আমার চেতনার রঙে রাঙানো এই খেলা ঘরে:

~0~0~! আপনাকে স্বাগতম !~0~0~

*******************************************************************************************************

Monday, 9 November 2009

WHO THE HELL IS SHE !?



 I got the attached pictures from one friend of mine with the massage and request mentioned bellow:
“Disrespect - WHO THE HELL IS SHE ?! Pls forward this to few of our news channels.  Please forward this to all ur frd. She is Hell  ..................        
      Hello Everyone,
These pictures I am sending you all shows the gross disrespect and insult to the Indian National flag by this so called 'spiritual leader' and self proclaimed 'GOD' Mataji Nirmala Devi. This disrespect to our country's flag shows that she has definitely no respect or love for the country that gave her so much and her husband who was an IAS officer and chief of the SCI  (he is seated next to her in the pics).. Such a shame..I do urge and plead with all Indians who deeply love their country to
forward the photos to as many people as possible so that it does catch the eye of someone higher up in the Indian Govt who can really take some action against this cult.
         Pls dont keep this mail in your mail box as I feel keeping this in mail box itself is an insult to our country. PLZ FORWARD TO ALL U KNOW...”
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
My reaction and reply to him was which I want to share with you as well:
In My opinion, She and Her disciples are the true Indians! At-least for those who think Bharat Mata is non-other than Goddess Durga. While a Hindu pronounce, "Guru Bramha, Guru Bishnu, Gurudeva Maheswara, Gurudeva Parambrhma Tosmoi Sriguruve Nomo!” then for him the Goddess Durga become his or her Gurudeva. So the Equation becomes as follows:
Bharat Mata = Goddess Durga= Matasree Nirmala Devi.
So, why she need to show any respect to the Indian Flag? It's her own symbol. It depends on her own wish where to Keep it, where not. Let’s salute her, she might save us from those Pro-Pakistani Indians  who doesn't want to sing , Bande Mataram!'
                  I'm not going to delete the picture from my computer . It's another type of Indian Hindu Religious Superstition. Nothing going happen to me or my country for keeping this picture here.
Rather, I need it for any future references. Let's sing the great Song, Bonde Mataram.....Keeping her picture in front of us!!! And be happy to have Mata Nirmala Devi in this great Country!
It's our own belief system, of which we are proud enough, that has created her!
 'Mera Bharat Mohan!


++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
 I'm keeping one post on VANDEMATARAM  by obaidullah Qasmi (obaidullah_qasmi@hotmail.com) in markazulmaarif@yahoogroups.com FOR any future reference:.Jamiat Ulama-e-Hind has rightly supported the Fatwa by Darul Uloom Deoband suggesting Muslims not to sing Vande Mataram on religious grounds. To Tagore, the mothers in Bande Mataram are the Hindu goddesses and therefore it is foolish to force the people of other religions to sing their praises.

Vande Mataram, has been taken from the novel Anand Math written by Banerjee, a fierce ANTI-MUSLIM and PRO-BRITISH fundamentalist. His novel is replete with anti-Muslim slogans and praises for British rule where he declares Englishmen our friends as our rulers and asks Indians to go against them, aiming at eliminating Muslims and demolishing all the mosques and Muslim shrines.

Therefore, it was opposed by many national leaders including Nehru, Subhash Chandra Bos. Ram Manohar Lohia went further saying that the novel is a blot on Indian national struggle because it welcomed the British.

Tagore rejected the song as one that would unite all communities in India. He also said:"The core of Vande Mataram is hymn to goddess Durga: this so plain that there can be no debate about it. ..but no Mussulman can be expected patriotically to worship the ten-handed deity as 'Swadesh' [the nation].
  
