রকাশ করা প্রতিলিপিতে তার ক্রমিক নম্বর হচ্ছে ১৭৮। মাঝের দুশো নম্বর গেল কৈ ? কতকগুলোর শুধু ক্রমিক নম্বর আছে , নাম নেই। নাম লেখার জায়গাতে লেখা আছে ‘ উইতে খেয়েছে’ ( ঊঁয়ে খালে)। বাবার নামের জায়গাতে ‘অজ্ঞাত’, ‘অমুক’, ‘অমুকের বাবা’ ইত্যাদি। কোনো ক্রমিক নম্বরের জায়গাতে আছে ‘বাচ্চা’ ( কেঁচুয়া)। পাইলট প্রকল্পের জায়গাতে যেসব মানুষের ১৯৫১র আগেই জন্ম হয়েছে  তাদের জন্মস্থানের জায়গাতে লেখা আছে ময়মন সিংহ, ঢাকা, পূর্ব বা পশ্চিম পাকিস্তান ইত্যাদি। অথচ তাদের জন্ম ভারতে প্রমাণ করবার জন্যে সমস্ত উপযুক্ত নথিপত্র তাদের হাতে  রয়েছে। পুরুষের স্বামীর নাম বলে পুরুষের নাম আর মহিলার স্বামীর নাম বলে মহিলার নাম লেখা হয়েছে। বাবার বয়স ১০, ছেলের বয়স ৫০, মায়ের বয়স নিজের পেটের ছেলের চে’ কম লেখা হয়েছে। একই ক্রমিক নম্বর চার পাঁচজন কিম্বা চার পাঁচ পরিবারের নামের আগে লেখা রয়েছে। বেশ কিছু মুসলমান গ্রামকে হিন্দু গ্রাম বলে দেখানো হয়েছে। মুসলমান পরিবার হয়েছেন হিন্দু পরিবার। বরপেটা রাজস্ব চক্রের ২৪টি গ্রামের এন আর সি, ১১ টি গ্রামের ১৯৬৬র এবং ১২টি গ্রামের ১৯৭১ সনের ভোটার তালিকা পাওয়াই যাচ্ছে না। এমন অবস্থাতে ফর্মের ১২ নং ঘরটি তারা পূরণ করবেন কী করে? শুধুমাত্র ঘিলাজারি আর হাউলি মৌজার ১,৭০০টি পরিবার মূদ্রিত এন আর সি এবং ভোটার তালিকার থেকে বাদ পড়েছে । তিনশ বছরের প্রাচীন অসমিয়া মুসলমান মানুষের গ্রাম ( খিলঞ্জিয়া মুসলমান)  ভেল্লা । সেই ভেল্লারও এন আর সি পাওয়া যায় না বলে সংবাদ পত্রে বেরিয়েছে। ডিসি বাহাদুর মৌন, গৃহ সচিব, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল সব্বাই মৌন, সদুত্তর নেই।
ডাঃ ভূমিধর বর্মন ( অসম চুক্তি রূপায়ণ মন্ত্রী) বিধান সভাতে ঘোষণা করলেন –১৯৫১ সনের এন আর সি, ১৯৬৬-৭১ সনের ভোটার তালিকাতে নাম না থাকলেও ‘পুরোনো মাটির দলিল’ দেখিয়েও এন আর সি-তে নাম নথিভূক্ত করতে পারা যাবে। বিজ্ঞপ্তি জারি করাবার দাবি জানাবার বেলা নির্বিকার হয়ে রইলেন। অসম মন্ত্রীসভার মন্ত্রী, জেলা শাসক, সারা অসম ছাত্র সংস্থা ইত্যাদির মৌখিক প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা Citizenship (Registration of Citizens and Issue of National Identity Card ) Amendments Rules,2009 বিধি কিম্বা আইন আদালত কতটা গুরুত্ব দেবে তা জানবার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির দরকার পড়ে না।
                   ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়। মুসলমান মানুষ, কিছু সংগঠন, রাজনৈতিক দল এই সব অসুবিধেগুলো দূর করবার দাবি জানিয়ে নানা স্তরে আবেদন নিবেদন করতে শুরু করতেই এদেরকে শত্রু বলে ঠাউরে নিয়ে বিকারগ্রস্ত কিছু মানুষ আপত্তিকারীদের অসমের শত্রু, বাংলাদেশি           ( মিঞা)র দালাল বলে চেঁচামেচি শুরু করে দিল। আপত্তির যে কিছু নায্যতা থাকতে পারে তার আভাস নেবার জন্যেও কোনো দরকার বোধ করে নি তারা যারা নিজেদের অসমের সয়ম্ভূ অভিভাবক বলে দাবি করে।
