আমার চেতনার রঙে রাঙানো এই খেলা ঘরে:

~0~0~! আপনাকে স্বাগতম !~0~0~

*******************************************************************************************************

Thursday, 23 July 2009

Duto Somalocona O Bangla Natoker Somalocona Poddhoti








Swajatyer Ohomikar Theke Mukti Daner Shikkhai Ajaker Diner Prodhan Shikkha: Rabindranath Thakur
একটি নোটঃ দু'টো সমালোচনা ও বাংলা নাটকের মূল্যায়নপদ্ধতি

নভেম্বর,২০০৮এর 'দেশ' কাগজে বিখ্যাত নাট্যকার ব্রাত্য বসু'নাট্যমঞ্চ নাট্যরূপ' বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের এক সমালোচনালিখেছেনবইটির লেখক পবিত্র সরকার ছেপেছেন দে' পাবলিশিং, কলকাতা ব্রাত্যের সমালোচনার নাম 'নতুন সমন্বয় বোধের আকাঙ্খা' ব্রাত্য লিখেছেন এই বইয়ের প্রথম সংস্করণ অনেক বছর আগে তাঁকে 'পোয়েটিক্স' বুখতে বেশ সাহায্য করেছিল সেই প্রথমসংস্করণ পড়েই তাঁর মনে হয়েছিল, “. . . বাংলা নাটকের স্বাধীনতা উত্তর ইতিহাসচর্চার পাঠ্যের যদি কিছু মান্য নিদর্শন আমরা হাতেপেয়েও থাকি, নাট্যের ধারাবাহিক ও দেশি-বিদেশি নাট্যমানচিত্রের সার্বিক চেহেরা অনুধাবন ও তৎসংক্রান্ত কিছু খসড়া অন্তত বা টিপ্পনি,ইতিহাস সংক্রান্ত উত্তেজনার খোরাকের নথি কোথায় ? . . . . .ভবিষ্যতে যদি এবম্বিধ কোনও ইতিহাসচর্চার অবকাশ তৈরি করে আমাদের নাটমঞ্চ বা আমাদের নাট্যরূপ তাহলে পবিত্র সরকারের এ বইটি নিঃসন্দেহে তার অগ্রগণ্য গ্রন্থপঞ্জিতে অনিবার্য
ব্রাত্যের মতে এই বইটির মূল সুর সমন্বয়ের নতুন সংস্করণে ছত্রিশটি প্রবন্ধ রয়েছে ধনঞ্জয় থেকে ব্রেশট ,রবীন্দ্রনাথ থেকে বাদল সরকার এবং হালের বাংলা থিয়েটার পর্যন্ত বইটি অবগাহন করেছে

মার্চ ,২০০৯- 'দেশ' কাগজে রুদ্র প্রসাদ সেনগুপ্ত'বিজন ভট্টাচার্য রচনা সংগ্রহ-'এর এক সমালোচনা লিখেছেন 'অযত্নে রুক্ষ প্রতিভাবৃক্ষ ' নামে বইটি সম্পাদনা করেছেন বিজনের ছেলে বিখ্যাত কবি নবারুণভট্টাচার্য এবং আরো এক বিখ্যাত নাট্য-আলোচক ও ঐতিহাসিক শমীক বন্দোপাধ্যায় ছেপেছেন দে'পাবলিশিং , কলকাতা রুদ্রের সমালোচনার থেকেবিজন যে নাট্য দর্শনে এককালে বিশ্বাস করতেন তার গতি প্রকৃতি বেশ ভালো বোঝা যায় এর জন্যে এই নোটটা আমার করে রাখা জরুরি
লেখাটার শুরুতেই রুদ্র বেশ হতাশার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন , আজ যখন আমরা নিজের দাদুর নামতাই ভুলে যাই কারণ কোনো ফর্মে তাঁর নামলিখতে হয় না সেখানে বিজন ভট্টাচার্যের মতো নাট্যকারদের ভুলে যাওয়াতো চাট্টিখানি কথা সাহিত্যই আজকাল ব্রাত্য হতে বসেছে, তার উপর নাটকতো চিরদিনই ,'নশ্বর'