==============================================================


‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে
“দারুল উলিম দেওবন্দ হচ্ছে পরাধীন ভারতে এমন এক ঘটনা যে ঘটনা ১৮৫৭-র স্বাধীনতার যুদ্ধের ইতিহাসকে  সরাসরি ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা অর্জনের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে। ১৮৫৭-র স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুক্ত প্রদেশের এক ছোট শহর শামলীর মানুষ কয়েকজন মুসলমান সাধু পুরুষের নেতৃত্বে নিজেদের শহরকে বেশ ক’দিন বৃটিশের অধিকার থেকে মুক্ত করে রেখেছিলেন। এঁদের নেতা ছিলেন হাজি ইমদাদুল্লাহ। এঁর সহযোগী সেনাধক্ষ্য দু’জন ছিলেন আল ইমাম মহম্মদ কাশিম নানোতবী এবং মৌলানা মুহাম্মদ রশিদ আহমদ গঙ্গোহী। মতাদর্শ দিক থেকে এঁরাও ওয়ালিউল্লাহের ভাবশিষ্য ছিলেন। যদিও শিষ্য পরমম্পরাতে ইমদাদুল্লাহের নাম কার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমরযেজেনে উঠতে পারিনি। বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে হাজি ইমদাদুল্লাহ মক্কা চলে যান এবং সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। অন্য দু’জন তখন ১৮৬৭ খৃষ্টাব্দে দিল্লির উত্তরের এক ছোট্ট শহর , বর্তমান উত্তর প্রদেশের সাহরনপুর জেলার দেওবন্দ মক্তবকে দারুল উলুমে উন্নীত করেন। এক দশকের মধ্যে সমগ্র যুক্ত প্রদেশে বেশ কিছু দেওবন্দি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। শতাব্দের শেষ অবধি চট্টগ্রাম থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত এর অনুমোদিত অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।  ধর্ম সংস্কারের পক্ষে দেওবন্দের বার্তা খুব দ্রুত বহির্বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে আরব দেশগুলো থকেও ছাত্রদের স্রোত বইতে শুরু করে । ক্রমে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোতেও দেওবন্দের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
    সিপাহি বিদ্রোহের ব্যর্থতাকে হজরত মৌলানা কাশিমী বা তাঁর সহযোগীরা একটি দিনের জন্যেও ভুলে থাকতে  পারেন নি । তাঁর নিজের হাতে গড়া শিষ্য মৌলানা মাহমুদ হাসান সাইখুল হিন্দ ১৯১৩ খৃষ্টাব্দে ব্রিটিশদের উৎখাত করবার জন্যে আরো একটি বৈপ্লবিক  ছক কষেন। রাওলাট প্রতিবেদনে যেটিকে বলা হয়েছিল ,  ‘Silken Letters’ দুর্ভাগ্যবশত এক ছক ফাঁস হয়ে গেলে সাইখুল হিন্দ তাঁর দেওবন্দী সহযোগী মৌলানা হুসেইন আহমেদ মাদানি, মৌলানা ওজাইর গুল এমন আরো কয়েকজনের সঙ্গে ধরা পড়েন এবং ভূমধ্য সাগরের দেশ মাল্টাতে নির্বাসিত হন। ১৯২০ খৃষ্টাব্দে মাল্টা থেকে ছাড়া পেয়ে দেশে ফিরে এসে তিনি জমিয়ত উলেমা-ই হিন্দের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ,যে সংগঠন এর আগের বছর তাঁর দেওবন্দী শিষ্যরা গড়ে তুলেছিলেন। ততদিনে মহাত্মা গান্ধী ভারতবর্ষে এসে গেছেন এবং জাতীয় কংগ্রেসের  আন্দোলনের নেতৃত্ব বহন করেছেন। খিলাফত আন্দোলনের সূত্রে শুরু থেকেই জমিয়ত কংগ্রেসের সহযোগী সংগঠনে পরিণত হয়। ১৯২৬-এ জমিয়ত তার কলকাতার এক সভায় ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপন করেছিল, যে দাবি কংগ্রেস উত্থাপন করেছিল আরো তিন বছর পরে লাহোর অধিবেশনে”।
    বন্ধুরা, ‘মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ডিব্রুগড়ের অসম জামিউল উলুম মাদ্রাসা’নামে আমার এক গবেষণা মূলক বড় লেখা  গেল বছর প্রকাশ গুয়াহাটির বাংলা কাগজ , ‘নাইন্থ কলামে’ প্রকাশিত হয়েছিল/ পুরো লেখা আমি ‘রামধেনু’তে টাইপ করেছিলাম বলে এখানে পোস্ট করা গেল না। এর থেকে একটা প্রয়োজনীয় উদ্ধৃতি মাত্র তুলে দিলাম। এতে দেওবন্দ সম্পর্কে আপনাদের আর কী ধারণা আছে জানি না, কিন্তু এদের বিরুদ্ধে স্রেফ ‘বন্দেমাতরমে’র বিরুদ্ধে ফতোয়া দেবার দায়ে দেশদ্রোহীতার অভিযোগ কেউ তুললে কাতুকুতু পায় বটে। যে সংঘ পরিবার বৃটিশ না তাড়িয়ে   মুসলমান তাড়াতে বেশি ব্যস্ত ছিল, তাদের সংগঠনগুলো যখন এনাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে তখন আমার রবীন্দ্রনাথের ঐ কথাগুলোই মনে পড়ে , “ ... আমরা সকলেই যে বিশেষরূপে পবিত্রতার চর্চা করে থাকি তা নয়, অথচ অধিকাংশ মানব জাতিকে অপবিত্র জ্ঞান করে একটা সম্পূর্ণ অন্যায় বিচার , অমূলক অহংকার, পরস্পরের মধ্যে অনর্থক ব্যবধানের সৃষ্টি করা হয়। এই পবিত্রতার দোহাই দিয়ে এই  বিজাতীয় মানব ঘৃণা আমাদের চরিত্রের মধ্যে যে কীটের ন্যায় কার্য করে তা অনেকেই অস্বীকার করে থাকেন। তাঁরা অম্লান মুখে বলেন , কই,  আমরা ঘৃণা করি! আমাদের শাস্ত্রেই আছে বসুধৈব কুটুম্বকম। শাস্ত্রে কি আছে এবং বুদ্ধিমানের ব্যাখ্যায় কী দাঁড়ায় তা বিচার্য নইয়, কিন্তু আচরণে কী প্রকাশ পায় এবং এ আচরণের আদিম কারণ যাই থাক তার থেকে সাধারণের চিত্তে স্বভাববতই মানবঘৃণার উৎপত্তি হয় কিনা, এবং কোনো একটি জাতির আপামর সাধারণে অপর সমস্ত জাতিকে নির্বিচারে ঘৃণা করবার অধিকারী কি না, তাই বিবেচনা করে দেখতে হবে।” ( নূতন ও পুরাতন; স্বদেশ ) 
‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে আমি এক পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধ লেখার তালে আছি। আমিও মনে করি আনন্দমঠ একটি বৃটিশপন্থী মুসলমান বিরোধী উপন্যাস। কেউ পালটা মন্তব্য দিলে আমি প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যোগাব। কিন্তু আপনাদের কেউ কি আমাকে এই তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারেন যে রবীন্দ্রনাথ কোথায় এর বিরুদ্ধে লিখেছিলেন? আমি জমিয়তের মারকাজ-উল-মারিফ-এ (markazulmaarif@yahoogroups.com) ওদেইদুল্লাহ কাশিমীর ( Obaidullah Qasmi; obaidullah_qasmi@hotmail.com) একটি পোস্ট পড়লাম। যেখানে তিনি লিখেছেন, “Therefore, it was opposed by many national leaders including Nehru, Subhash Chandra Bos. Ram Manohar Lohia went further saying that the novel is a blot on Indian national struggle because it welcomed the British.Tagore rejected the song as one that would unite all communities in India. He also said:"The core of Vande Mataram is hymn to goddess Durga: this so plain that there can be no debate about it. ..but no Mussulman can be expected patriotically to worship the ten-handed deity as 'Swadesh' [the nation]”। আমি কিন্তু ‘স্বদেশে’র তিনটি নিবন্ধের কোথাও সেটি খোঁজে পাই নি।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আজ ১০নভেম্বর,০৯-এ একটা সূত্র পেলাম যেখানে বলছে, রবীন্দ্রনাথ সুভাষ বসুকে একটা চিঠিতে একবার লিখেছেনঃ
"The core of Vande Mataram is a hymn to Bharat Mata( Mother India): this is so plain that there can be no debate about it. Of course Bankimchandra does show Durga to be inseparably united with Bengal in the end, but no Mussulman [Muslim], christians and Arya Samajis can be expected patriotically to worship the ten-handed deity as 'Swadesh' [the nation]. This year many of the special [Durga] Puja numbers of our magazines have quoted verses from Vande Mataram - proof that the editors take the song to be a hymn to Durga. The novel Anandamath is a work of literature, and so the song is appropriate in it. But Parliament is a place of union for all religious groups, and there the song cannot be appropriate. When Bengali Mussulmans show signs of stubborn fanaticism, we regard these as intolerable. When we too copy them and make unreasonable demands, it will be self-defeating."
In a postscript to this same letter, Rabindranath says:
"Bengali Hindus have become agitated over this matter, but it does not concern only Hindus. Since there are strong feelings on both sides, a balanced judgment is essential. In pursuit of our political aims we want peace, unity and good will - we do not want the endless tug of war that comes from supporting the demands of one faction over the other."
  এনিয়ে আরো কিছু দরকারি সংযোগ আছে এখানে। একটা মন্তব্য আমি দিয়েছিলাম। পোস্ট ব্যর্থ হয়েছে । তাই এখানে লিখে রাখছিঃ
'India is a democratic country unlike Muslim nations' Mr Sriram India might be a democratic country, but people like you are not. There are hundreds of Muslim Majority Country who follows West Minister System of Governance.There is no point of saying that,'Tomorrow the Indian flag cannot be changed just because some Muslims will find Ashoka Chakra or the Saffron colour Islamic. ' Because no Muslim ever raised such question in the history. But, the song in question was in debated from the very beginning of it political journey. Any patriots, those who love his or her country man can explain with love and care  to Muslims that "Vandana' does not necessarily mean bowing down to anyone. It only means praising, just like Iqbal did in the song 'Sare Jahanse Accha.' Though, personally I think that song ( Iqbal's) is more chauvinistic in nature.Muslim do not bow down before Muhammad as well but, pray that all praises be upon him. So, why do they object if the word is explained with deep love. But, who cares for love in Hindu brigade? They will kill hundreds of countryman, still will be recognized as 'only contractors' of patriotism! In Bangladesh where they don't have any fare of loosing identity they happily sing such song calling country as mother. I can't html codes here. please check Sabina Yasmin's song in  banglamusic