                   ১৯৫১ সনে অসমে লোকগণনা আয়োগের মুখ্য কর্তাব্যক্তি  ছিলেন আর এস ভাগাইওয়ালা, আই এ এস। তাঁর প্রতিবেদনে জানা গেল নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তির ফলে যে ৬৮,৪৫১ জন মানুষ অসমে প্রত্যাবর্তন করেছেন তাঁদের নাম ইতিমধ্যে সমাপ্ত আর সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জিতে ওঠে নি। তারপর পাহাড়ি জেলাগুলো, ব্রহ্মপুত্রের চরগুলো, গোয়ালপাড়া আর কামরূপের একাংশ মুসলমানদের নাম এন আর সি-তে ওঠে নি। সেই মানুষগুলোর বেলা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে  তার কোনো উত্তর নেই। এই সব মানুষেরা নিবন্ধনের জন্যে  ১২ নং ঘরে কী লিখবে? সবাই নিরুত্তর!
                       মাঝখানে একবার দেওরিকুছিম দত্তাকুছিম ধাকালিয়াপাড়াম যুগীরপাম, দাবালিয়াপাড়া ইত্যাদি কিছু গ্রামের এন আর সি আর ভোটার তালিকা পাওয়া না গেলে  এলাকার বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দলগুলো যখন প্রতিবাদী কর্মসূচী হাতে নিয়েছিল , তখন সঙ্গে সঙ্গেই বরপেটার জেলা নিবন্ধন আধিকারিক এই পাঁচাখানা গাঁয়ের আগের বিশুদ্ধ আর সম্পূর্ণ এন আর সি বের করে দিলেন। চিঠি নং BA-NRC/2/2010/50Dt.12.07.2010  । অথচ এটিই  আগে পাওয়া যায় নি বলে জানানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে তিনি আগের কিছু নথিপত্র নষ্ট করে দেবারও নির্দেশ দিলেন। আগে কেন এগুলো পাওয়া যায় নি তার কোনো কারণ জানানো হলো না। সাধারণ মানুষ বাক হয়ে ঘটনাক্রম লক্ষ্য করলেন, তাদের  ষঢ়যন্তের সন্দেহ আরো দৃঢ় হলো।
                       নাগরিকত্ব দাবির জন্যে প্রতিশ্রুতি মতো বিকল্প নথির তালিকা নেই, এন আর সি নেই, ভোটার তালিকা নেই। তা হলে ১০ আগষ্টের ভেতরে আবেদনপত্র জমা দেন কী করে এই লোকগুলো?  জেলা নিবন্ধক সভা সমিতেতে বলে বেড়ান, “বিকল্প নথির তালিকার জন্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। ভাবনার কিছু নেই। আপনারা দর্খাস্ত জমা দিন।”  লিখিত প্রতিশ্রুতি চাইলে তিনি চুপ মেরে যান। মানুষ মুখের কথাতে বিশ্বাস করেন না। মৌখিক কথাতে দর্খাস্ত দেয়ার মানেই হলো মরণ ফাঁদে পা দেয়া—মানুষের এই বিশ্বাসই আরো দৃঢ় হলো।
                        রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জি উন্নীত করবার কাজে যে সব ভুল ত্রুটি দেখা দিয়েছে সেগুলো সংশোধন করবার জন্যে সে সংগঠন, দল বা ব্যক্তি দাবি জানালেন তাদের দমন করতে আখ্যা দেয়া হলো , ‘ বাংলাদেশির দালাল’, ‘অসম বিরোধী চক্র’ কিম্বা ‘অসমের শত্রু’। প্রতিবাদ করা চলবে না, যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই দর্খাস্ত জমা দিতে হবে । আধিকারিক, মন্ত্রী আর তাদের চেলাচামুণ্ডারা বলে বেড়াচ্ছে যে , ভাবনা কিসের? পুরোনো মাটির দলিল থাকলেই হলো ! কেল্লা ফতে! লিখিত নোটিস দিতে বলতেই সব্বাই চুপ। সেরকম আধিকারিদের সংখ্যালঘু মানুষের বিশ্বাস করা মানেই হলো মৃত্যুর সমনে সহি করা। এমনটি ভাবা যে ভুল ছিল না সেটি পরে প্রমাণিত হলো।