বিজন ভট্টাচার্যের খান দশ নাটক, নাটকের স্থির চিত্র আর তাঁর নাটকের গানের স্বরলিপি দিয়ে এই প্রথম খণ্ডটি সাজানো রুদ্র লিখেছেন, বিজন ভট্টাচার্য দেবতার মতো প্রতিভাবান আর হয়তো শিশুর মতো অগোছালো' ছিলেন . . . যাঁর প্রতিভা আর শক্তির সম্যক আদল তিনি নিজেপেয়েছিলেন কিনা সন্দেহের অবকাশ আছে বিজন ভট্টাচার্য, শম্ভু মিত্র আর উৎপল দত্তকে তিনি তুলনা করেছেন ব্রহ্মা -বিষ্ণু- মহেশ্বরের সঙ্গেঅবশ্যই বিজন ভট্টাচার্য মহেশ্বর তিনি লিখেছেন, “ . . . 'রাজা অয়দিপাউস' এর শম্ভু মিত্রের করা অনুবাদ যখন আমরা পড়ি তখন বিভিন্ননাট্যমুহূর্তের বহুচর্চিত স্মৃতির আভাসটাও ফুটে ওঠে উৎপল দত্তের 'টিনের তলোয়ার' পড়তে পড়তে শেষ দৃশ্যে তিতুমীর হয়ে ওঠার সেই গায়ে কাঁটা দেওয়া চমকের অন্তত শোনা কথাও একটা ছবি দেখতে সাহায্য করে বর্তমানের অতি স্বল্প নাট্যপ্রেমীদের কিন্তু বিজন বাবুর ক্ষেত্রে এই কিংবদন্তির অভাব কারণ কত শতবার মুক্তাঙ্গনে একা একা বয়ে গেছে 'দেবীগর্জন'- জোতদারের সেই ধর্ষণ দৃশ্যের ভয়ঙ্কর রূপতাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে আর যাই হোক অরণ্যেরতো সৃষ্টি হয় না ! বিজন বাবুর সেই অমোঘ অভিনয় আর চাঁচাছোলা কলমের ধারকে এক সূত্রে গাঁথার মন্ত্রণাদাতা কই ? আলোচনা করতে পেরেছেন কাদের সঙ্গে ? না তাপস সেন না খালেদ চৌধুরী তিনি আরো লিখেছেন, “...শ্রদ্ধেয় নট, নির্দেশক শেখর চট্টপাধ্যায় লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথের নাটকগুলি নতুন করে লিখে নিতে পারলে মঞ্চায়ন সম্ভব সে হেন বিদ্রুপবাণেবিদ্ধ নাটকের অহল্যা উদ্ধার হল শম্ভু মিত্রের স্পর্শে কিন্তু সেই স্পর্শ দিতে গিয়ে শম্ভুদা'কে পাশে পেতে হয়েছে সেই খালেদ চৌধুরী , সেইতাপস সেন এবং সেই তৃপ্তি মিত্রকে ... তার উপর রুদ্রপ্রসাদের আক্ষেপ বিজন ভট্টাচার্য নিজেও ভালো সংগঠক ছিলেন না, তিনি তা পানও নিশম্ভু মিত্র বুঝেছিলেনবাণিজ্যিক থিয়েটারে কিছু হবে না 'গণনাট্য যতটা গণের ততটা বোধহয় নাট্যের নয় ' এর জন্যে তাঁর নতুন পথবহুরূপী তাতে তিনি সরকারী উপেক্ষারও শিকার হন তাতেও শম্ভু মিত্রকে আটকানও যায় নি কারণ , “ শম্বু মিত্র নিজের প্রতি যত্ন নেওয়াটা বৃহত্তর কারণেই কর্তব্য মনে করলেন বিজনবাবু হয়তো কর্তব্য মনে করলেন, যত্ন না নেওয়াটাকেই নাটকের গুণমানের থেকেও অতিরিক্ত কিছু যে নাট্যকারের প্রতিষ্ঠাতে প্রভাব ফেলে এ কথা বোঝা যায় যখন রুদ্র লেখেনজীবনের শেষভাগে শম্ভু মিত্র 'আ্যান্টিলেফট' তাই গোটা বামপন্থা তাঁর বিরুদ্ধে তিনি সম্ভ্রমের সজারু কাঁটা বিস্তার করে নিজের অবস্থানকে সেই কাঠিন্যেই প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন উৎপল দত্ত প্রথম যুগে বামপন্থী হবার জন্যেই শাসককুলের বিরোধী, কিন্তু পরেরে জীবনে ঐ এক কারণেই শাসকদের বদান্যতা পেয়ে এসেছেন বামপ্নথার প্রতি বিজন ভট্টাচার্যের অনুরাগ কম ছিলনা কিছুতেই , কিন্তু শাসক দলের অনুরাগঈ না হওয়াতে যে সমর্থন উৎপল দত্ত পেয়ে এসছেন তা তাঁর ভাগ্যে জোটেনি একেবারেই
বিজন ভট্টাচার্য নিজেও নিজের কাজের আদর তেমন করেন নি রুদ্র লিখেছেন, “ এঁরা নিজেদের নয়, নিজেদের কাজের আদর করেছেন নিজেদের সোনার ধানে তরী ভরিয়ে দিয়েছেন, সে তরীতে নিজেদের ঠাঁইয়ের কথা ভাবেন নিপ্রায় অন্ধ শম্ভু মিত্র শুধু প্রখর অভিজ্ঞতা আর অনুমানে মঞ্চ মেপে শরীরের ঝুঁকি নিয়েই অভিনয় করেছেনউৎপল দত্ত শেষ পর্বে ডায়ালিসিস নিতে নিতে পাঠ করে গেছেন কিন্তু বিজনবাবুর মতো মৃত্যুর ক'ঘণ্টা আগে দলের উদাসীন কর্মীর নজর এড়িয়ে যাওয়া পেরেকের ক্ষত শরীরে নেননি তাঁর 'নবান্ন' থেকে 'দেবীগর্জন'সময়ের দাবি মিটিয়ে গেছে কিন্তু 'মেঘে ঢাকা তারা'- মাস্টারমাশাইকে দেখলে মনে হয় শুধু সময়ের দাবি মেটানোর নাটক নয়, কালোত্তীর্ণহয়ে ওঠার রসদ তাঁর কলমে ছিল রাজ্য সরকার উৎপল দত্তকে নিয়ে ঢালাও উৎসব করবার ব্যবস্থা করে বিজন ভট্টাচার্যকে নিয়েবেসরকারই উদ্যোগেও এমন কিছু করা যায় না কি, সে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন লেখক একটু বিদ্রুপ করেই লিখছেন, “ মানলাম, উৎপল দত্ত না হয় বামপন্থার 'অফিসিয়াল মদতদাতা ' হয়ে উঠতে পেরেছিলেন কিন্তু বিজনবাবুর বাম অনুরাগের ক্ষেত্রে বলা যাবে--'নাথিং অফিসিয়াল আ্যাবাউট ইট'
দুই প্রজন্মের এই দুই বিখ্যাত নাট্যকারের সমালোচনা দেখায় বাস্তবে নাটক তথা শিল্পের মূল্যায়ন হয় কিসে প্রতিষ্ঠান তথা শিল্প অতিরিক্ত উপাদানগুলো শিল্পের স্বীকৃতি তথা প্রতিষ্ঠাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে
----
লিখে শেষ ঃ ২৩-০৭-০৯, বৃহষ্পতিবার




Tuesday, 21 July 2009

Today is the 21st July: Let’s pay homage to the Martyrs


Swajatyer Ohomikar Theke Mukti Daner Shikkhai Ajaker Diner Prodhan Shikkha: Rabindranath Thakur


Let’s pay homage to the Martyrs of the 21st July.




I remember we’re in relaxed mood in Silchar. It was another cloudy day, without rain. Karimganj Branch of Barak Upatyaka Songram Somonnoy Somiti (A qualission of more then eleven student and youth organizations of the Valley) has given a call of Bandh on that day to express protest over Prafulla Mahanta’s Visit at Karimganj. From morning we were being informed that Bandh was total success. The CM failed participates in any public programme. From Morning Seven to Night at Eleven---was our working hours. Especially of those who were in leadership. I was the secretary of Cachar District branch of Songrame Somonnoy Somiti. All of us wanted rest for a day or two. On 21st July, 86 our central committee President Mihir Lal Roy was there in Central Road Office with a few other central committee leaders like Arup Baisya, Biplab Goswami, Tushar Pukayastha, Karuna Paul and many more. He wanted me to take rest and come whenever I feel to come. It was possibly 12 at noon; I was walking through the roads of Hospital Road. I had no bicycle then, no money to take rickshaws. We’re used to walk throughout the city, in those days. Very few had motorcycle in those days. None of us had a car. Suddenly, I show Pradeep Bhattacharjee, ex VP of GC College and president of BaVSA , one of the partners of the Somonyoy Somity , Coming towards Hospital Road from the Office with a few comrades. He was shouting at me, where were you! Police fired at Karimganj! Many people have died! They are coming at Silchar Medical College. We’ll have to go their and collect as many as blood donors. Out of anxiety, I suggested, we’ve to make roads free first. And let’s people know what happened they will move them selves. Someone of us asked if I’m suggesting a sudden bandh call. I answered affirmative. So friends started raising slogans! It was spontaneous. I waked a few steps with them. Suddenly we show a city bus coming northwards from Medical College. We requested the driver and the passengers to help us. Passengers vacated the bus, the driver accompanied us to all our organizational base at Tarapur, Malugram, Madhurband, Rangirkhari and Meherpur . Pradeepda, Biswajit Paul Chaudhury and some others stayed back to make the bandh call a success. I moved with Kajal Laskar, Mukul Barbhuyan and others. We picked up the volunteers and reached the Medical College after a few hours. But, by then there were so many volunteers, that we had very little to be worried about. So some of us came back to think over the next step.

None of us know the actual fact. As you know, those days very few of us had private phone and TV. The concept of PCO was not in our imagination. So we gathered at the Idgah Road residence of the Owner of ‘Doinik Goti’—the then popular daily of the Valley---to see if he knows anything better. We show there that Doordoshon news at night covered the incident. We felt proud that at last whole nation will know the condition of our own people. But, that news even failed to satisfy our quarries. The name of Jaganmoy Deb and Jishu Das were doing around the dead. But, people went on saying that the number would be more. We came to know that police started combing operation in the Karimganj City. All the leaders there went underground. Police will do so in Silchar as well. When we left the place, we decided on road that we’ll not go for immediate agitation programme, rather we’ll help the victims.
I and Prasenjit had known face on those days. Because, most of the street corner meetings were addressed by us. So we were being compelled to go underground. I went to the villages of Barkhala and Bihara. There I tried to mobilise people against the police atrocities. I came back after a week or so. I came to know that police searched my home one night. They picked up my younger brother Sunirmal. He was being kept in lock up for a whole night and day. He was no way involved in the movement. He was just a young school going boy on those days.
While I was underground a huge Mass Procession was organised in Silchar to protest the police atrocities against the volunteers and common people. The state Government declared the postponement of the implementation of the Black SEBA circular on the very next 15 August. The Circular was never withdrawn completely. It was not a success of the people of the Barak valley only. Actually most of credit should go those Students Originations of the Brahmaputra valley who rallied under the then influential organisation AATSU. As far I know, all most all the tribal student organisation including Dimasa, Bodo and Karbi Students organisations were part of that Umbrella Organisation AATSU. The movement against SEBA circular didn’t ended there. Rather it was only opened the mouth a volcano which ejecting lava till today. All most all of the smaller identities of the state are now claiming a satisfactory political status which will make them live with honour and dignity. Some of the movement has taken ugly turn like DHD and NDFB. The SEBA circular of 1986 proved suicidal for greater Assamese Nation Building process. It only helped to derail the process for ever.
People opposed the circular tooth and nail. But, same people didn’t object while the same Assamese language was being introduced as elective language in the School Level. You know in this year only, one Sumit Deb of Patharkandi of same Karimganj District got highest number in Assamese as Elective subject in HSLC Examination. Friends, today is the 21st July. Let’s pay homage to the Martyrs for the causes of Linguistic right of the linguistic minorities of the state.