---------------------------------------------------------------------------------------------
November 18, 2009

India: Concerned citizens statement in response to Jamait Ulema's resolutions

the below statement was released on the 18th November 2009 at a press conference which was addressed by Zafar Agha, Shabnam Hashmi, Gauhar Raza and Sohail Hashmi.

among the signatories there are prominent names like Nasiruddin Shah, Javed Akhtar, Shabana Azmi, Saeed Akhtar Mirza, Shaid Mehdi etc.
Here are some other important link on the topic:

Tuesday, 3 November 2009

It's something like National Song of Barak valley

আমার ধারণা আপনাদের এ গানটি শুনে ভাল্লাগবে। যদিও আমার কিছু বিরুদ্ধ মতও আছে এ গানটি নিয়ে। এ অনেকটা বরাকের জাতীয় সঙ্গীতের মতো। যেন শিল্পীরা অসমিয়া করণের জবাবে বরাকে বাঙালি করণের চেষ্টা করছেন। এটা কোনো পক্ষেই কোনো স্বাস্থ্যকর প্রবণতা নয়। এ রাজ্যের দুই উপত্যকা ও পাহাড়ি জেলা দুটো যে বহু ভাষা, বর্ণ ও ধর্মের এক বৈচিত্রময় আবাস ভূমি এ আমাদের সব্বারই স্বীকার করা উচিত। সে যাই হোক আপনারা এ গানটি শুনুনঃ

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
I hope all of of you will love to listen this song.Though personally I have some negative notion about the song.
      It's something like National Song of Barak valley. The Composers are trying to give an answer to the process of Assamisation in a form of Bengalisation of Barak valley.It's not a healthy practice from either side. Both the valley of the sate and the hill districts are home of Divers Culture, Ethnicity and Religion . All of us have to recognize it.
     Anyway, these are all my personal opinion. You , better , listen the song.



