আমার চেতনার রঙে রাঙানো এই খেলা ঘরে:

~0~0~! আপনাকে স্বাগতম !~0~0~

***************************************************



Tuesday, 20 December 2011

কবি ঊর্ধেন্দু দাশের ঘরের ঠিকানা

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
টুকরো কথার চলচ্চিত্র
(১)
(২)
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
          
( গেল ২১শে নভেম্বর, ২০১১ থেকে ১২ ডিসেম্বর, ২০১১ অব্দি যাদব পুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ এবং একাডেমিক স্টাফ কলেজের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ১০ম উজ্জীবন পাঠমালাতে অংশ নিয়ে পরিবেশিত বক্তৃতা)




(লেখাটি গুয়াহাটির মাসিক কাগজ 'ব্যাতিক্রমের বইমেলা, জানুয়ারি,২০১৩' সংখ্যাতে ছাপা হলো, আয়তনের কথা ভেবে সম্পাদক শুরু থেকে এব্বং মাঝে মাঝেই কিছু অংশ ছেঁটে দিয়েছেন, তাতে তাত্বিক অংশটি বাদ পড়ে গেছে।)

      মিতাভ দেব চৌধুরী তাঁর ‘কবিরবাড়ি’ বইতে সন্দীপন চট্টপাধ্যায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে একটা মজার গল্প বলেছেন। ১৯৮০-৮১ সালে সন্দীপনেরা কৃত্তিবাসের হয়ে বইমেলাতে স্টল দিতেন। ওদের স্টলে একটা পেল্লায় সাইজের ঘণ্টা থাকত। অমিতাভ গেছেন তাঁর দুই এক বন্ধুকে নিয়ে। তাঁর এক বন্ধু, যার বাবা আবার সন্দীপনের বন্ধু, জিজ্ঞেস করল, ‘কাকু, ঐ ঘণ্টাটা কেন?” সন্দীপন বললেন, “ কী জানোতো        জয় ,ওটা হলো মহাকালের ঘণ্টা। আমাদের স্টলের বইএর কাটতিতো এমনিতেই কম, কারণ আমরা এক বেগ শঙ্কর বেচিনা—তাই এখানকার বই বিক্রি হলেই এই ঘন্টাটা বাজিয়ে দেয়া হয়। মহাকালকে জানিয়ে দেয়া হয় বাংলা সাহিত্যের উন্নতি হচ্ছেকিচ্ছুক্ষণ পর সন্দীপনের আড্ডার ব্যস্ততার সুযোগে বন্ধুটি গিয়ে সেই ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন। সন্দীপন  দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কী হলো জয়? অম্লানবদনে জয়ের উত্তর, “না কাকু, মহাকালকে জানিয়ে দিলাম ,বাংলাসাহিত্যের ছুটি হয়ে গেছে।” 
         আমরা সবাই জানি এ কিন্তু গল্পমাত্র নয়। মহাকালের দখলদারি নিয়ে আধুনিক বিশ্বসাহিত্য তাঁর পুরোটা সময় জুড়ে লড়াইটা করে গেছে। বাংলা সাহিত্য তাঁর বাইরে নয়। এই যে বাংলাসাহিত্য এগিয়ে গেছে বা তার ছুটি হয়ে গেছে-এর কোন পক্ষেই দাঁড়াবার ইচ্ছে আমাদের নেই,কারণ মহাকালের ইচ্ছে আমরা কেউই খুব ভালো জানিনা। ওটা বিজ্ঞানের কাজ অথবা রাজনীতির। আমাদের প্রশ্ন হলো এই এগিয়ে যাওয়া, ছুটি হয়ে যাওয়া কিম্বা পিছিয়ে থাকার কথাগুলো শুনলে মনে হয় না যে ঘটনাগুলো ঘটছে একটা সরলরেখা ধরে? এই সরলরেখাটা কি তবে স্থান? আচ্ছা সন্দীপনের ...বা সন্দীপনের নাম ভুলে যান, তাঁর মতো যেকোনো লেখকের প্রার্থনাটা কি সত্যি সত্যি মহাকালের কাছে? আমরা সবাই জানি চেপে ধরলে উত্তর বেরুবে, আগামী দিনের সংবেদী পাঠকের কাছে অথবা কেউ আরো বড় করে বলবেন, সমাজের কাছে। তার মানে, কাল থেকে স্থানটাকে আমরা আলাদা করতেই পারছিনা। তার পরেও এটা ঠিক যে অধিকাংশ লেখক অবচেতনে স্থানটাকে একটা স্বতন্ত্র এবং যথাপ্রাপ্ত সত্তা বলে ধরে নেন। ওটা আছে ,  কালটা গুরুত্বপূর্ণ। যে ছুটে চলেছে।  তাই তাদের কাছে কালের পেছনে ছোটা এবং আধুনিক হয়ে ওঠাটা খুব গুরুত্বপুর্ণ । এবারে, যারা সমাজ টমাজের কথা খুব বলেন, তাঁরা কী রকম ভাবেন? সেদিন আমার এক  খুবই বিদ্বান এবং বহু ঝগড়াতে পরীক্ষিত  প্রিয় বন্ধু,  আমাকে জানাচ্ছিল, তার এই বিশ্বাস প্রবল হয়েছে যে শিল্পের সমস্ত নীতিনিয়ম মেনেও শিল্পের জন্যে শিল্প বলে কিছু হতেই পারে না। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এ নিয়ে তাঁর সংশয়ের কারণটাই বা কী? বাংলা ভাষাতে কি কেউ বলেছে কখনো, যে হতে পারে? সে জানালো যে না, সে আসলে সার্ত্রে পড়ছে। তাই অনুভবটা আমাকে জানিয়েছে। আপনারা লক্ষ্য করে দেখুন, উনিশ শতকের সেই বিলেতি তাত্বিক ওয়াল্টার পিটারের ভূত সেই সোভিয়েত বিপ্লবের পর থেকে বাংলা ভাষাতে কেমন টিকে আছেন। তাও  সেই ওঝাদের মধ্যে যারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন ভূত তাড়াবেন বলে। অর্থাৎ পিটারের বিরোধী পক্ষই তাঁকে এই দেশে জীইয়ে রেখেছেন, কেননা সার্ত্রে, বা রমা রঁলা কিম্বা ঝধানভেদের মতো মহান ব্যক্তিত্বরা তাঁদের সেই নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন।  ফলত তাদেরো অস্তিত্বের একটা বড় অংশ বাস করছে সেই ওয়াল্টার পীটারের বা সার্ত্রের দেশে এবং কালে। যেটি হয়তো সার্ত্রের মতো মহান ব্যক্তিত্বের কাছেও কাঙ্খিত নয় কোনো ভাবেই।আমার সেই বন্ধুটিকে বলেছিলাম, ভাই, এই ভূত কিম্বা ভগবানের বিরুদ্ধে লড়াবার চাইতেও আরো বহু জটিল সমস্যাতে রয়েছে আমাদের অসমের শিল্প চর্চা। সেগুলো নিয়ে  ভাবা এবং কাজ করা উচিত। আমি নিশ্চিত, আমি তাঁকে কথাগুলো বোঝাতে পারিনি। কারণ একই রাজনৈতিক প্রদেশের একই সময়ের মানুষ হয়েও শিল্পচিন্তাতে দু’জনের দেশকাল আলাদা। তাহলে কি একই সময়ে আমরা একাধিক দেশ কালে বাস করি? সম্ভবত এরকম কিছু বহুত্বের সন্ধান পেয়ে  আজকাল  পোষ্টমডার্ণেরা এসে আমাদের আশ্বস্ত করছেন, এই বলে যে-- ভাই, পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা খুব বেড়ে গেছে। আগেও এটা সত্য ছিল, কিন্তু বোঝা যেত নাআজকাল বোঝা যাচ্ছে। সুতরাং আধুনিক যুগের  সমস্ত ধরণের মেটানেরেটিভগুলোর দিন চলে গেছে। এখন মাইক্রোনেরেটিভের যুগ। বলো, যে যা বলবার। 
          তাঁদের অনেক কথাই আমাদের প্রাণ ছুঁয়ে যায়। কেননা তাঁরা ক্ষমতার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, যেমন বলা হতো বা হয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কিন্তু অসম তথা পূর্বোত্তরের এক প্রত্যন্ত শহর ডিব্রুগড়ে বসে যে কবি ঊর্ধ্বেন্দু দাস গোটা জীবন জুড়ে এই প্রার্থনা জানিয়ে গেছেন, “...ঝড়ের মুকুট পরে ত্রিশূণ্যে দাঁড়িয়ে আছে, দেখো/স্বাধীন দেশের এক পরাধীন কবি,---তার পায়ের তলায় নেই মাটি/ হাতে কিছু প্রত্ন শষ্য, নাভিমূলে মহাবোধী অরণ্যের বীজ.../তাকে একটু মাটি দাও, হে স্বদেশ, হে মানুষ, হে ন্যাস্ত –শাসন!—/সামান্য মাটির ছোঁয়া পেলে /তারও হাতে ধরা দিত অনন্ত সময়;/হেমশষ্যের প্রাচীর ছুঁয়ে জ্বলে উঠত নভোনীল/ ফুলের মশাল!” তাঁর সেই প্রার্থনার কী হবে? এই কবির শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আমার মতো ভক্ত পাঠকের বাস । আমিতো আতঙ্কিত হয়ে যাই। যে মাটির কথা তিনি লিখেছেন সেটি কি সত্যি সামান্য? মাইক্রোনেরেটিভ?
       আমরা আসছি এই কবির কথাতে। কিন্তু তাঁর আগে স্থানকালের ব্যাপারটা  আরেকটু একটু বুঝে নিতে চাই। সবটা পারব বলে দাবি করাটাই হবে দম্ভ মাত্র কারণ যাকে আমরা বুঝতে চাইব সেইতো আমাদের সমগ্র চেতনা বিশ্বকেও নিয়ন্ত্রণ করছে।    আমরা যা বুঝি, আধু্নিকতার সময়ের ধারণাটি মূলত সরলরৈখিক। স্থানের ধারণাটি বৃত্তাকার। আজকাল ‘কেন্দ্র-প্রান্তে’র কথা বলাটা খুব ফ্যাসন হয়ে গেছে।  এই সময় একটা কেন্দ্র থেকে আলোর রেখার মতো  পরিধি বা প্রান্তের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে আমাদের চেতনবিশ্বকে গ্রাস করে ফেলে। স্পষ্টতই উত্তর গোলার্ধ্বের ঔপনিবেশিক এবং তাদের উপনিবেশের ধ্বজাবাহীদের স্বার্থের সঙ্গে এই ধারণাটি মাপে মাপে খাপ খেয়ে বসে যায়। উত্তর আধুনিকতা দিয়ে আমাদের কথা স্পষ্ট হবে না। বরং তাঁর আগের কলের জন্যে আধুনিকতাবাদের নিজেরই তৈরি    একটি শব্দ ‘মধ্যযুগ’কে  আপনারা স্মরণ করুন! কী ঔদ্ধত্য নিয়ে আমরা এই ভারতবর্ষেও যুগটির ‘বর্বরতা আর অন্ধকারে’র সন্ধান করে ফিরি এখনো। সেই সময়ের উত্তরাধিকার বাহক এক কবির কথাগুলো দেখুন,  “ কানাই তুমি খেইড় খেলাও কেনে?/রঙ্গের রঙিলা তুমি খেইড় খেলাও কেনে?/এই কথাটা হাসন রাজার উঠে মনে মনে/......কানাইয়ে যে করে রঙ্গ, রাধিকা হইতেছে ডঙ্গ...উড়িয়া যাইব ভোমরার পতঙ্গ, খেলা অইব ভঙ্গ...হাসনরাজায় জিজ্ঞাস করে কানাই কোন জন,ভাবনা চিন্তা কইরা দেখি কানাই যে হাছন...” কথাগুলো প্রাণখুলে গান করে গাইবার জন্যে কিন্তু তাঁকে কেউ এই দেশে মন্দিরে বা মসজিদে আগুনে পুড়িয়ে মারেনি, এই কথাটা মনে রাখতে হবে। আরো মনে রাখতে হবে যে বাংলা কবিতার আধুনিকতার জনকেরা যখন এলিয়ট নিয়ে মেতে উঠেছিলেন  কবি রবীন্দ্রনাথ  তখন  এই হাছন রাজার গান নিয়েই বেরিয়েছিলেন বিশ্ববিজয় করতে আর বলছিলেন জীবন   একটা 'লীলা' মাত্র হাছন রাজার ‘খেইড়’। আর এই তিনপক্ষই কিন্তু বাস করছিলেন একই দেশে, একই সময়ে। বিশ শতকের শুরুর সেটি বাংলাদেশ।   এবারে,  কানাইর  সেই খেলাটি কেমন  যেটি আবার ভেঙ্গেও যাবে, অথচ হাছনের মনে হবে যে তিনিই কানাই--- আমরা কয়েকটা ছবিতে খানিকটা  ধারণা দিতে পারি এর চেয়ে ভালো ধারণা পাওয়া যাবে  আপনাদের উইন্ডো মিডিয়া প্লেয়ারে ওডিও সিডি  চালিয়ে, রেনডম ভিস্যুয়েলাইজন চালিয়ে দিলে।   