Sunday, 12 July 2009

Letter to the Editor Samayik Asom




সুচরিতেষু,
চিন্ময়,
সম্পাদক, সাময়িক অসম ,
পরপর দুটো সংখ্যা সাময়িক অসম ( জানুয়ারি-মার্চ,০৯ ও এপ্রিল-জুন,০৯) আমার হাতে এসে পড়ল । আর দুটো আমি মন দিয়ে উৎসাহ ভরে পড়েছি । আমাদের এখানে বন্ধুদের মধ্যে এর প্রচার ঘটাবার চেষ্টা করে যাচ্ছি । আমি নিজে ভালো লেখক নই । কিন্তু ভালো লেখক গড়ে তুলতে হলে কেমন পরিবেশ চাই এ নিয়ে আমার দীর্ঘ দিনের কিছু ভাবনা আছে । নানা জায়গায় অল্পসল্প অপ্রিয় হবার ঝুঁকি নিয়ে লিখেওছি । সে ভাবনার সমর্থণ পেয়েই আপনার কাগজের প্রতি আমার টান জন্মেছে । এবং প্রতিনিয়ত এর দীর্ঘায়ু কামনা করে চলেছি।
পশ্চিম বাংলা থেকে আমরা যে প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার শ্লোগান ( এনিয়ে একদারুণ লেখা পড়ুন  এখানে) পেয়েছিলাম এবং দীর্ঘদিন তাঁর মোহে জড়িয়েছিলাম তাতে ওদের কি ক্ষতি হয়েছিল জানিনা, আমাদের বড্ড ক্ষতি হয়ে গেছিল ।  আমাদের আসলে নিজেদের জন্যে নিজস্ব ধরণের প্রতিষ্ঠানের দরকার ছিল । অন্যথা , বাংলাতে যা লেখা হয় কলকাতাতেই হয় এই ধারণার থেকে বেরুনো যাচ্ছিল না। এই ধরণার থেকে লোকে যদি না বেরুতে পারে তবে লিখে কী লাভ বলুন? আর অসমের বাংলা লেখকের লেখা যদি এখানকার বাঙালি লোকে পড়বার অভ্যেস না গড়ে তোলে , তবে এখানকার আলোহাওয়া থেকে বিচ্ছিন্নতার সমস্যাও ঘোচবার উপায় দেখিনা । লোকে জানবে কি করে যে, গুয়াহাটির সবুজ পাহাড়ের ভিড়ে/ খাস খবরের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে / শিল্পময় বিভিন্ন শোক ও আলো।
এখানকার রচনার এই যে আলাদা ধরণ ধারণ তা কলকাতার বাংলা সাহিত্য যতই ভালো আর উন্নত হোক, দিতে পারবে কেন? আর আমাদের লেখকেরাই বা কলকাতার কৃপা লাভের জন্যে ভিক্ষার ঝুলি হাতে দোয়ারে দোয়ারে ঘুরবেন কেন? ওরাতো জানে না যে আমাদেরো নিজেদের বহু ভালো লেখক আছেন ! এইতো আপনারা অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার ছাপলেন। খুব ভালো। কিন্তু এতেও এই স্বীকারোক্তি আছে যে অসমের সম্পর্কে তাঁর বিশেষ কোনো ধারণা নেই। নিরুপমা বরগোঁহাই নামে এক লেখিকা ! সেদিন ব্যতিক্রমের নিমন্ত্রণে জয় গোস্বামী এলেন। তিনিও বললেন, বিজিত ভট্টাচার্য আর বীরেন রক্ষিত ছাড়া আর কারো সম্পর্কে বিশেষ ধারণা নেই। হর্ষ দত্ত এসেও একই কথা শোনালেন ! তিনিতো অবাক হয়ে গেলেন এই দেখে যে শিলচরে এতো বাংলা কাগজ হয়। এতো লোকে লেখে! দেখুন দশা! অথচ আমরা ফী বছর দেশ কাগজকে কোটি টাকার ব্যবসা দিই । কী অবহেলা ! কী অবজ্ঞা ! আমি বলছি না এটি তারা ইচ্ছে করে করেন। কিন্তু কলকাতার এক ব্যামো আছে, সে কলকাতার বাইরে তাকালে সোজা বিলেতে গিয়ে তার চোখ পড়ে । অন্য কোথাও নয় ! আজকাল অবশ্যে কিছু দৃষ্টি পাল্টাচ্ছে। শুনেছি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এখানকার বাংলা সাহিত্য তাদের পাঠ্যক্রমে ঢোকাবে । কিন্তু এতো যৎ সামান্য !
এদের এবং আমাদের নিজেদের দেশের লোকের চোখ না পাল্টালে আমাদের লিখে কোন লাভ নেই । ভালো লেখক নিজ গুণে পাঠক টানে বাজে কথা । পাঠক টানার জন্যে গুণাতিরিক্ত আরো বহু কারক কাজ করে । আমিও এক কাগজ করি , যেখানে অসমিয়া-বাংলা হিন্দি ছাপি । আমি জানি । আমি যদি আপনাদের লেখা কোনো অসমিয়া বন্ধুকে অনুবাদ করতে দিই স্পষ্টই বলবে, এতে সাহিত্য তেমন নেই ! অন্যদিকে সেদিন লক্ষ্মীনন্দন বরার প্রান্তিকে যে আত্ম জীবনী বেরুচ্ছে তাতে পড়লাম একবার তাঁকে যখন মহাশ্বেতা দেবী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কী লেখেন ? তাঁর জবাব দেবার ইচ্ছে হয় নি । কারণ তিনি জানেন, এঁও লোকে আমার লিখা নপঢ়ে !
এ রকম জায়গায় ব্যতিক্রম নামে সৌমেন ভারতীয়াদের কাগজ , বা অন্যদেশ নামে অঞ্জলি সেনগুপ্তের কাগজ আমদের আশার আলো দেখায় । বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়, হবে , আমাদেরও হবে, দিন আসছে !