Sushanta kar

Monday, 2 November 2009

Bid Farewell to the Hegemony of English from Internet World


 ইনটারনেট বিশ্বের থেকে 
ইংরেজির আধিপত্যকে বিদেয় জানান

আজ থেকে ৭ বছর আগে ২০০২তে তিনসুকিয়া থেকে প্রকাশিত ছোট কাগজ ‘দৃষ্টি’তে ‘অসমে ব্যবহারিক বাংলা শিক্ষার এক সংকট’ নামে এক প্রবন্ধে আমি লিখেছিলাম , ‘কম্প্যুটার ইংরেজি ছাড়া বোঝেনা—এ অবশ্য ডাহা মিথ্যা প্রচার। তা যদি সত্যও হয় তবে ভারতবর্ষ সেই দেশ যেখানে তাকে বহু ভাষার পাঠ দেয়া যায়। সে পাঠ না নেয়, তবে পুরোনো প্রযুক্তির আস্তাকুড়ে তাকে ঝেড়ে ফেলে আমাদের তৈরি করে নিতে হবে আরো আধুনিক সেই যন্ত্র যে ঈশ্বরের পাশে বসবে না। স্বয়ং ঈশ্বরকে -–যিনি বাংলা বোঝেন না—জায়গা ছাড়ার নোটিশ দেবে। যে বলবে—শুনবে বোঝবে শুধু ইংরেজি নয়—মানুষের ভাষা। তার মাতৃভাষা। সে ভাষার শত বৈচিত্রকে সে বুকে ধরবে পরম গৌরবে আর মমতায়। অচিরেই তা হতে যাচ্ছে বলে আমাদের বিশ্বাস। এবং কম্প্যুটারই তা করবে...।”        ( উপরের চিত্ররূপে থাকে লেখাটার ৫ম পৃষ্ঠা দেখুন।নিচে চিত্ররূপে পুরো লেখাটা পড়ুন।)
    আজ এই ২০০৯তে আমার সে বিশ্বাস সত্য হতে চলেছে। ইনটারনেট কোর্পোরেশন ফর এসাইনড নেমস এণ্ড নাম্বার্স নামের আন্তর্জাতিক সংস্থাটি এই কাজ করতে চলেছে। এবং ইন্টারনেট থেকে ইংরেজির আধিপত্য একরকম বিদেয় নিতে চলেছে। সিওলে এদের সাম্প্রতিক এক সভার শেষে সংস্থাটির হয়ে চেয়ারমেন পিটার ডেঙ্গেট থ্রাস সাংবাদিকদের বলেছেন, চার দশক আগে ইন্টারনেটের যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম এক সর্ববৃহৎ  প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। একে তিনি বলছেন ইনটারনেটের আন্তর্জাতিকীকরণের পক্ষে প্রথম এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! এটি  পরিষ্কার যে পৃথিবীর তৃতীয় জনপ্রিয় ভাষা ইংরেজি দিয়ে যে সত্যিকারেরে আন্তর্জতিকীকরণ সম্ভব হচ্ছে না এটা অন্তত; ব্যবসায়িক স্বার্থে হলেও এই প্রযুক্তিবিদেরা এখন স্বীকার করতে চলেছেন।
    এই ঘটনা শুধু, কম্প্যুটার প্রযুক্তিতেই বিপ্লব আনতে যাচ্ছে না। এর এক সুদূর প্রসারী সাংস্কৃতিক –রাজনৈতিক প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়তে যাচ্ছে। সারা পৃথিবীতেই এবারে টিভি চ্যানেলগুলোর মতোই ইনটারনেট ব্যবসায়ীরাও মাতৃভাষার প্রচার ও প্রসারে জোর দিতে যাচ্ছে। এবং ভারতের মতো দেশে ইংরেজি জানা 'সাহেব'রা এবারে ‘সেকেলে’ হতে চললেন। মাতৃভাষার বিজয় হোক, জয় হোক বাংলা ভাষার !!
==================================================
               I wrote the piece bellow in English for PRAGYAN's next issue.
==================================================