         স্থানকালের এবং তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আমাদের চেতন বিশ্বের মানে, হাছন রাজার  এর চেয়ে ভালো সম্পূর্ণ এক বহু মাত্রিক ধারণা দেয়া আমার সাধ্যির বাইরে। কিন্তু যেটুকু দেয়া গেল তাতে অন্তত একটা কথা স্পষ্ট, যে যারা বলেন গ্রান্ডন্যারেটিভ আর সম্ভব নয়, এবার মাইক্রোন্যারেটিভের পালা  তারাও আসলে আমাদের আধুনিকতার কাছে আত্মসমর্পণের কথাই বলেন। এবং সেই কেন্দ্র প্রান্তিকতার ধারণা দিয়েই আমাদের বিবশ করে ফেলবার খেলাটি খেলেন। আপনারা লক্ষ্য করে দেখুন বিশৃঙ্খলা আর শৃঙ্খলার কেমন একটা দ্বান্দ্বিক লীলা চলছে ঠিক যেন যেন রাধা আর শ্যামের মতো। আমি জানিনা, ‘ভাব’ শব্দটির ব্যবহার করে রাধাশ্যামের সেই লীলার দিকে আমাদের চোখ ফেরাতে চাইছেন কিনা  বাংলাদেশের নাস্তিক, মার্ক্সবাদী ভাবুক কবি ফারহাদ মজহার। ব্যাপারটা নিয়ে আমি ভাবছি। কোথাওতো ওদের আর আমাদের অভিমানগুলো মেলে।  ঊর্ধ্বেন্দু দা আমাদের অসমের সেই কবি যিনি জীবনজুড়ে এই বিবশতার বিরুদ্ধে লিখে নেবার স্বপ্ন দেখেছেন সেই মহাআখ্যান যেটি  আধুনিকতাকে প্রত্যাহ্বানের মুখে ঠেলে দেবে।  উচ্চারণ করেছেন, “ ......ভরা দুপুরের রোদে, দ্বিধার দুয়ারে দাঁড়িয়েছে তৃতীয় বিশ্বের /পাথুরে মানুষ।তার ঘরে বাইরে, তর্জনী তুলে ,দুই মেফিস্টোফিলিসঃ /একজন বন্ধক চাইছে তার মেধা, অন্যজন নিরঙ্কুশ তাহার বিবেক---/ দুদিকে মৃত্যুর হাত। হেলিওট্রপিক আঁচে চকিতে ঝলসে ওঠে গ্রানিটের তৃতীয় নয়ন--” (তৃতীয় বিশ্ব) মুষ্ঠিবদ্ধ হাত নয় কিন্তু, ‘গ্রানিটের তৃতীয় নয়ন’ কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।  দ্বিধার দুয়ারে  উঠে দাঁড়ালো  যে মানুষ তাঁকে এই কথা বলবার লোক প্রচুর পাওয়া যাবে, পথে নামলেই পথ চেনা হবে।  বটে। কিন্তু সেতো যথাপ্রাপ্ত দুটো চোখের কাজ মাত্র। সে পথে অনুগমন করা যেতে পারে, চাই কি মেধা আর বিবেককে বন্ধকও রাখা যেতে পারে নিজের অজান্তেই।   ঠিকানাটা কি  জেনে নিতে হবে না?  এতো শুধু ঠিকানাই ঠিক করে দেয় মানুষ তাকাবে কোন দিকে, কত দিকে । কতদূর অব্দি, কতটা সীমানা  ডিঙোবে  তাঁর চোখ । তারই নাম তৃতীয় নয়ন। অথবা বিশ্ববীক্ষা।  তাই খুব স্পষ্টভাবেই কাজটা করে নেন ঊর্ধ্বেন্দু। আমরা পুরোটাই তুলব। আমরা বাংলার রূপসী রূপ দেখেছি বাংলা কবিতাতে। অসমের অসমী রূপ দেখিনিতো এতোটা সুন্দর এর আগে। লোভ সামলানো মুস্কিল আছে। কবিতাটি সনেট।  নাম “ঘরে ফেরার দিন”
          দোপাটির গোছ খুলে অঢেল চুলের রাশ কবরীর প্রান্তে ছড়িয়ে,
          জলের ঝালর –ঘেরা চোখের তারার হাসি থরো-থরো ওষ্ঠে ঝরিয়ে,
          শিমূল-ঝরার দিনে পাহাড়তলির ঘন আলতায় পা-দুটি ডুবিয়ে
          সম্রাজ্ঞীর মহিমায় ভাস্বর তোমার ছবি কতকাল ভুলতে পারিনি!---

          শিমূল ঝরার দিন অতঃপর পৃথিবীতে বারবার এসে, চলে গ্যাছে—
          নির্জন বনস্থলী, ঝরনার সিম্ফনি, বলাকার ডানায় কেঁপেছে;
          অরণ্যের চন্দ্রাতপে সূর্যের আলপনা-গায়ে দেহাতিরা ঘরে ফিরে গ্যাছে—
          নাহর ছায়ায় হেঁটে কখন বিকেল এলঃ তুমি আর ফিরেও ডাকোনি।–

          আমার উঠোন জুড়ে আমার সতর্কপদ বিকেলের রোদের ক্রমণ,--
          চৈত্রের বিবর্ণদিন ; বিশীর্ণ প্রপাত ঘিরে ঝরঝর জলের পতন;
          অদূরে বিচিত্র-সাজ পার্বতী-রমণীর ভারনত শিলাবতরণ—
          মেঘে মেঘে বেলা যায়, আমার অপূর্ণ ঘট ভরা তবু হয়েতো ওঠেনি!_

          সম্মুখে আঁধার রাত, দুর্গম চড়াই –পথ হেঁটে তবে তোমার সীমানা—
          মা, তুমি নিশ্চিত জেনো, সোনালী সূর্যোদয়ে পৌঁছবো ঘরের ঠিকানা।
       