আপনাদের কাগজতো লিটিল ম্যাগ। কলকাতার কিছু কিছু লিটিল ম্যাগ আছে কিনে পড়তে গেলে রীতি মতো বড়লোক হতে হয় । তাদের মুখে আবার কী সব আদর্শ টাদর্শের কথা শুনলে গা গুলিয়ে আসে! ভাগ্যিস ( দুর্ভাগ্যও হতে পারে, আমরা এমনিতেও গরিব কিনা ) আমাদের সেরকম বড়লোকের লিটিল ম্যাগ নেই। কিন্তু ওদের ভাবশিষ্য আছেন অনেক । যারা মনে করেন লিটিল ম্যাগের উচিত নয় বিজ্ঞাপন-টন নেয়া । লিটিল ম্যাগ হওয়া উচিত বিধবার মতো নিরাভরণ-নিরলংকার ! এরা কবিতা কেন ছন্দ অলংকার বাদ দিয়ে আর গদ্য কেন যতি চিহ্ন বাদ দিয়ে লেখেন না জানি না! আপনারা সেরকম আদর্শের মুখে ছাই দিয়েছেন দেখে ভাল্লাগল ।
আপনি এক জন ভালো কবি ও গল্পকার হবার সঙ্গে সঙ্গে একজন ভালো চিত্রকরও। বোধহয় তাই আপনি সে মোহ ছাড়তে পারেন নি । কিন্তু তাতে ভীষণ লাভ হয়েছে । আপনার , দীপ্তেন্দুর ,বিকাশের বা শৈলেন্দ্রের চিত্রগুলো দেখে মনে হয়--- আপনারা সাহিত্যের নামে টিউশ্যন পড়াবার ঘর আলগা করে রাখেন নি। রীতিমত অতিথি আপ্যায়নে আপনারা আন্তরিক । তাই আপনাদের ঘরে লোক সমাগম হবে । আপনাদের শ্রী ও স্বাস্থ্য দিনে দিনে বাড়বে এই বিশ্বাস করতে মন যায় । আপনারা কলকাতার কাগজগুলোকে রীতিমতো প্রত্যাহ্বান জানিয়ে বসে আছেন দেখে আপনাদের সঙ্গ নিতে বুকে সাহস হয় । এই যে প্রত্যাহ্বান লিখলামএ কিন্তু বিরোধিতা নয় । এ হলো সমান হয়ে উঠবার অত্যাগ্রহ । সমান না হলে দোস্তি জমে না ভালো । আত্মমর্যাদা নিয়ে দাঁড়ানো যায় না । এক পক্ষকে সবসময়েই দাসত্ব করতে হয় ।
পরপর দুটো সংখ্যাতেই ( জানুয়ারি-মার্চ,০৯ ও এপ্রিল-জুন,০৯) দেখলাম আপনারা গুয়াহাটির সাহিত্য চর্চার স্বাস্থ্য দেখে বেশ উৎফুল্ল ! এই সংবাদ নিশ্চয়ই সুখের । কিন্তু সেই সঙ্গে যে আক্ষেপ , ...চার পাঁচজন কবি, তিন চার জন প্রবন্ধকার, এবং এক-দুজন গল্প লেখকের বাইরে যে সমস্ত কাজ হচ্ছে , তার সবটুকুই সাহিত্য নন্দন শূণ্য এবং ফাঁকিদীপ্ত । এই বাস্তবতাকেও অস্বীকার করি কী করে ? কিন্তু যখন দেখি আপনাদের আশা গুয়াহাটির বাংলা সাহিত্যের বুকে জেগে উঠবে সেই আকাঙ্খিত সোনালি সূর্য। তখন কিন্তু মনে হয় কলকাতার ব্যমো থেকে আপনারাও বেরুতে পারছেন না । এ কি বাঙালির ব্যামো ? হতে পারে । কোনো অসমিয়া কাগজ এমন স্বপ্ন দেখবে না । সে যা দেখে অসম তথা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাকে নিয়ে দেখে । হিন্দি কাগজও দেখবে না এমন স্বপ্ন। সে যা দেখে সারা ভারতের প্রেক্ষাপটে দেখে । বিলাতি কাগজ পড়ে পড়ে কলকাতা নিজেকে প্যারিস-লণ্ডনের সমগোত্রীয় করবার নেশাতে বাকি বাংলাকে ভুলে ছিল , আজো ভুলে থাকে । আমরাও কলকাতাকে দেখে দেখে , শিলচর-গুয়াহাটি-আগরতলা করতে শিখেছি । তবেই দেখুন ! আমার নিবাস যে তিনসুকিয়াতে, তার দশা ফেরাবার ভার কে নেবে ? এখানে একবার এক সভাতে শক্তিপদ ব্রহ্মচারীর কবিতা পড়তে গিয়ে আমার পা কেঁপেছিল । কেন জানেন ? লোকে যদি জিজ্ঞেস করে , কে সে হরিদাস পাল ? এখানে সঞ্চয়িতার বাইরে রবীন্দ্রনাথ পড়তে গেলেও লোকে তেড়ে আসতে পারে । বলবে, এ রবীন্দ্রনাথে নেই । হাসবেন না ! আমার একবার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমার মেয়ে এক ছড়ার আসরে , সুকুমারের বাবুরাম সাপুড়ে পড়ে আসবার পর রীতিমটো হৈ হল্লা ! এতো ছড়া নয় ! আমি তাই আপনাদের কাগজের সঙ্গে এখানকার সাহিত্যের লোকের পরিচয় ঘটানোটা ব্রত হিসেবেই নিয়েছি।
তা হে সম্পাদক, এমন দেশে আপনার চারদিকে তৃণভূমি দেখে অনুগ্রহ করে আক্ষেপ করবেন না! আপনি সৌভাগ্যবান, যে এদেশে তৃণও জন্মায় ! যে দেশে তৃণ না জন্মাতে পারে সে দেশে বটবৃক্ষ দেখেছেন কখনো ? সুতরাং তৃণদেখেও উৎফুল্লিত হোন, প্রার্থণা করুন যেন এ দেশ সবুজ শ্যামল হয়ে উঠে বাংলা ভাষার তৃণে । কলকাতাতেও এমন তৃণ আছে অগণন । তাতেইও ওখানে কিছু বটবৃক্ষের দেখা মেলে । সেই তৃণে সার জল দেবার আপনার যে প্রস্তাব তা অতি উত্তম । শুধু অনুরোধ, একটু ভালোবেসে দেবেন , কলকাতার জীবনানন্দকে ( সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।) এই পোড়া দেশে নাইবা টেনে আনলেন ! আমিও একআধটু লিখি, কিন্তু যেখানে এই ভালোবাসা না দেখি সেখানে পা মাড়াইনা ! নিজেও খুব ভালো লেখক নইতো ! এ চিঠিতেও মন্দ কিছু লিখে থাকলেও নিজ গুণে ক্ষমা করে নেবেন । ইচ্ছে ছিল , লেখাগুলো নিয়েও কিছু কথা বলব, কিন্তু ইতিমধ্যে আপনার বিরক্তি উদ্রেক করবার মতো অনেক লিখে দীর্ঘ করে ফেলেছিসে কথা পরে হবে খন