With Non-Latin Code Internet will be 
Internationalised for the First Time:
A Historic Technological Step Forward by ICANN .
          Seven Years, ago in 2002, I wrote an article ‘অসমে ব্যবহারিক বাংলা শিক্ষার সংকট’ in ‘দৃষ্টি’ (Dristi), a Bengali little magazine of Tinsukia of those days. People keep saying that this is the Computer age; hence we have no other alternative to English as a Global Communicative language.  I wrote on that notion,  “কম্প্যুটার ইংরেজি ছাড়া বোঝেনা—এ অবশ্য ডাহা মিথ্যা প্রচার। তা যদি সত্যও হয় তবে ভারতবর্ষ সেই দেশ যেখানে তাকে বহু ভাষার পাঠ দেয়া যায়। সে পাঠ না নেয়, তবে পুরোণো প্রযুক্তির আস্তাকুড়ে তাকে ঝেড়ে ফেলে আমাদের তৈরি করে নিতে হবে আরো আধুনিক সেই যন্ত্র যে ঈশ্বরের পাশে বসবে না। স্বয়ং ঈশ্বরকে –যিনি বাংলা বোঝেন না—জায়গা ছাড়ার নোটিশ দেবে। যে বলবে—শুনবে বোঝবে শুধু ইংরেজি নয়—মানুষের ভাষা। তার মাতৃভাষা। সে ভাষার শত বৈচিত্রকে সে বুকে ধরবে পরম গৌরবে আর মমতায়। অচিরেই তা হতে যাচ্ছে বলে আমাদের বিশ্বাস। এবং কম্প্যুটারই তা করবে...।”            The gist of the quotation is that the computer will teach us how to be Multilingual, here in India.
            It’s my pleasure to announce here that my prediction of those days is no more a dream but the reality now. The Internet Corporation for Assigned Names and Numbers board (ICANN) is bringing the almost all the languages of the world to the Global Internet. ICANN is an internationally organized, public benefit non-profit company and responsible for the global coordination of the Internet's system of unique identifiers like domain names (like .org, .museum and country codes like .uk) and the addresses used in a variety of Internet protocols that help computers reach each other over the Internet. Careful management of these resources is vital to the Internet's operation, so ICANN's global stakeholders meet regularly to develop policies that ensure the Internet's ongoing security and stability. In an recent meeting of ICANN held  at Seoul, the South Korean Capital, on 30th October,09 they approved a proposal to introduce internet  addresses containing non-Latin characters from start to finish  online. They call the proposal ‘The new Internationalized Domain Name Fast Track Process’
According to ICANN chairman Peter Dengate Thrush it’s biggest technological shift in Internet’s four decades old history  Right now Internet address endings are limited to Latin characters – A to Z. But the Fast Track Process is the first step in bringing the 100,000 characters of the languages of the world online for domain names.
          ICANN's Fast Track Process started working from 16 November 2009. It will allow nations and territories to apply for Internet extensions reflecting their name – and made up of characters from their national language. If the applications meet criteria that include government and community support and a stability evaluation, the applicants will be approved to start accepting registrations.  This means Hindi will get the first preference in India. But, this is only the first step. Latter on other languages like Bengali, Assamese, Manipuri will not be left behind.
All of our non-English users should agree with Rod Beckstrom, ICANN's President and CEO , while he says, “It is an incredibly big one and a historic move toward the internationalization of the Internet," He also has opined  "The first countries that participate will not only be providing valuable information of the operation of IDNs in the domain name system, they are also going to help to bring the first of billions more people online – people who never use Roman characters in their daily lives."   IDNs have been a topic of discussion since before ICANN's inception. It's taken years of intense technical testing, policy development, and global co-operation to prepare the Fast Track process for its coming launch. The work on IDNs has gone through numerous drafts, dozens of tests, and an incredible amount of development by volunteers since ICANN started this project. October, 30’s meeting was the first step in moving from planning and implementation to the real launch. The launch of the Fast Track Process will be an amazing change to make the Internet a more popular and valuable household tool like Television around the globe. It’s not only the technological progress of the first decade of the century; rather business equations are also equally working behind the forward technological step.  
Like Television, this technological jump of Web World will have a huge cultural and political impact on diverse Global societies, leave alone the economical and scientific significances.  At least we should be sure enough that the days of  the myth on the English language as a Global language are now numbered. For more on the topic one can log on : HERE