          কবিতাটা নানা ভাবেই পড়া যায়। এই মা ভারত হতেই বা আপত্তি কী? কিন্তু তিনি যেন কোথাও পূর্বোত্তর বা অসমের কথাই মনে করিয়ে দিতে চাইছেন। সে কেবল কতকগুলো জল ঝরনা আর পার্বতী-রমণীর কথাতেই নয়, নাহর , পাহাড়তলির মতো বিশুদ্ধ অসমীয়া তদ্ভব শব্দ দিয়েও। নিখাদ তৎসম শব্দের পাশে  এমন বিশুদ্ধ অসমীয়া তদ্ভব বা দেশি শব্দের ব্যবহার তাঁর আরো প্রচুর কবিতাতেই পাওয়া যাবে, তেমনি পাওয়া যাবে ‘আচানক’, ‘আচাভূয়া’র মতো সিলেটি বা অন্যান্য উপভাষার বাংলা শব্দ বাক্য, এমনকি ‘বাঞ্চোৎ’এর মতো অপাংক্তেয় শব্দও কেবল কি সেই দেশের সমাজ আর প্রকৃতির সৌন্দর্য? কী আশ্চর্য কৌশলে তার সংকটের বয়ানও নির্মাণ করছেন , অথচ  কোনো বিদ্বেষ নেই। আছে অভিমান , "তুমি আর ফিরেও ডাকোনি!--”
এখানে একটা কথা বলে নেয়া ভালো, এই একটি কবিতা ছাড়া আর কোথাও তাঁর কবিতাতে দেশ ‘মা’ হয়ে ধরা দেয়নি, দিয়েছে প্রেয়সী হয়ে। হয়তো বা কোনো কোনো কবিতাতে তার নামটি ‘যশোধরা’।  একাধিক কবিতাতে এসছে নামটি, ‘পিছু ডাকে’ কিম্বা,’ কথা তো থাকেই’ কবিতাগুলোতে যেমন। এই নিয়ে তর্ক উঠতেই পারে, কিন্তু আমাদেরতো এমনটি ভেবে নিয়ে কোনো বেগ পেতে হয় নি। তাঁর অগ্রজ কবি অমলেন্দু গুহের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে, ‘লুইত পারের গাঁথা।’ এটি অসমীয়া ভাষাতেও একটি বিখ্যাত দীর্ঘ কবিতা। বাংলা ভাষাতে বোধহয় আর কোনো কবিতা নেই যেটি দুটো ভারতীয় ভাষাতেই লেখা হয়েছে এবং দুই ভাষাতেই সুপরিচিত এবং বিখ্যাত কবিতা। মানে ‘অসমের বাংলা কবিতা পাঠকের কাছে খ্যাতি’ কথাটার যদি কোনো মানে কিম্বা মর্যাদা থাকে তবেতো বটেই।অসমীয়াতে কবিতাটির নাম ‘লুইতপারর গীত’ সেই একটি দীর্ঘ কবিতাতে কবি ধরবার প্রয়াস নিয়েছেন অসমের প্রকৃতি, ভূগোল, সংস্কৃতি, সমাজ, রাজনীতি হাসি, কান্নার সবটাই। এবারে তাঁর এই কবিতাকে মনে রেখে ঊর্ধ্বেন্দু দাও একটি কবিতা লিখেছেন, ‘সীমান্তের গাঁথা’।  খ্রিষ্টীয় দিনপঞ্জির হিসেবে দুটো কবিতার সময়ের ব্যবধান কয়েক দশকের। এই সময়ে অসমও ভেঙ্গে খাটো হয়েছে অনেক । এবারে অমলেন্দু স্বপ্ন দেখছেন, “জীবনের ডালে ডালে সাতভাই চম্পারা রয়েছি সজাগ/ পারুলের চোখে পরি মেখে দিক শান্তির পরাগ!” এবারে এই সাত ভাই চম্পাকে আজকের মতো সাতটি স্বতন্ত্র প্রদেশ বলে ভাববার কোনো কারণ নেই। অনেকগুলোই কিন্তু জেলা মাত্র। তাদের ঐক্যসূত্রটি রূপকথার ‘পারুল’ , অসমীয়া কবিতাতে সে হয়েছে, “তেজিমলা ভনীটি’। ঊর্ধ্বেন্দু লিখছেন , “মরমিয়া সখি, তোকে বলে রাখি আজ,/ আবার চিকুরে গুঁজবো কপৌ, ফুলে ফুলে তোকে করে ফুলরানি/ ভালো করে দেখে নেব চাঁদের পরাগ-ঝরা রাতে তোর রূপ যৌবনখানি।“ ইতিমধ্যে কিন্তু লুইতের জলে বয়ে,  গেছে বহু বহু জাতি-ধর্ম আর শ্রেণি বিদ্বেষের রক্ত। তার পরেও যিনি এই প্রেমের কথা বলবেন তাঁকে আমাদের বুঝে নিতে হবে বৈকি। ‘বোন’ ভাবার মধ্যে একটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে, ‘মরমীয়া সখি’র সঙ্গে সম্পর্কটি একেবারেই স্বেচ্ছানির্বাচন। আমরা মনে রাখতে বলব অমলেন্দু গুহের জন্ম কিন্তু ১৯২৪শে ইম্ফল শহরে। অমলেন্দু গৌরবের সঙ্গেই বলেন ‘মই অসমীয়া মই মৈমনচিঙিয়া।’
    