সুশান্ত কর ,
তিনসুকিয়া

Monday, 22 June 2009

Barak Badehr Biruddhe



বরাক বাঁধের বিরুদ্ধে
।। সুশান্ত কর ।।
(লেখাটা আজ ০৯-০৭-০৯ তারিখের দৈনিক জনকণ্ঠে ছেপেছে | উপরের ইংরেজি শিরোনামে ক্লিক করুন, কাগজটা খুলবে ।

১৯৫৪ তে প্রথম টিপাইমুখ বাঁধ তৈরির সিদ্ধান্ত হয় । জাপানি কারিগরি সহায়তা কাজে লাগিয়ে বাঁধটি তৈরি হবে ঠিক হয়েছিল। তখনকার মূল্যে খরচ ধরা হয়েছিল আনুমানিক ১,০৯৭ কোটি টাকা। এখনকার মূল্যে প্রায় ৪,৮৮২ কোটি টাকা। সেই থেকে আজ প্রায় ৫৫ বছর ধরে শোনা যাচ্ছে টিপাই মুখে বরাক বাঁধ হচ্ছে । এখনো হচ্ছে ! দেশের অন্যান্য বড় বাঁধের বিরুদ্ধে যখন বড় বড় আন্দোলন গড়ে উঠছে তখন বরাক উপত্যকার মানুষকে রীতিমত আশ্বস্ত করা হয়েছে যে এই বাঁধ তাদের চির দিনের বন্যা ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করবে আর বরাকের মধ্যবিত্ত তা বিশ্বাসও করে বসে আছেন । এর বিরুদ্ধে যে কোনো স্বরকে তারা প্রতিবেশী রাজ্য বা দেশের ষড়যন্ত্র হিসেবে ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। কী আশ্চর্য! এই রাজ্যেরই অন্যত্র ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলের মানুষ যখন উঁচু বাঁধের বিরুদ্ধে সরব তখনো বরাকের মধ্যবিত্ত মানুষ বরাক বাঁধের মায়া জালে বাঁধা রয়েছেন।
এই মায়া জালের রহস্য নিয়ে মনিপুরেরে লেখক ইয়েঙ্খম জিলাঙ্গাম্বা কাংলা অনলাইনের এক নিবন্ধে খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, সমাজের কিছু অংশের মানুষের কাছে আধুনিকতা আর উন্নয়ন মানে বিশাল সব প্রকল্পবড় বাঁধ, বড় সেনা বাহিনী , বড় আমলা বাহিনী, বড় শক্তি প্রকল্প ... উন্নয়নের এই বাকধারাতে সবকিছুর বিশালতার কল্পনাকে কেন্দ্রীয় বিষয় করে তোলার ব্যাপারটি উপনিবেশোত্তর ভারতে সবচে ভালো ধরা পড়েছিল নেহেরুর এই কথাতে যে,” Big Dams are the Temples of Modern India'. কারা লাভবান হবে এবং তাদের সে লক্ষ্যটি কী--- উন্নয়ন প্রকল্পের আকারটি তার সঙ্গে ঘনিষ্ট ভাবে জড়িত। জিলাঙ্গাম্বার মূল বক্তব্য , নতুন গড়ে উঠা মধ্যবিত্ত যাদের প্রচুর সম্পদ রয়েছে তারা নিজেদের চারপাশে সবকিছুকে এতোবড় করে দেখতে চায় যেন নিজেদের দেশের বা বিদেশের অন্যান্য অগ্রসর অংশের শ্রেণিভাইদের নিজেদের সমগোত্রীয় বলে কল্পনা করতে পারে। এরই জন্যে ভারতের মধ্যবিত্ত পোখরাণে পারমানবিক বোমা বিষ্ফোরণেরও পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। In their civilization hierarchy' these are the ladders to achieve development.
জিলাঙ্গাম্বার বক্তব্য অনুসরণ করলে আমাদের বুঝতে অসুবিধে হয় না , কেনো গেল দেড় দশকে নিজের বাবার নামে এক খেলার ষ্টেডিয়ামের বাইরে আর তেমন কিছু সফলতা না দেখাতে পারলেও আমাদের সদ্য পরাজিত সাংসদ ছাড়া কেন আমাদের বরাকের মধ্যবিত্তের এক বড় অংশ নিজেদের বড় অসহায় বোধ করেন। সৌরভ সুনীল বা কিশোর কুমার গাঙ্গুলীর মতো নিজেদের লোক বলে পরিচয় দেবার জন্যে বিশাল ব্যক্তিত্ব সারা ভারতে তাদের আর কেউ নেই যে !! সুতরাং তিনি যা বলবেন তাই বেদ বাক্য !! তিনি বলে গেছেন, বরাক বাঁধে আমাদের মুক্তি! সুতরাং আমাদের মুক্তি বটে!!
যে নেহেরু একসময় বলেছিলেন , বড় বাঁধগুলো হচ্ছে আধুনিক ভারতের মন্দির সেই তিনিই কিন্তু অভিজ্ঞতার থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের মত পাল্টেছিলেন । অরুন্ধতী রায় বহুবার কথাটার উল্লেখ করেছেন তাঁর লেখাতে । বিখ্যাত রাজনৈতিক ঐতিহাসিক রাম চন্দ্র গুহ লিখেছিলেন, জীবনের শেষের দিকেই ১৯৫৮তে সেচ ও শক্তি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বোর্ডের এক সভাতে নেহেরু বলেছিলেন, আমাদের এক বিপজ্জঙ্ক দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে উঠছে। তিনি একে বলেছিলেন বিশালত্বের রোগ (Disease of Giganticism) । নেহেরু বলেছিলেন, শুধু এটা দেখাবার জন্যে যে আমরাও বড় কাজ করতে পারি ----বড় কাজ করা বা কাজের কথা ভাবাটা মোটেও ভালো দৃষ্টিভঙ্গি নয়। আধ ডজন জায়গাতে এক ডজন বড় প্রকল্পের থেকে ছোট ছোট সেচ প্রকল্প, ছোট ছোট শিল্প,ছোট ছোট শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র অনেক বেশি করে এদেশের চেহারা পাল্টে দিতে পারে। নেহেরুর এই বক্তব্য পাওয়া যাবে নেহেরু স্মারক যাদুঘর ও গ্রন্থাগারের ১৯৮৮তে প্রকাশিত বিজ্ঞান ও সমাজ বিষয়ে নেহেরুর বক্তৃতামালাতে । ভাষণটির শিরোনাম Social Aspects of Small and Big Projects . তাঁর এই মত পালটানোর কারণ ব্যাখ্যা করে শ্রী গুহ লিখেছেন, তাঁর ছিল বৈজ্ঞানিক মন। অভিজ্ঞতা আর নতুন তথ্য পাতি যদি অন্য কথা বলত, তবে তৎক্ষণাৎ তিনি মত পাল্টাতে দ্বিধা করতেন না।
কিন্তু, ততদিনে বোধহয় সেই বিশালত্বের রোগ বেশ জাঁকিয়েই বসেছে। নিরাময়ের অতীত হয়ে গেছে। তাই তাঁর সময়ে উদ্বোধন করা নর্মদা বাঁধের কাজ যেমন পরে থামে নি তেমনি এখোনো হাজারো নতুন বাঁধের বড় কল্পনা আমাদের রোমাঞ্চিত করে। শিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়া বিলাসী মধ্যবিত্তকে হতাশ করে । কত যে মানুষ কীট পতঙ্গের মতো কীট পতঙ্গের সঙ্গে করে তাতে বিপন্ন হবে তার হিসেব মধ্যবিত্ত করে কই ! সেই কীট পতঙ্গগুলো যদি বেশি বেগড়বাই করে তবে দেশদ্রোহী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, স্বার্থান্বেষী ইত্যাদি অবিধা দিয়ে পুলিশ-মিলিটারি লেলিয়ে দিলেই হলো। দেশটাতো আর এই কীট পতঙ্গদের নয় !
আমরা যারা বরাক ডামের স্বপ্নে বিভোর তাঁরা ভেবেও দেখি না যে স্বাধীনতার পর থেকে এই যে হাজার হাজার বাঁধ তৈরি হলো তারা আসলে এ দেশটাকে দিয়েছে কী? দেড় দশক আগে বিশ্বায়নের শুরুর দিনগুলোতে এই উল্লসিত মধ্যবিত্তরা আমাদের মতো মুখ্যুসুখ্যুদের যেমন ধমক দিয়ে জানাচ্ছিল যে বিশ্বায়ন আমাদের দেশকে উন্নত বিশ্বের সারিতে নিয়ে যাবে, তারা এখন মন্দার বিশ্বে নির্লজ্জের মতো মৌনব্রত অবলম্বন করে বসে আছে। এম-বি-এ পড়াবার স্বপ্ন নিয়ে বড় করা ছেলেক নীরবে আই-এ-এস পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুত করছে। তেমনি পঞ্চাশের দশকে এই মধ্যবিত্তরা জানাচ্ছিল বড় বড় বাঁধ না হলে নতুন এই রাষ্ট্রকে নিজের পায়ে দাঁড় করানো যাবে না। এতোদিনে এরা এ দেশে দশটা পাঁচটা নয় তিন হাজার ছশটা বড় বাঁধ তৈরি করে ফেলেছে। তার পরেও এই গ্রীষ্মে আমরা দেখেছি সারা দেশ বৃষ্টির অভাবে খরাতে জ্বলছিল। দিল্লি থেকে শুরু করে নগরে নগরে জলের জন্যে হাঙ্গামা হয়েছে। পুলিশের লাঠি গ্যাস ছুঁড়েছে। বিদ্যুতের অভাবে নাকাল হয়েছে দেশে মানুষ । বন্ধ রয়েছে কল কারখানা। এখোনো এই দেশে ২০ কোটি লোকের কাছে বিশুদ্ধ পানীয় জল এক দুঃস্বপ্ন। ৬০ কোটিরো বেশি লোক তিন দিক সাগর ঘেরা এই দেশে শুধু জলের অভাবে স্বাস্থ্যকর পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন থেকে বঞ্চিত হয় । ঐ মিথ্যেবাদী মিথ্যুক মধ্যবিত্ত তখন সেই নাটকের দৃশ্যগুলো নিজেদের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে ফ্লাট টিভিতে বসে দেখে আর উপভোগ করে ।