                     ২১ জুলাই তারিখে বরপেটাতে বেরুনো আমসুর প্রতিবাদি মিছিল এন আর সি উন্নীতকরণ বন্ধের  দাবিতে না সেইসব ভুলত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবিতে ছিল সে কথা জানবার কারো কোনো গরজ দেখা গেল না।  চারজন প্রতিবাদীকে হত্যা এবং শতাধিক আহতের প্রতি নূন্যতম সমবেদনার গরজ নেই, তার বিপরীতে  প্রকৃত ঘটনাকে বিকৃত করে বিবৃতি দেয়া হলো আর তাতে  আক্রমণাত্মক ভাষার প্রোয়োগ করা হলো। ‘ ওরা বাংলাদেশি, কেন প্রতিবাদ করবে? এতো সাহস কোথায় পেল? কে উৎসাহিত করলে এদের?’ ইংগিতের আঙুল একবার দিসপুর আরেকবার হাতিগাঁওয়ের দিকে । হাতিগাঁওয়ের দিকে আঙুল দেখাবার অর্থ দুটো—এক হাতিগাঁও মানে জমিয়ত আর এ ইউ ডি এফ আরেকটি হাতিগাঁওয়ের ওপারে বাংলাদেশ। অতীতেত অসম আন্দোলনের সময়কার মানসিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
                    চারটা নিরীহ জীবন কেড়ে নেবার পর সরকার আপত্তির নায্যতা বুঝতে পেরে ভুল ত্রুটিগুলো সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে, নাগরিকপঞ্জি উন্নয়নের কাজ সাময়িক ভাবে স্তগিত রেখেছে। কিছু লোকের তাতে বিলম্ব সহ্য হচ্ছে না। স্তগিতকরণ চলবে না! ভুল নেই! ভুলত্রুটির কথা যারা বলছে তারা বাংলাদেশের দালাল! বাংলাদেশির কাছে আত্মসমর্পণ চলবে না! এরকম দাবিতে আবারো ৮৩র সেই আহ্বান জানাতে চাইছে।
                      অসমের মানুষ এখন আবেগ সর্বস্ব না হয়ে যুক্তি তথ্য, তথ্য এবং অন্য পক্ষের আপত্তির কারণ জানবার জন্যেও আগ্রহী। এ একটি প্রশংসনীয় দিক বলে বিবেচিত হচ্ছে। ন্যায়-নিষ্ঠার ভিত্তিতে কোনো রাখঢাক না করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেবার সুবিধে দেয়া হোক। ন্যায়-নিষ্ঠার নীতিও এমনটি দাবি করে। সমাধান হোক –যাতে কোনো বিদেশির নাম অন্তর্ভূক্ত না হয় বা কোনো ভারতীয়ের নাম যেকোনো অজুহাতে কাটা না পড়ে সেটি দেখা উচিত। অসম এবং বৃহত্তর অসমিয়া জাতির স্বার্থে কথাগুলো সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করুক সবাই। আবেগের বদলে যুক্তিতে এগিয়ে যাক। যেভাবে তিরাশির আগুন মাড়িয়ে পার করে চলে এলাম , সেভাবেই সন্দেহ-শংকার এই দুর্ভাবনার থেকেও আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। আঁধারের পর আলো আসবেই আসবে।
* মূল লেখাটি বেরিয়েছিল জনপ্রিয় অসমিয়া দৈনিক আমার অসমের ১০ আগষ্ট, ২০১০ সংখ্যাতে( পৃঃ৫)। লেখক অসমের নগাঁও জেলার  ধিং কলেজের অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক।  ফোনঃ ৯৮৩৫৩-৬০৬৯৬
 