            মজা হচ্ছে, কলকাতার বাংলা ভাষাতে যখন একদল কবি লিখছিলেন “প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য”, তখন অসমের বাংলা কবিতাতে তাঁদেরই রাজনৈতিক সহযাত্রীরা  শোনাচ্ছিলেন,চিকুরে কপৌ ফুল গোঁজার, শিমূল ঝরার গল্প আর ঝরণার সিম্ফনি। ঘটনাটা ঘটছিল রাজনৈতিক বিশ্বাস নির্বিশেষেই।    এটা কি ঠিক পিছিয়ে যাওয়া ? এমনটাই কিন্তু মনে করতেন সত্তর আশির বাম ঘরানার অনেক কবি লেখকেরা , যারা ‘কলকাতা’ নামের ঔপনিবেশিক নির্মাণটির দিকে নির্দেশের জন্যে তাকিয়ে থাকতেন। নিজেদের পূর্বসূরীর দিকে ভুলেও তাকাতেন না।  সম্ভবত অমিতাভ দেব চৌধুরীরই ‘তৃতীয় নয়নে’ই প্রথম ধরা পড়ে যে অসমের এই ঝরনার সিম্ফনিগুলো ছিল একেবারেই রাজনৈতিক নির্মাণ। অমিতাভ তাঁর ‘কবির বাড়ি’ বইতে প্রকাশিত দুটি প্রবন্ধে এবং অন্যত্র এর সুচিন্তিত ব্যাখ্যা করেছেন। মনে করিয়ে দিয়েছেন ১৮৭৪ থেকে শুরু করে সিলেট তথা পূব বাংলার এবং অসমের রাজনৈতিক ভূগোলের বারবার যে পরিবর্তনগুলো হচ্ছিল এবং ইতিহাসের বিপর্যয়গুলো ঘটছিল, সেই সঙ্গে কলকাতা নামের বাংলাবিশ্বের কেন্দ্রটির যে চরম ঔদাসীন্য দেখা যাচ্ছিল তাতেই এরকম ঘটনা সম্ভব হচ্ছিলতিনি লিখছেন, “ গোটা বাংলা সাহিত্যের   নিরিখেই তাঁদের এই প্রতিবেশ- চেতনা প্রায় নজির বিহীন, যেখানে প্রকৃতির কবি রূপান্তরিত হয়ে পড়েছেন ভূগোল সচেতনার কবিতে।” (ঘর হারানো ও ঘরে ফেরার দোটানায় বরাক উপত্যকার বাংলা সাহিত্য) একে তিনি স্পষ্টই কলকাতার মূলস্রোত থেকে বেশি তাৎপর্যময় ‘নন্দন-প্রস্থান’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। স্মৃতির ‘বাংলাদেশ’ কিম্বা স্বপ্নের ‘কলকাতা’তে ভ্রমণ অনেকেই করেছেন, কিন্তু ঊর্ধ্বেন্দু দাশের মতো কবি যেন শুরু থেকেই জেনে গেছেন, “এই বাস্তবের পৃথিবীর শিশিরবিন্দুগুলিকে ভালো না বেসে, তার থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে কবি যদি শুধু ঘুরে বেড়ান এক অতৃপ্ত মানসলোকে কিম্বা স্মৃতি পৃথিবীতে---তাঁর এই পর্যটনতো, পুরাণের ভাষায় বললে, গণেশের সেই মাতৃপ্রদক্ষিণ, যা আসলে কার্তিকের প্রকৃত ভ্রমণটিকে দাবিয়ে রাখার বানানো এক নিপুন কথার ফাঁদ।” ( অমিতাভ দেব চৌধুরী, অসমের বাংলা কবিতা চর্চা, অগ্রবীজ, ৪র্থ বর্ষ,১ম সংখ্যা, পৃঃ২৫১)
             আশ্চর্য এই যে ১৯৪২এ বাংলাদেশে জন্মানো কবি উর্ধ্বেন্দুর কবিতাতে কোত্থাও কোনো স্মৃতি মেদুরতা নেই। লিখছেন, “ এখানে অনেক কিছু পাব বলে আমি এই প্রথম-ঊষার শিরোদেশে/ কত পিছুটান ছেড়ে, স্মৃতির বিষাদ ভুলে,কতবার এসেছি যে ছুটে!--/ এখানে অরণ্য ছায়ে, মেঘমৌলি পাহাড়ের কোল ঘেঁষে,অন্য এক জীবনের ডাক আমাকে ঘিরেছে কত, আমাকে শুনিয়ে গেছে কত শত প্রত্যাশার গান---”  এটি খড়কুটো কবিতার ৯ নম্বর স্তবক। এতেই আছে, ৩ নম্বর স্তবকে সুরমা নদীর কথা, “ ‘ এই নদীটির নাম কী করে সুরমা হলো ভাবি’---এই বলে/ নাবাল প্রান্তর হতে হিমে ভেজা এক ফালি তৃণের সলিতা তুলে নিয়ে/ আনমনে মুছে দিল প্রগাড় সুরমার টান;...” এই একই কবিতাতে স্তবকের পর স্তবকে তিনি নির্মাণ করছেন, অসমের আর সব নদী লুইত, মধুমতী, ভরলির গাঁথা। বাংলাদেশ তাঁর কবিতাতে এসছে যখন           “ রূপসী বাংলার বুকে পরোয়ানা হয়ে গ্যাছে জারিঃ/ মানুষের অধিকারে বেঁচে থাকা চলবে না আর---/......এখন ওপারে চলছে বোঝাপড়া, মুক্তি আর দাসত্বের মাঝে।--- সোনালী সূর্যের দীপ্তি ম্লান করে ওড়ে জয়-বাংলার পতাকা/... বিস্মিত শতাব্দী মূক, ইতিহাস ত্রস্ত, শুনে অশ্রুত এ বিপ্লব- কাহিনি।”  ( এখন ওপারে জ্বলছে) । লক্ষ্য করুন ‘রূপসী বাংলা’র থেকে তিনি যেন সজ্ঞানেই পশ্চিম ভাগটি ছেঁটে দিয়েছেন। এই পশ্চিমভাগের নির্মাণেইতো আর পুরো পশ্চিমটি নেই, সে মূলত নগর ‘কলকাতা’। অজস্রবার এসছে এই নগর তাঁর কবিতাতে , কিন্তু এক প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিপক্ষ রূপে যে কিনা অসম তথা পূর্বোত্তরের বাঙালি ভূবনের সমস্ত স্বপ্নকে ব্যর্থ করার, কিনে নেবার ফাঁদ পেতেছে। “রানুদি ও সাতটি কৃতঘ্ন বছর” কবিতাটিতে রাণুদি এসছিল কলকাতাতে পায়ের নিচে মাটি পাবে বলে। “ সময়ের ছকবাঁধা ঘোরে রানুদির জীবন-ঘড়িতে—তারই সাথে পার্ক-স্ট্রিট, ডালহৌসি,বিডন-স্কোয়ার/ ট্যুশন, চাকরি আর ঘরে ফেরা নিয়ে ব্যস্ত রানুদির সমস্ত সময়/ তারপর রাত্তির নামে হিজিবিজি ছোপ এঁকে কলকাতার মুখেঃ রানুদি চঞ্চল হয় অসতর্ক মুহূর্তে, কখনো---/হোজাইয়ের বাড়ির কথা, মা-বোন-ভায়ের মুখ অস্পষ্ট ভাসে, ঘুমন্ত স্মৃতির দোরে হানা দ্যায় হিসেবি বাতাস...” কবিতাটি একটি গল্প। এমন অজস্র গল্প তিনি কবিতাতে লিখেছেন। এবং ছোট গল্পের মতোই শেষের দিকে তার মোচড়টি থাকে। একটা কেরানির চাকরি জুটিয়েছিল রানুদি।