অরুন্ধতী রায় তাঁর বিখ্যাত ধ্রুপদি রচনা The Greater Common Good এ লিখেছেন আমরা এ পর্যন্ত সারজা ক্রিকেটে কতটা উইকেট হারালাম হিসেব করে বলে দিতে পারব, কিন্তু কেউ জানে না এতোগুলো বাঁধ ঠিক কত মানুষকে এ পর্যন্ত ভিটেচ্যুত করেছে। ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব পাব্লিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশ্যন একবার ৫৪ খানা বড় বাঁধের দ্বারা ঠিক কত মানুষ ভিটেচ্যুত হয়েছেন তার একটা হিসেব বের করেছিল। তারা দেখিয়েছিল প্রতিটি বাঁধ গড়ে ৪৪,১৮২ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। অরুন্ধতী তাঁর স্বাভাবিক রসবোধ ব্যবহার করে বলেছেন , চলুন, ধরে নেয়া যাক যে এই হিসেবে কিছু ভুল ভ্রান্তি আছে। আমরা ধরে নিই যে বাঁধ প্রতি ১০,০০০ মানুষই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাহলেও শুধু স্বাধীনতার পরে তৈরি ৩,৩০০ বাঁধে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ !! তিনি পরিকল্পনা আয়োগের আয়ুক্ত এন সি সাক্সেনার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন সংখ্যাটা আসলে ৫ কোটির কম হবে না। গুজরাটের জনসংখ্যার থেকেও এ সংখ্যাটা বড়। অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার থেকে তিন গুণ বেশি এ সংখ্যা ! পেলেস্তাইন যুদ্ধের স্মরণার্থীদের থেকে এই সংখ্যা দশগুণ বেশি । ১৯৪৭এর দেশ ভাগে যত লোক স্মরণার্থী হয়েছিলেন তার থেকেও তিন গুণ বেশি লোক বড় বাঁধের ঠেলায় হাজার বছরের বাড়ি ছাড়া হয়েছেন। অরুন্ধতী দেখিয়েছেন বাবরি মসজিদ নিয়ে যাঁরা দেশ কাঁপাবার রাজনীতি করে তাঁদের সমর্থণে গুজরাটের সরকার প্রত্ন প্রস্তর যুগের বহু প্রাচীন মন্দির তথা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও জলের তলায় নির্বিকার তলিয়ে যেতে দিয়েছে। আমরা এখন এর সঙ্গে রামসেতু নিয়ে এদের রাজনীতির ভণ্ডামোকেও স্মরণ করতে পারি নিশ্চয়ই। রামসেতু নর্মদা বাঁধের নিচে হলে ওরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকত ।

আমাদের বিলাসী মধ্যবিত্ত পাঠকেরা নিশ্চয়ই ভাবছেন, দেশভাগের স্মরণার্থীদের মতো এই বাঁধে বাস্তুচ্যুতরা নিঃস্ব হয় নি কেউ। সরকার নিশ্চয় এদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। আমরা সে হিসেবে গিয়ে এ লেখা দীর্ঘ করছিনা। শুধু অরুন্ধতীর একটা কথা উদ্ধার করছি। তিনি লিখেছেন, এই জনজাতীয় কৃষক মানুষের কাছে টাকার ব্যবহারযোগ্যতা ততটাই যততা সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের মুখ্য বিচারপতির কাছে একটি সারের বেগ। শিলচর-গুয়াহাটির মতো শহুরের বহু মানুষের ধারণাই নেই যে টিপাইমুখের ধারে কাছে যারা বাস করেন সেই সব মার-জেলিয়াংরঙদের বহু মানুষ সারা জীবনে টাকার একটা মূদ্রা না ছুঁয়েও দিব্ব্যি সুখের জীবন পার করে দিতে পারেন। নদী এবং পাহাড়ের অরণ্য তাদেরকে মাতা-পিতার মতোই লালন করে। কিন্তু এই ভারতবর্ষকে শহুরে-ভারত জানাবার চেষ্টা করেছে কবে? শহুরে মানুষের কল্পনা বিলাশকে তুষ্ট করতে এখন সেই মাতা-পিতাকের বধের বন্দোবস্ত হচ্ছে!! টিপাইমুখে শিলচরীয়দের স্বপ্নের বাঁধ হচ্ছে। এই সব জনজাতীয় কৃষকদের হাতে টাকা তুলে দেয়ার অর্থ হলো গে রাজা হরিশ চন্দ্রকে দাসের বাজারে বিক্রী করে দেয়া।