Enhanced by Zemanta

Saturday, 2 May 2009

Di-Voter, Bangladeshi ebong Hindu-Musalmaner samajik Rajniti

                                       (লেখাটা পড়তে বরাহ চাই)

ডি-ভোটার, বাংলাদেশি এবং হিন্দু মুসলমানের সামাজিক রাজনীতি

গেল ৯ এপ্রিলের দৈনিক যুগশঙ্খের ২ এবং ৭ নং পৃষ্ঠাতে দুটো সংবাদ   বেরিয়েছে । প্রথমটির শিরোনাম, ডি ভোটার সম্পর্কে চুপ রাজনৈতিক দলগুলি, ক্ষুব্ধ যুবছাত্র ফেডারেশন। দ্বীতিয়টির শীরোনাম, ডি ভোটাররা কং-অগপ-র বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন বরপেটা জেলায়। প্রথম সংবাদের ভেতরে সারা অসম বাঙালি যুব ছাত্র ফেডারেশনের গুয়াহাটি মহানগর কমিটির এক সভার সংবাদ রয়েছে । রাজা দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ডি ভোটারের সমস্যা নিয়ে কোনো কথা না বলাতে বিজেপি এবং কংগ্রেসের সমালোচনা করা হয়েছে । তাই এবারের  লোক সভা নির্বাচন বাঙালিদের বর্জন করবার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বক্তব্য রেখেছেন । সভাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে ১২ এপ্রিলে ফেডারেশেনের আরো এক সভা হবে, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে । কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল সে কথাতে আমরা পরে আসছি। আপাতত দ্বিতীয়  সংবাদটির কথাতে আসি ।
সেখানে যিনি সংবাদটি পরিবেশন করেছেন তাঁর নামটিই বেশ চিত্তাকর্ষক । সেই যিনি গেয়েছিলেন, সব লোকে কয় লালন  কী জাত সংসারে . . ., সেই ফকিরের নামে সেই সাংবাদিকের নাম লালন ফকির । সংবাদের শুরুতে তিনি অসম আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন। কি করে এ রাজ্যের বহু ভোটার  ডি-ভোটার হয়ে গেলেন তার ইতিবৃত্ত ব্যাখ্যা করেছেন। লিখেছেন বহু পরিবারে এমন হয়েছে যে এক দুজন সদস্য ডি-ভোটার হয়ে গেলেও তাদেরই ভাই-বোন হয়তো ডি-ভোটর নন। তারপর তিনি জানিয়েছেন এবারের নির্বাচনের আগে বরপেটা জেলার এমন বহু ভোটার ও তাদের পরিবারের লোকেরা সুবিধাবাদী  কংগ্রেস-অগপ-র বিরুদ্ধে জোর প্রচার চালাবেন । খিলঞ্জিয়া সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর এইসব ডি-ভোটারের পরিবারের লোকেরা ইতিমধ্যে বরপেটা জেলার গরেমারি-বানিয়াপাড়া, বাগোদি, ভৈরাগুড়ি, হাউলি বহরির পার, কলগাছিয়া, মইনবাড়ি, বাঘবরে সভাসমিতি অনুষ্ঠিত করেছেন। লালন ফকির লিখেছেন, জেলার নির্বাচনী অফিসার সঞ্জয় দত্ত স্বাক্ষরিত এক তথ্য মতে, বরপেটা মহাকুমাতে মোট ২৩,৩২৫ জন ডি-ভোটার রয়েছেন । এদের মধ্যে ৪০নং সরভোগ বিধান সভা কেন্দ্রে ডি-ভোটার পুরুষ ২৭২৫ জন, মহিলা ৫০৩৫জন মোট ৭৭৬০। ৪৩নং বরপেটা বিধান সভা কেন্দ্রে পুরুষ ৬২৯ জন, মহিলা ৭৩৫ জন, মোট ১৩৬৪ জন। ৪৪নং জনিয়াতে পুরুষ ২৪৫৬ জন, মহিলা ৪২২৪ জন, মোট ৬৬৮০ জন । তেমনি ৪৫ নং বাঘবরে ডি-ভোটার পুরুষ ৯২৭ জন, মহিলা ২৫৩৬ জন, মোট ৩৪৬৩ জন । ৪৬ নং সরুক্ষেত্রীতে পুরুষ ৬৮১জন, মহিলা ১৫৪৮জন, মোট ২২২৯ জন এবং ৪৭নং চেঙায় পুরুষ ৫৫৪ জন, মহিলা ১২৭৫ জন, মোট ১৮২৯ । মজার কথা হলো বরপেটার এই মোট ২৩,৩২৫ জন ডি-ভোটারের বেশিরভাগই গৃহবধূ  