Sunday, 25 October 2009

স্বামী গিসে মোক বন্ধক থুয়্যা ধর্মের পথ আর চিনিলেন না

সেদিন নর্থ ইস্ট ইয়াহু গ্রুপে হিতেশ কলিতা  CNN এর থেকে একটা সংবাদ পাঠায়ঃ

BUNDELKHAND, India (CNN) -- The cattle slowly drag the old-fashioned plow as a bone-thin farmer walks behind, encouraging them to move faster with a series of yelps.Drought, debt and desperation have pushed some farmers in rural India to sell their wives.Drought, debt and desperation have pushed some farmers in rural India to sell their wives.It is a scene from times of old, but still the way many farmers operate in rural India, where the harvest often determines feast or famine.The region is called Bundelkhand, spanning the two northern Indian states of Uttar Pradesh and Madhya Pradesh. It is here that drought, debt and desperation have pushed people to extremes.To survive the bad years, some farmers say they turn to the "Paisawalla" -- Hindi for the rich man who lends money. Farmers say the loans from these unofficial lenders usually come with very high interest.
    When the interest mounts up, lenders demand payment. Some farmers work as bonded laborers for a lifetime to pay off their debts. Others here say because of years of little rain and bad harvests they are forced to give money lenders whatever they ask for.Sometimes that includes their wives. It happens sometimes when somebody borrows money," says a farmer's wife who did not want to be identified. She should know, considering what police say she told them. She said a rich man bought her from her husband.
    "He did buy me," she says. "That's why he told me he bought me."For 30 days she says the man forced her to live with him.When her case drew public attention, she retracted her police report and her husband took her back.Ranjana Kumari with India's Center for Social Research says the exploitation of women is common in the region. And, she says, there is little support for women in India who have the courage to file a case with authorities."Nobody's going to support or help them," Kumari says. "If a family decides not to help them, the system is already not so sensitized towards them, whether it is police, judiciary, whether the legal system. So the women themselves tend to withdraw these cases." In another village, another story involving another farmer, and money lender.
    "I sold my water engine and land and gave back his 30,000 rupees," the farmer says, describing his $600 loan payment.
The farmer, whom CNN is not identifying to protect his wife and children, says the lender then asked him to send his wife to help with chores while the lender's wife was sick. The farmer says he complied, and his children -- including his daughter -- went too.But the mother never returned. The farmer says he believes she was stolen from him. The daughter says the lender sold her mother to another man.State authorities say they have investigated the matter and found that the mother denies she was sold and has simply gone to live with a lover.
    The daughter says that's not true, and claims that she and her father were told to keep quiet by some of the village leaders. During CNN's interview with the family, officials with the state magistrate's office barged into the farmer's home and began videotaping.An Indian government report completed in 1998 says the region is prone to what it calls "atrocities," including the buying and selling of women.However no one can say just how common these kinds of incidents are.Social workers say this isn't just about poverty, but also an indication of the low social status of women in poverty-stricken areas such as Bundelkhand.
    "Those women are very vulnerable to all kinds of physical and sexual exploitation." Kumari says. "Also there is much higher level of violence against women in that area."The government and charities have been trying to help but the status of women and girls, often illiterate and seen as a financial burden, remains low. Nevertheless, attitudes are slowly beginning to change, Kumari says.
    A farmer's wife in yet another village in the region said she was sold by her own parents 14 years ago."My mother and father got 10,000 rupees (about $200)," she says. "That's why they sold me."She says she was 12 years old at the time her husband bought her. She never considered going to authorities because she says she had no where else to go. She accepted it as her destiny.But now she has a daughter of her own and her perspective has changed.Would she allow her daughter to be sold?
 She looked up and shook her head firmly.
"No," she said, "I would not want this for her. Let her marry however she wants."

জবাবে আমি লিখি ঃ

It's age-old practice in Indian Society. Women are most suffered community in a situation like drought , Tsunami , Food, War and Riot. In Assam also hundreds of father and Husband ( sometime even mothers) sell their child to the Flash Traders. This is how India treat it's 'MatriShokti'; of which a good section of it's citizen feel proud.They rather more concern about the Burqa that Muslim women wore. By the way, on selling their women Muslims do not behave differently. Here unity of both the community is unique. We can
feel proud about these type of great Indian Unity :) :)
Sushanta

সে আবার লেখেঃ

India is in 'IT super power...nuclear power....Chandrayaan 1 ....2...."300 Crore project" for building Shivaji Statue ....but what about poor people....sometime I get frustrated to think of our leaders......what are they doing for uplifting of farmers....I heard some scheme for farmers..but does that fund reach to the farmers???

আমার আবার জবাব ছিলঃ
The Leaders are not of the poor and peasantry. It's Cristal clear. Depending on them will only lead to the frustrations. In a country where staying at a Dalit's home by Rahul Gandhi became news, it's very clear that not staying there for years do not necessarily become any news. And this is the real fact.
Sushanta kar

এ ক'দিন ধরে আমি 'উত্তর বঙ্গের ভাষা' নামে একটা বই পড়ছি। তাতে অসমের করিমগঞ্জ জেলার বদরপুর কলেজের অধ্যক্ষ শিব তপন বসুর রাজবংশী মেয়েদের ভাষা নিয়ে একটা লেখাতে হঠাৎই এই প্রসঙ্গ পেয়ে আমি আবার লিখেছিঃ 

Dear
Hitesh,
Selling Wives and Girls were so acute  in Bengali and Assamese societies that the sufferings of women got expressions in folk-stories as well.   there was a Rajbongshi Folk Drama( লোক নাট্য) Maya Bondhoki ( মায়্যা বন্ধকী) where the land lord ( জোতদার) is telling to the women , whome he kept as mortgage from her husband,
Swami Gise tok bondhok thuiya Ar na paribe chutaiba
jor koriya ohe bahe tok korim beha
( স্বামী গিসে তোক বন্ধক থুইয়া আর না পারিবে ছুটাইবা
জোর করিয়া অহে বাহে তোক করিম বেহা।)
In reply the woman Kironsori (কিরনসরী) is saying :
Swami gise mok bondhok thuiya dhormer poth ar cinilen na,
pao dhoriya kohocu katha, hamak aar chuyen na.

(স্বামী গিসে মোক বন্ধক থুয়্যা ধর্মের পথ আর চিনিলেন না,
পাও ধরিয়া কহচু কাথা, হামাক আর ছুয়েন না।)

In an another folk song the girl child is saying to another lady:

Bap Mao mor duracar, byacya khailek durantor.
Oki bhabee re ( buji) aar na dekhim mui bonduar barire.