দশ বছর আগে ( ১৯৯৯) অরুন্ধতী লিখেছেন , আন্তর্জাতিক বাঁধ-শিল্প বছরে দুশো কোটি ( বিশ বিলিয়ন) ডলারের ব্যবসা করে । আপনি পৃথিবীর যেখানেই যান না কেন ( পশ্চিমী বিশ্ব বাদ দিয়ে, ওরা এখন নিজেরা বড় বাঁধ তৈরি করে না) চিনে, জাপানে, মালয়েশিয়াতে, থাইল্যাণ্ডে, ব্রাজিলে, গুয়াতেমালাতে --- আপনি সেই একই নাটকের মুখোমুখি হবেন, একই অভিনেতাদের পাবেন সেখানে। লোহার ত্রিভুজ ( রাজনীতিবিদ, আমলা আর বাঁধ তৈরির কোম্পানীগুলো ), সেই সব চক্র যারা নিজেদের আন্তর্জাতিক পরিবেশ পরামর্শদাতা বলে পরিচয় দিয়ে থাকে ( কিন্তু আসলে যাদের মাইনে দেয় ঐ বাঁধ-তৈরি করিয়েরা ) এবং প্রায়শই সেই সব্বার প্রতিবেশী বন্ধুটি- বিশ্ববেঙ্ক । সেই একই সংলাপ, সেই আদর্শে মানুষের জন্যে বাঁধের স্লোগান, গণপ্রতিরোধের নিষ্ঠুর অবদমন । তিনি আরো লিখেছেন, আমাদের সময়ের সবচে বড় রসিকতাটা হলো এই যে আমেরিকার মানুষ তিয়েনানমেন স্কোয়ারের গণহত্যার প্রতিবাদ করে , কিন্তু বেঙ্ক তাদেরই টাকা এনে চিনের থ্রী জর্জেস বাঁধে ঢালে যেখানে তের লক্ষ মানুষকে ঘরবাড়িও ছাড়া করা হয়েছে।
২০০৫এর ডিসেম্বরেরে শেষে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক টিপাইমুখ বাঁধ সম্মেলন ( ITDC -2005)’ । সেখানে উপস্থিত ছিলেন পূর্বোত্তর ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশের প্রতিনিধিরা । এমনকি ভারত বাংলা যৌথ নদী আয়োগের পূর্বতন সদস্য অর্জুন নিশাদও ঐ সম্মেলনের নেতৃত্বদায়ী ভূমিকা পালন করেছিলেন । ভারতের পরিবেশবিদ তথা ‘River Basin Friends of Assam’ এর সমন্বয়ক রবীন্দ্রনাথ ওখানে উপস্থিত থেকে বলেছিলেন , টন টন বালি কাঁদা ঐ বাঁধ থেকে ভেসে এসে বাংলাদেশকে ঢেকে দেবে । মনিপুরেরে হাজারো ভূমিপুত্রদের ভিখারীতে পরিণত করবে। একই আওয়াজ শোনা গেছিল মনিপুরেরে প্রতিনিধি দেবব্রত রায়ের কণ্ঠেও । তিনি বলেছিলেন, এই বাঁধ সাংস্কৃতিক ধ্বংসলীলা চালাবে ।
ঐ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে রবীন্দ্রনাথ আরো বলেছিলেন , " এই বিদ্যুৎ আমাদের ঘরগুলোকে আলোকিত করবে না ।... গোটা ব্যাপারটাই হচ্ছে সিমেন্ট-রড-টার্বাইন মাফিয়াদের ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা মাথায় রেখে
বরাক ( মনিপুরেরে স্থানীয় ভাষাতে যার নাম তুইলুয়াং) ও তুইভাই নদী যেখানে জুড়েছে তার ৫০০ মিটার নিচে এই বাঁধ হচ্ছে । এর উচ্চতা ধরা হয়েছে ১৬২.৮০ মিটার । এই উচ্চতা খুব একটা হেলা ফেলার নয় । তাতে আবার জায়গাটি ভূকম্পপ্রবণ এলাকা । সারা বিশ্বের জৈববৈচিত্রে ভরপুর যে ৩৫টি মাত্র জায়গাকে জিনেটিক হটস্পট বলে চিহ্নিত করে রাখা আছে টিপাইমুখ বাঁধের জায়গাটি তাদের একটি। সুতরাং ওখানকার জৈববৈচিত্রের যে বারোটা বাজবে তা আর বলতে । দেবব্রত যে সাংস্কৃতি ধ্বংসলীলার কথা বলেছেন তার কারণ ঐ বাঁধ ওখানকার ২৭৫.৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার ১৪০০ মার আর জেলিয়াংরঙ জনজাতীয় পরিবারকে ঘর ছাড়া করবে । বরাকে মানুষও বাঁচবে না। অন্য আপদ গুলো নিয়ে যদিবা আপাততঃ নাও লিখি এতো লেখাই যায় যে বাঁধ ভাঙা বানের তোড়ে ভেসে যাবার ভয় বরাকের মানুষকে প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খাবে। ঠিক যেমন পাকিস্তানের পারমানবিক বোমা না আলকায়দার হাতে গিয়ে পৌঁছোয়--- সে ভয় এখন মার্কিনী দোসরদের কুরে কুরে খাচ্ছে । কিন্তু আপাততঃ বরাকের আঞ্চলিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিবেশী বিপন্ন মানুষ ও প্রাণিজগতের কান্নাতেও কান দেবার প্রয়োজন মনে করছে না। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছাড়া আর কোনো কারণ নেই ---কেন তারা প্রতিবেশীদের প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেবেন না ।
কিন্তু, মনিপুর সঠিক ভাবেই এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছে । যত দিন যাবে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাও এতে যোগ দেবে। আপাতত ব্রহ্মপুত্রের মানুষ এ নিয়ে নীরব বোধ হয় এর জন্যে যে বরাকের উন্নয়নে পথের কাঁটা হবার তাদের পুরোনো দুর্নাম আছে। কিন্তু সে দুর্নামের ভয় কাটিয়ে তারাও যোগ দেবেন । কেননা তারাও লড়ছেন ব্রহ্মপুত্রের উপনদীগুলোর উৎসমুখে অরুনাচলে ভারত সরকারেরে বাঁধ তৈরির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে। গেল ১৪ মার্চ তারিখে পিপলস মুভমেন্ট ফর সুবনসিরি ব্রহ্মপুত্র ভেলি ( PMSBV) নামের সংগঠনটি লক্ষিমপুরে বৃহৎ বাঁধ বিরোধী আন্দোলনের আন্তর্জাতিক দিবস পালন করে নিজেদের আন্তর্জাতিক আন্দোলনের অংশীদার করেছে। সদিয়াতে বিভিন্ন সংগঠন ঐদিন বিশাল গণ সমাবেশ করেছে। যেখানে সারা রাজ্য থেকে পরিবেশবিদরাও গিয়ে জড়ো হয়েছিলেন। খুব শীঘ্রই এই আন্দোলন সারা রাজ্য কাঁপাবে। বরাক উপত্যকা কি নির্লজ্জের মতো এর দিকে তাকিয়ে নিজেদের বিপদের দিন গুণবে ?
আশার কথা যে ইতিমধ্যে ( বাঙালি উগ্রজাতীয়তাবাদী আঞ্চলিকতাবাদের ভয়ে ) কাঁপা কণ্ঠে হলেও দুএকটি কণ্ঠ সরব হতে শুরু করেছে। চন্দন সেনগুপ্ত বহুদিন ধরে এ নিয়ে লিখছিলেন। মাস কয় আগে বিজয়া কর সোমের এক লেখা এ নিয়ে পড়েছি মনে পড়ছে। এই সেদিন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক পার্থঙ্কর চৌধুরী দৈনিক যুগশঙ্খে লিখলেন, বরাক বাঁধ বিতর্কে অন্য একটি দৃষ্টি কোণ। তিনি বছর দুই আগে তাঁকে পাঠানো বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের ( BAPA) নেতৃত্ব মো হিলাল উদ্দিনের এক মর্মস্পর্শী ই-মেল তুলে ধরেছেন। এ মেলটির বহুল প্রচার হওয়া উচিত ভেবে আমিও হুবহু তুলে ধরলাম,ঃ
শুভেচ্ছা নেবেন । আমাদের মাতৃভাষা একটাই, বাংলা। আর এজন্যেই অসমের কাছাড় ও বাংলাদেশের ঢাকা উভয় স্থানের লোকই রক্ত ঝরিয়েছে । মাতৃভাষা বাংলা ছাড়াও আমাদের (উভয় দেশের ) নিজস্ব নদী বরাক । একাংশ লোকের মাত্রারিক্ত চাওয়া -পাওয়া বরাক ও মেঘনা উপত্যকার মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে । বরাক আমাদের যোগাযোগের ধারা, প্রকৃতিরূপী জননী আমাদের নাড়ীর যোগসূত্র স্থাপনের উৎস ।
আমাদের দেশের একজন খ্যাতনামা পরিবেশবিদ , এ এম এ মুহিথ গত মাসে ( আগষ্ট, ২০০৭) কাছাড় সফরে গেছিলেন। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশ তথা বরাক/মেঘনার বুকে সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কথা বিশদভাবে তোলে ধরাটাই ছিল তাঁর সফরের মূল উদ্দেশ্য । কিন্তু শিলচর শহরেরে কিছু লোক তাঁর কুশ পুত্তলিকা দাহ করল এবং ঘণ্টা মধ্যে সে দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্যে ফতোয়া জরি করল । তারা উন্নয়ন-এর প্রকৃত অর্থ বোঝে না, উন্নয়নের নামে যে ধ্বংস লীলা চলবে , সেটা দেখার দূরদৃষ্টি তাদের নেই । সত্যি তাদের জন্যে করুণা হয়।
অরুন্ধতী লিখেছেন, “Big Dams are to a Nation's 'Development' what Nuclear Bombs are to its Military Arsenal. They're both weapons of mass destruction. They're both weapons Governments use to control their own people. Both Twentieth Century emblems that mark a point in time when human intelligence has outstripped its own instinct for survival. They're both malignant indications of civilisation turning upon itself. They represent the severing of the link, not just the link - the understanding - between human beings and the planet they live on. They scramble the intelligence that connects eggs to hens, milk to cows, food to forests, water to rivers, air to life and the earth to human existence.”
আমাদের বরাক উপত্যকা এ দেশের পশ্চাদপদ এলাকাগুলোর একটি-- এনিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সন্দেহ নেই যে নিয়মিত বানের জলে এ উপত্যকার নাভিশ্বাস বেরোবার উপক্রম হয়। বৃষ্টির অল্প অভাবেই এ উপত্যকার মাটি ফেটে চৌচির হয় । বিদ্যুতের অভাবে নাগরিক জীবন এখানে হররোজ নরকের স্বাদ-গন্ধ ভোগ করে। তাই বলে কি সভ্যতাকে ধারণ করবার মানবিক বুদ্ধিও আমাদের ভ্রষ্ট হয়ে গেছে যে শিয়রে মৃত্যু আসন্ন জেনেও আমরা নীরবে আছি। তাকে স্বাগত জানাবার জন্য সমস্ত আয়োজন সম্পূর্ণ করছি? সিলেট বাংলা-বাঙালির ঐক্যের কথা নাহয় ছেড়েই দিলাম । ওদেশ বিদেশ এখন । সেই বিদেশের লোকের জন্যে, একাত্তরে ( ৭১) আমাদের প্রেম কেন উথলে উঠেছিল, সে কি সত্যি প্রেম ছিল না আরো এক প্রতিবেশী পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণাটা বড় ছিল--- সে প্রশ্নও না হয় নাই করলাম । কিন্তু আমাদেরই নদী বরাক সুরমা যাদের নিয়ে বহু গান গেয়েছি, কবিতা করেছি তার জন্যে আমাদের দরদ লুকোলো কোথায় ? মনিপুর ডুববে, বাংলাদেশ শুকিয়ে যাবে--আমরা কি সত্যি তাদের রক্তে সোনার স্বর্গ গড়ব বলে ভাবছি ? আমরা কি ভাবছি---নগর পুড়ে ছাই হবে আর আমাদের এই দেবালয় দিব্বি বেঁচে যাবে ? সত্যি, আমাদের বুদ্ধির জন্যে করুণা হয় !!