        এখন নির্বাচন পেরিয়ে গেছে। জানিনা ১২ এপ্রিলের ফেডারেশনের সভাতে কী সিদ্ধান্ত হল । জানিনা বরপেটার সেইসব ডি-ভোটাররা ঠিক কী প্রচার করলেন, কংগ্রেস-অগপকে হারাতে চাইলেন না ভোট বয়কট করতে চাইলেন । নির্বাচনের পর এগুলো কোনো ইস্যুও থাকেনা, সংবাদও হয় না ।
        কেবল বরপেটা জেলাতেই নয় কাছাড়-করিমগঞ্জ সহ সারা রাজ্যে ১৯৯০তে ডি-ভোটার ছিল প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার। এই পনের বছরে তা কমে মাত্র  অর্ধেক হয়েছে । এখন এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ । অর্থাৎ  সবাইকে এই সন্দেহের তালিকা থেকে মুক্তি পেতে এখনো দেড় দশকের বেশি সময়ের দরকার পড়বে ।
            সমস্যাটা হিন্দু-মুসলমান দুপক্ষেই এক । দুপক্ষই বিদেশি  হবার  দায় থেকে মুক্তি পাচ্ছে না । দুপক্ষকেই অসমিয়া জাতীয়তাবাদের মার সইতে হচ্ছে । কিন্তু তার থেকেও বড় কথা দুপক্ষ পরস্পরকে মারছে, জোট বাঁধবে না । দুপক্ষের সংগঠনগুলোকেই বিশ্বাস করতে মন মানে না । এদের নিজেদের মধ্যে শত বিরোধ, শত বিভাজন। কারণ, শেষ অব্দি দালালিতে গিয়ে সব শেষ হয় । সবাই দালালির ভাগ নিয়ে , দর কষাকষি নিয়ে ব্যস্ত । কাকে মেরে কে খায় !
        আত্মরক্ষার জন্যে এ রাজ্যের ময়মনসিংহ থেকে আগত বাঙালি মুসলমানেরা নিজেদের অসমিয়া লিখিয়েও রেহাই পাচ্ছে না । পাবার কথা নয় । এমন কৃত্রিম পরিচয় নিয়ে সরকারী কাগজে স্বীকৃতি পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু মানুষতো আর কাগজ নয়। তারা আসলটা চায়। সাধারণ অসমিয়া তাদের মধ্যে অসমিয়াত্ব দেখে না । দেখে বাংলা, বাঙালি, বাংলাদেশ । তাই তাদের বিপদের শেষ নেই ।  
বাঙালি হিন্দুরা দেশভাগের দায়তো তাদের দিচ্ছেই, সঙ্গে নিজেদের অসমিয়া লিখিয়ে  বাকি বাঙালিদের সংখ্যালঘু বানিয়ে রাখার ঝালও এদের উপরই মেটাচ্ছে। আজকাল  ব্রহ্মপুত্রের সব হিন্দু বাঙালি নিজেরা স্বদেশি থাকতে চায়, কিন্তু মুসলমানদের বাংলাদেশে তাড়াতে চায় । বরাকেও তাই । তাই এক বড় অংশ ভাজপা-র সমর্থক । নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভাঙা একেই বোধহয়   বলে । এই হিন্দুদের সমর্থনেই আই-এম-ডি-টি বাতিল হলো । এখন ডি-ভোটার হলে বা বিদেশি  বলে ওপারে তাড়া খেলে চেঁচায় কেন ? ওই ফেডারেশনও  আসলে হিন্দুদের সংগঠন । হিন্দুদের নিয়েই মাথা ব্যথা। গেল শরতে আসুর বিদেশি  খেদা অভিযানে ওরাও সঙ্গে ছিল । মুসলমান  পিটিয়েছে । এরা নির্বাচন বয়কট করবে !! ভাবাই যায় না ! হোজাইতে দেখলাম ওদের একটা পক্ষ এইউডিএফ-কে সমর্থণ জানাবে বলাতে অন্যেরা চটে লাল । সে পক্ষ বোধহয় ভাজপার-পক্ষে ছিল । ভাজপা বলছে, শুরু থেকেই বলছে , ‌হিন্দুরা শরণার্থী, বিদেশি  নয় । অগপ মুখে অন্তত হিন্দু মুসলমান ভাগ করেনা । কিন্তু এবারের নির্বাচনে সর্বানন্দ সনোয়াল কিন্তু তিনসুকিয়া মার্ঘেরিটার বাঙালিদের ভীড়ে এই কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন যে হিন্দু বাঙালিরা বিদেশি  নয় । এখন শুনছি তিনি ভাজপাতে যোগ দিলেও দিতে পারেন ।