সেখানে অফিসার শূর তাকে স্বপ্ন দেখালো আই এ পাশ করতে সে আরো উঁচুতে উঠতে পারত। রাতের কলেজে পড়ে গ্র্যাজুয়েট হলো রানুদি। এবারে অফিসার শূরের প্রস্তাব “ হয় কলকাতা ছাড়ো, নতুবা পটের বিবি হও... কিন্তু অসমের বোকা মেয়েটি নিতান্ত মূঢ়তায় / পি শূরকে জুতো মেরে হঠাৎ-ই ইস্তফা দিল কেরানি-জীবনে।” তারপর যা হলো, রানুদি হিসেব করতে বসে “কোথায় হারালো তার সাত-সাতটি কৃতঘ্ন বছর!---” হিসেব মেলেনা, যদি মিলত “ শেষ হতো রানুদির নিরন্তর অন্বেষণ তবে---”
         তাঁর কাব্য ভাষাতে কলকাতার থেকে তিনি সমস্তটাই নিয়েছেন, সেখানে কোনো দ্বিধা দ্বন্দ্ব নেই। গুয়াহাটির ‘নাইন্থ কলাম’ সম্প্রতি তাঁর ‘নির্বাচিত কবিতা’ ছেপে বের করেছে। সেখানে ভূমিকাতে বাসব রায় সঠিক ভাবেই চিহ্নিত করেছেন তাঁর  কবিতা তৎসম শব্দবহুল, এবং এর জন্যের বাসব রায়ের মনে হয়েছে, হয়তো এজন্যেই একালে বহুপঠিত নন তিনি। কিন্তু এও স্বীকার করেছেন তাঁকে না পড়লে কবিতা প্রেমীরই ক্ষতি। হয়েছে এই যে বাংলা সাহিত্যের তথাকথিত পঞ্চপ্রধানের  এবং তাঁর সময়ের সুনীল, শক্তিদের   যা কিছু সম্বল তাঁর কাছে নেবার মনে হয়েছিল তিনি নিয়েছেন, আয়ত্ত করেছেন। কারণ তা নইলে শুরুতেই তাঁকে এই অভিযোগের মুখে পড়তে হতো যে তিনি ‘স্বপ্নের কলকাতা’র বাংলা সাহিত্যের কোনো খবরই রাখেন না, অথবা মান বাংলা ভাষার উপর সেরকম দখল তাঁর নেই। কারণ এর পরে তিনি যে কাজটা করবেন, তাতে এমন অভিযোগের মুখে তাঁকে পড়তে হতোই। এই সমস্যাটা তাঁর পূর্বসুরী দুই কবি অমলেন্দু গুহ বা হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কবিতাই বলে দেয়, তাদের হবার ছিল না। তাঁর এই কাজটি হলো, আগেই বললাম, কলকাতা তাঁর কবিতাতে শুরু থেকেই একটা প্রতিপক্ষ। এরই সঙ্গে সম্পর্কিত তিনি কলকাতার এই প্রতিজন কবিকে প্রধান কবিকে যেন পুণর্নিমাণের করছেন। যেমন ‘এই দীর্ঘ চলে যাওয়া’ কবিতার পংক্তিগুলো। ‘বনলতা সেনে’র সেই হাজার বছর ধরে পথ হাঁটার কথাগুলো স্মরণ করুন। উর্ধ্বেন্দু লিখছেন, “...এমনি সামূদ্র স্বন হয়তো উচ্ছ্রিত হত/ মালয়, পারস্য, কিম্বা মিশরের শ্বেত উপকূলে,/ হয়তো এমনই মেঘ মালিনীর তন্দ্রাহর ডাকে/ হাজারো অর্ণবপোত বাণিজ্যবায়ুর টানে/ ভেসে  যেতে, পাড়ি দিত একদা অকূলে।--...” এর খানিকটা পরেই আছে, “ দেখেছি দিনান্তে স্নিগ্ধ ,প্রণতি মূদ্রায় স্থির, সন্ধ্যাপ্রদীপ হাতে যে বধুটি মাগে রোজই স্বামীর অক্ষয় পরমায়ু,/অথবা কল্যাণ যাচে যে নারীটির প্রিয়জন, সন্তান ও সন্ততির তরে,/রজনী প্রভাত না হতেই /কীর্ণ হাহাকারে তার কেঁপে    বসন্তের চকিত বাতাস,--/স্তিমিত কুসুম যায় মুহূর্তে ঝরে।--...” এর পাশে বনলতা সেন দাঁড়ায় কী করে আর কোনখানে?  তাই বলে কি নিতান্তই সাংসারিক ভার শূন্য প্রেমের কবিতা তিনি লেখেন নি? খুব লিখেছেন।  “ যেমন মৃত্তিকা ছেনে শিল্পীর তন্ময় হাত গড়ে তোলে মানস প্রতিমা,/ যেমন পুরুষ স্পর্শ অনুস্বরে ভেঙ্গে দেয় কিশোরীর  বেলোয়ারি ঘুম---/... যেমন খরার শেষে অমোঘ বৃষ্টির ঠোঁট নেমে আসে পাহাড়ের পাণ্ডূর ললাটে,/তরল তৃষ্ণার তোড়ে বেসামাল ছুটে আসে টিরাপের পারভাঙা ঢেউ/...তেমনি তোমার বুকেঃ অনশ্বর অই দুটি বুক,--/  স্বেদ ও শ্রোণিতে আর্দ্র স্তন-ওষ্ঠ-বাহুমূল,/ শ্রোণিযুগে থরো-থরো হিমগলা সূর্যের প্রপাত--/......যশোধরা, তুমিও যে অনুক্ষণ আমাকে ভেঙ্গেছ--/ অনুবিশ্ব আমাকে গড়েছ!...” এবারে এই ‘যশোধরা’টি , আগে যেমন লিখেছি তাঁর প্রেয়সীই না স্বদেশ, স্বপ্রদেশ—এই প্রশ্নতো সংগত কারণেই ওঠে।
তাঁর একটি কবিতা আছে, শুধু কবিতার জন্য নামেই প্রকাশ কাকে নিয়ে পড়েছেন তিনি। তিনিও লিখেছেন, “শুধু কবিতার জন্য বেঁচে থাকা চলতে পারে শতেক জীবন” কিন্তু তার পরেই যখন লেখেন, “  কবিতার জন্যে মায়ের হৃদপিণ্ড ছিঁড়ে, প্রেমিকার পদতলে/ দেওয়া যেতে পারে উপহার।---তখন তার মানেটাই অন্য দাঁড়ায়। সুনীলের ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতা পুনর্নিমাণ হচ্ছে এই ভাবে, “...আর আমি, মুহুর্মুহু ভাষা –ধর্ম-প্রজাতির বেজন্মা ঘূর্ণির চোরাটানে/ তেত্রিশ বছর আজ ছিন্নমূল, বিপর্যস্ত, ধ্বস্ত, বানভাসি।---”। কবিতার নাম ‘ক্ষমা নেই’ এর শুরুটাই এরকম ‘কবি-ভবনের পোষা কাকাতুয়া, তুমিও কি শেষে/ পরবশ্যতার মানে নিপাতনে আমাক শেখাবে?—আমিতো আজন্ম রুদ্ধ, পদাহত,মূক, পরাধীন...”    
   
 বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কিছু প্রবাদপ্রতীম বাক্যকে তিনি তুলে নিয়েছেন তাঁর কিছু কবিতার নামে যেমন ‘কেউ কেউ কবি’ বা ‘পথিক, তুমি কি পথ হারাইয়াছো?”  ‘কেউ কেউ কবি’তে তিনি প্রশ্ন তুলছেন “তুমি তো স্বয়মাগতা,-- তবুও তোমাকে কোনো চড়াদর স্বৈরিণী ভেবে/ কালপুরুষের চোখে ফুটে ওঠে মৃত্যুর অমোঘ ইশারা!/...” দীর্ঘ কবিতার একেবারে শেষে লিখছেন, “যখন কবিতা, তুমি বালিয়াড়ি ভেঙ্গে             ভেঙ্গে ,স্মৃতির অতীতে দাও পাড়ি ,তখন একাকী আমি জেগে রই, নাক্ষত্রিক বোধের ভিতর।--/ সকলেই কবি নয়। মেধার অলকে বেঁধে হৃয়ের সংহত শর/ আমি তো কবিতা লিখিঃ তাই বলে আমিও কি কবি?----”  আমাদের আনখশির কাঁপিয়ে তুলে এই শেষ অতি সরল বাক্যটি। সত্যিই কি এই প্রশ্নের জবার দেবার কোনো যোগ্যতা রয়েছে ‘স্বপ্নের কলকাতা’ নির্ভর বাংলা কবিতাবিশ্বের? আমরা এই ‘কবিতাবিশ্বে’র ব্যবহারটি  সচেতনভাবেই এখানে করছি।  আমাদের স্বপক্ষে রয়েছে তাঁর ‘কালাপাহাড়’ কবিতাটি। অন্য যেকোনোভাবেই কবিতাটি পড়া যেতে পারে। কিন্তু যখন লেখেন, “আমি একাধিকবার পারিপার্শিক পৃথিবীর হাতে/ গভীরভাবে নিগৃহীত হয়ে, তোমার কাছে ছুটে গিয়েছি...” আর ‘তুমি অবলীলায় গভীরতর অন্ধকারে তলিয়ে নিয়েছ!” তখন আমাদের শুরুতেই এই কলকাতা বা পশ্চিমবাংলা ছাড়া আর কারো  কথাই মনে পড়ে না সেখানে তিনি যেন সমস্ত পূর্বোত্তরের হয়ে ‘নন্দন প্রস্থানে’র প্রথম বাক্যটি উচ্চারণ করে আজ থেকে চার দশক আগেই লিখছেন, “ আজ উত্তর পঁচিশের নিস্তরঙ্গ জীবন বৃত্তে  দাঁড়িয়ে, আমি/ আমার চৈতন্যের বিশাল বোধিদ্রুমের মূলে/ নিষ্ঠুর   কুঠার হানবঃ খান খান ভেঙ্গে ফেলব,তোমার চোখে দেখা আমার  ক্রীতদাস সত্তাকে;...” অবশ্যি, এই ‘তোমার চোখ’কে ‘বিলেতের চোখ’ বলে ভাবতেও অসুবিধে কিছু নেই। কিন্তু সত্যিকি কিছু তফাৎ রয়েছে এই দুইএতে ? দুটোই কি অস্ত সূর্যের পশ্চিমা চোখ নয়, সামনে যার এখন ‘তমসা’ কেবল? যাদের চোখে আমাদের মুখচ্ছবি ভেসে উঠে না কিছুতেই। ভালোবাসাবাসির কথা হবে কী করে? অতি সম্প্রতি রণজিৎ দাশের একটি কবিতা পড়লাম। ‘বোধি’ ‘অগ্রবীজ’ কাগজে । জলপাইগুড়ি বা পুরুলিয়ার ‘তিনজন হার্ড-কোর কলকাতা বিদ্বেষি কবি বন্ধুর সঙ্গে’ কোনো এক মফস্বল শহরে আড্ডা দেবার গল্প শুনিয়ে রণজিৎ শেষে লিখলেন, “ শুদ্ধতম রাম-এর আসরে , মফসসল শহরের নিঃসীম নৈরাশ্যময় অন্ধকারে/ বুক ভরে শ্বাস নিতে চাই, আকাশের তারা দেখতে চাই।” আপনাদের জানা থাকতে পারে এই রণজিৎ কিন্তু শিলচরে জাতক, চার দশক ধরে কলকাতা প্রবাসী। উচ্চারণ কি তাই কোথাও মিলে যাচ্ছে? ‘মফসসল’ শব্দটি কলকাতার নির্মাণ। ঊর্ধ্বেন্দুর শহর ডিব্রুগড়কে অসমে কেউ ‘মফসসল’ বলে অপমান করে না। একটি মাত্র নগরকে কেন্দ্র করে সমস্ত উচ্ছ্বাস আর উল্লাসে মেতে উঠার প্রদেশও নয় অসম।  তাই তাঁকে ‘হার্ড-কোর কলকাতা বিদ্বেষি’ বলেও চিহ্নিত করা যাবে না। কবিতাটির শেষে ঊর্ধ্বেন্দুর ধ্রুপদী নাগরিক উচ্চারণ,  “আমার অমিত-প্রেমের উৎসে বসে,তোমাকে এবার, আমি অনন্ত-তৃষার বিলোল মৃগ-তৃষ্ণিকার গান শোনাব। ...” আমরা বুঝতে পারছি এই সব সারকামট্যান্সিয়েল এ্যাভিডেন্সে কাজ বেশিদূর এগুবে না, আমাদের এবার সরাসরি এ্যাভিডেন্স চাই। 
     তাঁর ‘জাহাজডুবির পূর্ব সংকেত’এর বেশি সোচ্চারে আর কোন কবিতাই বা নিজেকে ‘এ্যাভিডেন্স’ বলে দাঁড় করাতে পারে? যদিও রয়েছে আরো অনেক। “নিজের ত্রিসীমানা ছাড়ালেই বাঁশবন, পচা ডোবা, টিম টিম কেরোসিন আলো,/ অনন্ত ডুবোমাঠে উপুড় আকাশ, ঝিঁঝিঁ, রাতভোর শেয়ালের প্রহর –ঘোষণা;--/ উলুঝুলু কবি, তুমি ভুলেও কখনো যেন কলকাতা ছেড়ো না।...” এর পর এক দীর্ঘ ‘নেই’র তালিকা আছে, আমরা কিছু কিছু তুলে দিচ্ছি, “ ওখানে টিউব নেই.....বইমেলা, থিয়েটার, ফিল্মক্লাবও নেই, কুলীন কাগজ নেই,... কফিভবনের ভিড়ে তুখোড় দাদারা নেই, স্তাবক চামচারা নেই,...দালাল প্রতিভা নেই,...ফরেইন মিশন নেই,...শহিদ মিনার নেই, ফিচারের মজা নেই,...মাস্তানি-বিপ্লব নেই, মহান পুলিশ নেই, শৈল্পিক নির্লিপ্তি নেই, বিশুদ্ধ পাতাল নেই... যশোকামী কবি, তুমি ভেবে দেখো মফসসলে কত কিছু নেই।...ওখানে বাঙালি যারা, নিতান্ত ছাগল—কেউই বাংলা জানে না; এই কলকাতা হতে/ নেহাত কাগজ পত্র কিছু রোজই উড়ে গিয়ে এখনো ওদের মোটামুটি মানুষ রেখেছে; /পদ্যের ব্যাপারে ওরা নির্ঘাত পিছিয়ে আছে একশ বছর, আর / অমন রবীন্দ্রনাথ, তেনাকেও মিনিমাম তিনজোড়া লাথির ঘায়ে যারা অনায়াসে/ ধুলোয় লুটালো,--- ঘোর মধ্যরাতে কলকাতা শাসন করে, রমণী দমন করে, যারা/ শুধু কবিতার জন্য ভুবন পেরিয়ে এসে, শিল্পকে পেঁদিয়ে করল তুরুপের তাস—সেসব বিশ্রুত কীর্তি, তুলকালাম প্রতিভার নাম এরা স্বপ্নেও শোনেনি।.../ এসব জেনে ও বুঝে, হুঁশিয়ার কবি, তুমি ভুলেও কখনো কলকাতা ছেড়ো না;--/ কলকাতার কবি মানে রাজকবি, জমিদার---তামাম মফসসলে ছড়ানো রয়েছে এনাদের /হাজারো মহাল.../সম্প্রতি মহালে বেশ হামলা চলছে, দ্রুত অসন্তোষ বাড়ছে নির্বিরোধ প্রজাদেরও মনেঃ/ কাগুজে বাঘের খুব উপদ্রব; কয়েকটি চাইছে অটোনমি, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীভবন।--/ এইসব দুর্বিনীত,বিচ্ছিন্নতাকামীদের পিছনে নির্ঘাত আছে বিদেশি শক্তির উস্কানি...” ইত্যাদি, ইত্যাদি এবং ইত্যাদি।
      
            তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসটি মার্ক্সবাদে। তাঁর অগ্রজ কবি অমলেন্দুর একটি কবিতা আছে ‘কমরেড গাঙুলি’। সেখানে এই বাঙালি কমরেডটি সেই ‘স্বপ্নের কলকাতা’ থেকে অবতার পুরুষের মতো পা দেবেন অসমের মাটিতে। “কালভোরে  পৌঁছুবেন প্রতিনিধি কমরেড গাঙুলি/ একটি দুরন্ত ট্রেনে রাতের কুয়াশা চিরে চিরে চিরে/ নাহরের ডালে ডালে আধফোটা কচি কুঁড়িগুলি /মনে হয়  ফুটবে অচিরে/...” রেললাইনের মতো এমন সরল রৈখিক বৈপ্লবিক রোমান্টিকতাও নেই র্ধ্বেন্দু দাশের কবিতাতে। ‘কমরেড গাঙ্গুলিকে’ই যেন তিনি উল্টো প্রত্যয় থেকে  বলেন, “ ট্র্যাফিক –আইল্যান্ড-জোড়া নিয়ন-স্রোতের তোড়ে জলপরী সাজার এমন নিপাট  সাধ!...এখন তোমার মুখে মাও-সে-তুঙ/ ঘোর বেমানান।--/ সীমান্তের চাল-পাচার—জলের সমান দামে শিশুক্রয়—মূদ্রাস্ফীতি—পে কমিটি—কৃত্রিম অভাব---/ সাত্বিক সংগ্রামী নেতা  জে-পির বিশ্রুত কীর্তিঃ কালোবাজারির দেশে গান্ধীবাদী বিপ্লব ঘোষণা...।” কবিতার নাম ‘নিজস্ব শব্দের বৃত্তে’। একে ঠিক দুই কবির দুই দলীয় বিশ্বাস বলে ভেবে লাভ নেই। এটি হয়তো সত্য। কিন্তু অমলেন্দু যখন লিখছেন তখন কমিউনিষ্ট পার্টি একটাই। উর্ধ্বেন্দু যখন লিখছেন, তখন সি পি আই (এম এল) দলটিও বহুধা বিভক্ত। এই দুই কবিতা পাশাপাশি পড়লে বরং স্পষ্ট হয়, পশ্চিমের অস্ত সূর্য বিপ্লবী মনেও কেমন ‘তমসা’ ছড়ায়, উদয়ের সূর্যের জন্যেও সে এই পথেই তাকিয়ে থাকে, আর আহ্বান জানায়, “দ্রুততম হোক ট্রেন, বায়ুবেগে কাটুক প্রহর, এসো চলে কমরেড গাঙুলি!”    সেই গাঙুলির দিকেই তাকিয়ে উর্ধ্বেন্দুর উচ্চারণ, যেন বা, “ তুমুল চিৎকার তুলে বলতে চাইঃ নিয়ে যাও যা কিছু দিয়েছো।” ‘কলকাতা ৭১’এ এই উচ্চারণতো আরো বেশিই স্পষ্ট, “চৈতন্যের উদীচিতে সূর্য ডোবে কলকাতা, তোমার--/ ত্রিতাপ শান্তির জল ঝরাও আপন চিতানলে” এ ঠিক কোনো সংকীর্ণতা নয়, বোজাইতো যাচ্ছে এই ‘কলকাতা’ কোনো নগর মাত্র নয়, ঔপনিবেশিকতার নির্মিত প্রতিমূর্তি সে।  এও কোনো  কবিতার প্রশ্ন নয় যে এভাবে তিনি  কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধিতে গিয়ে পৌঁছুতে পেরেছিলেন কিনা এতো হবারই নয়, যতদিন সেই চিকুরে কপৌ গুঁজে দেবার মরমীয়া সখির সঙ্গে দেখা তাঁর হয়ে উঠবে না। তাঁকেও তো শুনতে হয়েছে,  “নকশাল বন্ধুর শেষ ঝাঁঝালো বয়েৎটুকু ---‘শালা, তুই দালাল হবিনে।” ( ধুলো) কিন্তু যে প্রশ্নে তিনি নিরন্তর সতর্ক থেকেছেন তা হলো, “আলটপকা হাওয়া এসে তুমুল কাঁপিয়ে তোলে একজীবনের ভিত, আরোপিত সমস্ত নির্মাণ।--”(ঐ)  আর তাই রুশ তাত্বিক ঝধানভ থেকে শুরু করে কলকাতার সরোজ দত্তেরা যে  নন্দন তত্ব্ব গড়ে তুলে শিল্পীর পিঠে চাবুক চালাচ্ছিলেন, সে চাবুকের ছিলা ধরে ফেলে তাঁর উন্নত বুক উচ্চারণ, “ বিচ্ছিন্নতা কাকে বলে? শিল্প কি কখনো ঠিক জীবনের আঁচ থেকে /জলের উচ্ছ্বাস কিম্বা মাটির অমোঘ টান থেকে/ আদৌ বিচ্ছিন্ন রাখতে পেরেছে নিজেকে?---/ দেখো,-- ধান্দাবাজ কিছু ঘোড়েল মানুষ চেরা-তুলির আঁচড়ে, কোনোদিন/তোমারই বুকের ’পরে লিখে দিলঃ এ কবিকে চিনে রাখো এই লোকটা পলাতক শব্দের জনক।’ অতএব কবি,  তুমি এই দেশের মানুষ-মাটি-নিসর্গের বুক থেকে একান্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে?---/ বিচ্ছিন্নতা এতোই সহজ?” ( সমূদ্র জেনে গ্যাছে)