তথ্য সূত্রঃ
১। Big is not always the Best, Kangla online .Com, July 5, 2009.
২। Prime Ministers and Big Dams , Hindu, December, 05
৩। the greater common good, http://www.narmada.org/gcg/gcg.html
বরাক বাঁধ বিতর্কে অন্য একটি দৃষ্টি কোণ; পার্থঙ্কর চৌধুরী, দৈনিক যুগশঙ্খ

( জুন, ০৯ ২২শে লেখা শুরু করে জুলাই ,০৯ ৫ এ লেখা শেষ: এ লেখাটি দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত।)

Wednesday, 10 June 2009

Barak-Brahmhaputra-Gomati Moitri O Matribhasha Utsab

বরাক-ব্রহ্মপুত্র-গোমতি মৈত্রী ও মাতৃভাষা উৎসব

মূলতঃ ত্রিপুরা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফততরের মন্ত্রী অনিল সরকারের উদ্যোগে গেল ৬ ও ৭ জুন,০৯ তারিখে গুয়াহাটির শংকর দেব কলাক্ষেত্রের শিল্পগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুদিনের বরাক-ব্রহ্মপুত্র-গোমতি মৈত্রী ও মাতৃভাষা উৎসব । সহযোগি আয়োজক হিসেবে ছিল ই জেড সি সি ( কলকাতা), এন ই যে ও সি সি (ডিমাপুর , নাগাল্যাণ্ড), শ্রী মন্ত শংকর দেব কলাক্ষেত্র ( গুয়াহাটি) , মোহনা ও অসম কালচারেল ব্রিগেড। উত্তর পূর্বাঞ্চলের সমস্ত ভাষিক গোষ্ঠির লোক ঐতিহ্যকে এক মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এর আয়োজন করা হয়েছিল । ধামাইল বিহু সব এক মঞ্চে একাকার হয়ে গিয়েছিল। কবি সম্মেলনো উৎসবের অঙ্গ ছিল।

  উৎসবের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক অন্নদা চরণ ভাগবতী। তাতে মূখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি কনক সেন ডেকা, বিশিষ্ট অতিথি ছিলেন মামনি রয়সম গোস্বামী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন রত্ন ওঝা, স্বপ্ননীল বরুয়া, ভি হেকালি ঝিমমি এবং অধ্যাপক উষা রঞ্জন ভট্টাচার্য।

বরাক উপত্যকার আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মনিপুরী নৃত্যগুরু নীলমাধব মুখার্জীর টানা ত্রিশ মিনিটের নৃত্য উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল । ৯১ বছর বয়সী এই নৃত্য গুরু অসম সরকারের অবসর প্রাপ্ত আধিকারিক। শিল্পী পেনশন পান। বরাক রত্ন পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন ( ১১-০৬-০৯) 

By our Staff Reporter
GUWAHATI, June 2: The Tripura government will be organizing the Brahmaputra- Barak- Ganga- Gomti Maitri Aru Matribhasha Utsav at Shilpagram, Guwahati from June 6. The two-day Utsav will start with a poets' meet which will be inaugurated by Annadacharan Bhagawati.  Minister of Information, Culture, Tourism and Higher Education, Government of Tripura, Anil Sarkar will be the chairperson of the poets' meet. Kanak Sen Deka, ex- President of Asom Sahitya Sabha, will be the chief guest and Dr. Indira Goswami will be a special guest. (News Clip from The Sentinel

 

Monday, 8 June 2009

বিশ শতকের বাংলা গদ্য যারা শাসন করেছেন

 
রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরের কালের বাংলা কথা সহিত্যে যারা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, তাঁদের অনেকেরই জন্ম শত বর্ষ গেল দেড় দশকে উদযাপিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন,বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০), বিভূতি ভূষণ মুখোপাধ্যায়( ১৮৯৪-১৯৮৭), তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ( ১৮৯৮-১৯৭১), শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯-১৯৭০),বনফুল ( ১৮৯৯-১৯৭৯), শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় (১৯০১-১৯৭৬), মনোজ বসু (১৯০১-১৯৮৭), অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত (১৯০৩-১৯৭৬), প্রেমেন্দ্র মিত্র ( ১৯০৪-১৯৮৮), সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪), প্রবোধ কুমার সান্যাল (১৯০৫-১৯৮৩)‌ সতীনাথ ভাদুড়ী (১৯০৬-৬৫), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪),গজেন্দ্র কুমার মিত্র ( ১৯০৮-১৯৮০), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬), লীলা মজুমদার ( ১৯০৮-২০০৭),আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯-১৯৯৫) এবং আরো কারো কারো মধ্যে সুবোধ ঘোষ (১৯০৯-১৯৮০)


By our Staff Reporter
GUWAHATI, June 2: The Tripura government will be organizing the Brahmaputra- Barak- Ganga- Gomti Maitri Aru Matribhasha Utsav at Shilpagram, Guwahati from June 6. The two-day Utsav will start with a poets' meet which will be inaugurated by Annadacharan Bhagawati.  Minister of Information, Culture, Tourism and Higher Education, Government of Tripura, Anil Sarkar will be the chairperson of the poets' meet. Kanak Sen Deka, ex- President of Asom Sahitya Sabha, will be the chief guest and Dr. Indira Goswami will be a special guest. ( NEws Clips from Sentinel, Guwahati)