        এই ভাজপা সবাইকে খাবে । অসমিয়াদেরও, হিন্দু বাঙালিদেরও আর মুসলমানদেরতো বটেই । অসম আন্দোলনের সমর্থণে ভাজপা আগে ভাগে ছিল । আই আম ডি টি আইন বাতিলের আন্দোলনেও ওরা সরব ছিল । সেই আন্দোলনের ফসল অসম চুক্তির দৌলতে এখন হিন্দুরাও তাড়া খাচ্ছে, ডি-ভোটার   হচ্ছে । তবু হিন্দুরা স্বপ্ন দেখছে, এই ভাজপাই ওদের বাঁচাবে । অন্তত মুসলমানদের ভাজপাই তাড়াবে আর কেউ নয় !! মুসলমান অসম থেকে গেলে কী হবে ? অসমিয়া হিন্দু ভাইরা বাঙালিদের বুকে তুলে নেবে , না নিচ্ছে ? বরং সংখ্যাতে বাঙালি আরো কম, আরো দুর্বল হবে । হবে কি ?
        না, এতো বোকা হিন্দু বাঙালি নয় । তার রক্তে আছে ব্রিটিশ-ভারত তথা বাংলার চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদারির রক্ত । মুসলমানরা হিন্দু নিম্ন বর্ণের সঙ্গে মিলে ব্রাহ্মণ-কায়স্থ জমিদারদের প্রজা ছিল । সেই জমিদারির নেশা এখনো যায় নি । আমাদের বরাক উপত্যকার সাংসদ-বিধানসভা সদস্যদের আচার আচরণেই তা স্পষ্ট । এখনো সে কেন্দ্রীয় সরকার আর চাকরির বড় ভাগটাই নিজের দখলে রেখেছে । সন্তোষ মোহন থেকে ভারি মন্ত্রী নেই । আর বেঙ্কে, রেলে, চা-বাগানে ব্যবসা-বাণিজ্যে বাঙালির চেয়ে করো ভার বেশি  নেই ।   তার জন্যেই এরা অসমিয়াদের বিরুদ্ধে খুব একটা মুখ খুলে না , কিন্তু মুসলমানদের তাবে রাখতে চায় এখনো । আর তাবে রাখবার স্বপ্ন দেখছে অসমিয়াদেরো । কারো কারো স্বপ্ন আছে মুসলমান চলে গেলেই অসমে সংখ্যা গরিষ্ঠ হবে হিন্দু বাঙালি । তখন এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে । তাই আপাতত ভাজপা-অগপ জোট । যা আসলে বাঙালি-অসমিয়া জোট ।
অসমিয়াদের স্বপ্ন এই নয়া-অসমিয়াদের হয় আরো বেশি অসমিয়া বানাও, নতুবা দর কষাকষি  করতে অপারগ আরো দুর্বল আরো সস্তা শ্রমিক বানাও । ঠিকার কাজগুলো আসমিয়ারাই করে কিনা । সস্তার ঠকার শ্রমিক তাদেরই চাই । বাঙালিদের স্বপ্ন---  হয় বাঙালি হও । নতুবা বাংলাদেশে যাও ।
এ আসলে হিন্দু বাঙালি আর অসমিয়ার  ছদ্মবেশী লড়াই  । যা কাল না হলে পরশু সামনে আসবেই । কে জেতে দেখতে হবে । মুসলমানেরা কিন্তু বোঝে না এই অসমিয়া-বাঙালির লড়াই । তারা এও জানে না তার দেশ কোনটা । কারণ সে কৃষক। সে শ্রমিক । তার চাই কাজ, তার চাই জমি । কপাল যেখানে তাকে এগুলো জোটাবে সেখানে সে  যাবে । মারতো তাকে সর্বত্র খেতেই হয় । ভারত হোক আর বাংলাদেশে । ব্রহ্মপুত্র হোক আর বরাকে । তার একমাত্র তাই এখনো আল্লাই ভরশা !!!!   