        ঊর্ধ্বেন্দু দাকে যে কবিতা দুটোর জন্যে পূর্বোত্তরের এবং তার বাইরের বাংলাকবিতা বিশ্ব  একডাকে চেনে, সেগুলোর কথা আমরা বলিইনি। তার একটি ‘জার্নালঃ ১৯৮০’; লিখেছিলেন যখন 'মেঘালয়-মণিপুর-অসমের ত্রস্ত জনপদ’ গুলো জ্বলতে শুরু করেছিল। আর অন্যটি ‘সাকিন আসাম,১৯৮৩’; লিখেছিলেন যখন নেলি গোহপুরে সেই রক্তধুয়া দিনগুলোতে, “ আশি বছরের পোড়া রূপের দেমাক নিয়ে শুয়ে আছে আমার নানিমা,/.../ রক্তাক্ত পাঁকে দেখো মুখ গুঁজে পড়ে আছে আমার হানিফ চাচা’ বলে কাঁদতে কাঁদতে ঊর্ধ্বেন্দুর দুই চোখ থেকে রক্ত ঝরছে, অথচ তৃতীয় নয়ন দেখছে, “হাজার বছর ধরে যদিও এপথ দিয়ে শোনা গ্যাছে/ কল্লোলিত জীবনের গান।”
     ঊর্ধ্বেন্দুর নিজের কল্লোলিত জীবনের গানকে শোনা অবশ্যই যায়, আরো নানা ভাবে নানা দিক থেকে। আমরা তার কোনো একটি দিকে অবগাহন করে নিজের স্নানটা  সেরে নিলাম মাত্র। তাতে এই বোধতো জাগেই যে, তিনি আমাদের মহাকবি। তাঁকে আমাদের পড়তে হবে আরো বহুবহু দিন, যতদিন আমাদেরো ‘ঘরের ঠিকানা’তে পৌঁছুনো না হয়। আর ‘কলকাতা’র দিকে তাকিয়ে সগৌরবে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে জাগে, তোমাদের কি আছেন কবি জীবনানন্দ দাশ? তা বেশ! তিনি আমাদেরো বাড়ি গেছেন।  ঘুরছেন,ফিরছেন,  আলাপ জমিয়েছেন।  সেখানে আছেন আমাদের    কবি শ্রী  ঊর্ধ্বেন্দু দা!   
  
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~০০০০০~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

( ঊর্ধ্বেন্দু দাশের কবিতা গ্রন্থ পেতে আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেনঃ





Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Google+ Badge

^ Back to Top--'উপরে ফিরে আসুন'