এই মুসলমানদের পক্ষ নিয়ে কথা বললে সবই ক্ষেপে যায় । এ বুঝি ধর্ম নিরপেক্ষতা হলো না !! তখন ভাজপারাও সমদর্শী হয়ে পড়ে ! আর সরকারী বামদেরো চোখ-মুখ কেমন আবছা হয়ে যায় । দুপক্ষেরই সাম্প্রদায়িকতা বুঝি সমান বিপদ ! নিকুচি করেছে সম-দর্শনের । কোথায় রাজা ভোজ আর কোথায় গঙ্গু তেলি ! এ হল হিন্দি সিনেমার ডায়ালগ । মনে পড়ে গেল । কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রীর সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে ধুবড়ির দূর প্রত্যন্ত চরের গেঁও কৃষকের  বুঝি সম-দর্শণ ! আগে স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়-বেঙ্ক-রেল-তেল-কয়লা-চা-বাগান সবেতে মুসলমানদের এনে সমতা  দেখাও , তার পর সমানে সমানে কুস্তি কর ।         তার জোটে না ভাত, তাকে    কেউ শেখাবে বিহু, কেউ পড়াবে  রবীন্দ্রনাথ !! এ বিপদ থেকে বাঁচতে সে পাঁচ  ওক্ত নামাজ পড়ে, আল্লাহকে ডাকে । বেশ করে । আরো করবে । যতদিন আল্লাহ তাকে মুক্তি না দেবেন   এই শাষন শোষণ আর অত্যাচার থেকে ।
আজ যদি সংখ্যালঘুর অধিকারটা চিনের প্রাচীরেরে মতো আইনের প্রাচীর গড়ে সুরক্ষিত করে ফেলা যায় , তবে কাল মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গেলেওতো কারো বিপদ নেই পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো । কাল হিন্দু ধর্ম আর সংস্কৃতি বিপন্ন হবে কী করে ? বাঙালি হিন্দুদেরই বা তখন অসমিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠের থেকে ভয়টা কিসের ? আর যদি বাঙালি কাল অসমে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও যায় তবুও শংকরদেব-আজান ফকিরের আসন টলাবে বিহু নাচের ঢোল ফাঁসাবে এমন সাহসটা কার হবে ?
অন্যকে সম্মান আর সুরক্ষা দিলে নিজের সম্মান আর সুরক্ষাও   বাড়বে বই কমবে নাএরকম ভালো ভালো কথা কি হিন্দুদের কোনো ধর্ম গ্রন্থে সত্যি লেখেনি ? শঙ্কর-মাধবের বৈষ্ণব ধর্মে কি তেমন কোনো কথা নেই ? আমার বিশ্বাস হয় না । আর যদি বা আছে তবে সে শাস্ত্রবাক্যে কোনো হিন্দুর বিশ্বাস নেই কেন ? এইতো লাখ টাকার প্রশ্ন ! উত্তরটা কে দেবে ? কখন দেবে ?
--
লিখে শেষ ঃ ০২-০৫-০৯ রাত বারোটা ত্রিশ । পাঠাবো  জনকণ্ঠে