( বাপ-মাও মোর দুরাচার, ব্যাচেয়া খাইলেক দুরান্তর।
ওকি ভাবী রে ( বুজি ) আর না দেখিম মুই বন্দুয়ার বাড়িরে!"
I was reading a book 'Uttor Bonger Bhasha' where I got these references.

Sushanta Kar 
মনোজ দাস (dasmk2k@gmail.com)আজ ৩১শে অক্টোবরে আসামনেট.অর্গএ মন্তব্য করেঃ
The adverse sex ratio in Delhi, Haryana and Punjab due to selective killing
of girl foetus has lot to do with this crime. In coming years it will be
more acute.

mkd

জবাবে আমি লিখিঃ

It's a vital point Monoj! Good saying!

Sushanta 

Monday, 19 October 2009

Bengali Teacher of Ajmal's son & the status of Bengali Language of Assam


From My Articles



আজমল পুত্রের বাংলা শিক্ষক ও অসমের বাংলা ভাষা 

এ আই ডি ইউ এফের সভাপতি বদরুদ্দিন আজমল লোকসভাতে নির্বাচিত হওয়াতে তাঁর বিধান সভা কেন্দ্র দক্ষিণ শালমারা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। এতে তাঁর দল বদরুদ্দিনেরই পুত্র আব্দুর রহমানকে প্রার্থী করেছে। অনেকে একে পরিবারবাদ বলছে। দল বলছে, বদরুদ্দিনের পুত্র না হলে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের ওয়াজেদ আলিকে হারানো যাবে না।  পরিবারবাদ না হলেও দলটির বিরুদ্ধে এতোদিন সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ উঠেছে। যদিও বিজেপির মতো এদের কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখাত যায়ই নি, উল্টে সব্বাইকে নিয়ে চলার প্রবণতা দেখা গেছে। অবশ্যি এটা ঠিক যে এরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বার্থের পক্ষে কথা বলে এসছেন।
       অসমিয়া জাতিয়তাবাদী দলগুলো আজমলেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দেবার অভিযোগও করে থাকে। কিন্তু এহ বাহ্য! তাঁরা এবং বাঙালি জাতিয়তাবাদীদের যে অংশটি 'বাঙালি' আর হিন্দু শব্দকে সমার্থক মনে করে তার বিজেপির চাইতেও এ আই ডি ইউ এফের উত্থানে বেশি আতঙ্কিত।
     এবারের নির্বাচনে যেটি সবচাইতে চোখে পড়বার দৃশ্য তা হলো কংগ্রেসের প্রার্থী ওয়াজেদ আলি  আজমল পুত্রের বিরুদ্ধে বাংলা না জানার অভিযোগ এনেছেন। সেই অভিযোগের জবাব দিতে ইতিমধ্যে হোজাই থেকে এক বাংলা শিক্ষককে ভালো মাইনে ও থাকা খাওয়ার সুবিধে দিয়ে মুম্বাইতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আব্দুর রহমান ইংরেজি জানেন, জানেন উর্দু এবং হিন্দিও। কিন্তু জানেন না অসমিয়া ও বাংলা। তাই যেটুকু তিনি মুম্বাইতে শিখবেন , শিখবেন। বাকি টুকু অসুবিধে দূর করবার জন্যে এই শিক্ষক নির্বাচনী প্রচারে সারাক্ষণ তাঁর সঙ্গে থাকবেন।
      বাইরের পাঠকেরা এতে অবাক হবার কিছু দেখবেন না। কিন্তু অসমের সব্বাই জানেন এতে অসমের বাঙালিদের উৎসাহিত হবার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয়তাবাদী অসমিয়াদের চিন্তিত হবার কারণ আছে।
     বদরুদ্দিন হোজাই বাসিন্দা হলেও খাস সিলেটি।  ষাট ইংরেজির ভাষা দাঙ্গার পর অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে  ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সমস্ত মুসলমান বাঙালি বিশেষ করে ময়মনসিংহমূলীয়রা নিজেদের অসমিয়া বলে আদমসুমারিতে লিখিয়ে আসছেন। বরাক উপত্যকার মুসলমানদের বাংলা ভাষা আনুগত্যও প্রশ্নাতীত নয়। যদিও এদের সব্বারই মাতৃভাষা বাংলা। তাঁদের ক্ষুদ্র মধ্যবিত্ত অংশটি সবসময়েই বাংলার পক্ষে থাকলেও ষাট ইংরেজিতে মইনুল হকের ভূমিকা ও আশিতে আলগাপুরের অগপ বিধায়ক সহিদুল আলমের ভূমিকা ঐ প্রশ্নগুলোকে পাকা করতে সাহায্য করেছিল। আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি আছে, দেখেছি আগে যখন বাংলাদেশের টিভি চেনেলগুলোর নাটক -ধারাবাহিকগুলোর ব্যাপক প্রচার ও জনপ্রিয়তা কাছাড়ে করিমগঞ্জে ছিল তখন শিল্পীদের নামের ভিড়ে কোনো হিন্দু নাম দেখালেই আত্মীয়রা চেঁচিয়ে বলতেন, "ঐ একটা বাঙালিও আছে বে!" বুঝুন ঠেলা, বাংলাদেশে বাঙালি থাকবে না তো 'কিরঘিজ' থাকবে? আজো বরাকের হিন্দুরা প্রকাশ্যেই মুসলমানদের বলে 'বাঙাল'! এরা এটি কখনোই বুঝতে চায়নি যে  মূলতঃ কৃষক হবার সুবাদে এতোদিন  মুসলমানদের  কাছে ভাষা ততো গুরুত্ব পায় নি। যে ভাষা সরকারী কাগজে লেখালে নিরাপদে থাকবেন তাই লিখিয়েছেন।  বরাকে অবশ্য তারা চিরদিনই নিজেদের বাঙালি লিখিয়েছেন, যদিও মধ্যবিত্ত সমাজ তার জন্যে কোনো সম্মান জানায় নি তেমন।
       কিন্তু বদরুদ্দিনের দল শুরু থেকেই অন্য প্রবণতা দেখাচ্ছে। তাঁর দলের বদরপুরের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েই ১৯৬১র শিলচরের গণহত্যার পর গঠিত মেহরোত্রা কমিটির প্রতিবেদন কেন প্রাকাশিত হবে না, এই প্রশ্ন তুলে বিধান সভার বাইরে ও ভেতরে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। অন্য বিধায়ক আতাঊর রহমান রাজ্য বিধানসভাতে বাংলাতে শপথ নিয়েছিলেন।বদরুদ্দিন প্রায়ই বলেন বটে অসমিয়া সংস্কৃতি রক্ষা করাই তার দলের লক্ষ্য। কিন্তু কথায় কথায় এ ইঙ্গিতো দিতে ভুলেন না যে বাঙালিদের বিপন্ন হতেও তিনি দিচ্ছেন না। যখনই ভাটি অসমের মুসলমান মজুররা উজান অসমে বা পূর্বোত্তরের অন্য রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মার খান, তিনি প্রকাশ্যেই বাঙালি নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। 
     গেল বছর তাঁর দলের কিছু কর্মী ভাটি অসমের গোয়ালপাড়াতে এক সম্মেলন করে নিজেদের বাঙালি বলে ঘোষণা করবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উদালগুড়ির দাঙ্গা ও ৩০ অক্টোবরের ধারাবাহিক বোমা বিষ্ফোরণের ( যেটির জন্যে প্রথমে মুসলমান জঙ্গীদের দায়ী করা হলেও ধরা পড়ে বডো উগ্রপন্থী) পর সে উদ্যোগে পানি পড়ে। এই উদ্যোগে হোমেন বরগোঁহাইয়ের মতো আপাত উদার বুদ্ধিজীবিও বেশ ক্ষেপেছিলেন । এ নিয়ে আমারও এক লেখা ছেপেছিল দৈনিক জনকণ্ঠ। ( এখানে দেখুন)  । তখন ঝিমিয়ে গেলেও কিন্তু তলায় তলায় যে একটি চোরাস্রোত বইছে তা বোঝা যায় এই ঘটানাতে যে বদরুদ্দিন পুত্র অসমিয়া জানেন না, এটা কংগ্রেসের মতো মৃদু জাতীয়তাবাদীদের কাছেও আর কোনো ইস্যু নয়। ইস্যু বাংলা না জানা।সম্প্রতি আলগাপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সহিদুল আলমকেও দেখা যাচ্ছে পুরোনো পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবার উদ্যোগ নিতে । তিনি এখন এ আই ডি ইউ এফ আর তৃণমূল কংগ্রেসের ঐক্য ঘটিয়ে বাঙালি ঐক্য সম্ভব করে তুলতে চান।এগুলো  এ রাজ্যের বাঙালিদের কাছে নিশ্চইয়ই এক সুখবর । যদিও হাইলাকান্দির 'সাহিত্য' পত্রিকার শততম সংখ্যাতে 'নিরালম্ব'এর মতো গল্পের লেখক অরিজিত চৌধুরীদের মতো বুদ্ধিজীবিদের কাছে এও এক দুঃসংবাদ মাত্র। কারণ তাঁরা একে দেখেন 'বাঙলাদেশী আধিপত্য কায়েমে'র এক ষড়যন্ত্র হিসেবেই। এদের মতো বাঙালিরা হচ্ছেন মুসলমানদের কাছে শাখের করাতের মতো। আসতেও কাটেন, যেতেও কাটেন। 
      আমার ব্যক্তিগত অনুমান হলো, এ রাজ্যে অচিরেই বাঙলা ভাষা ও সংস্কৃতির আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন মুসলমানেরা। কারণ হিন্দুদের নয়, একমাত্র এদেরই আছে নিচু তলা অব্দি সংযোগ। শ্রমিক কৃষকদের মধ্যে। আগামী আদমসুমারিতেই এ রাজ্যের জনবিন্যাসের  চরিত্র পাল্টে যাবার সম্ভাবনা প্রবল।
ষাটের দশকে এদের যেভাবে অসমিয়া লিখিয়ে রাজ্যের জনবিন্যাসের চরিত্র পালটানো হয়েছিল তা নিয়ে রাজ্যের প্রখ্যাত অসমিয়া বুদ্ধিজীবি ড০ হীরেন গোঁহাইর উদ্ধৃতি দিয়ে আরো এক বুদ্ধিজীবি ড০  দেবব্রত শর্মা তাঁর বহুখ্যাত গ্রন্থ ‘অসমিয়া জাতি গঠন প্রক্রিয়া আরু জাতীয় –জনগোষ্ঠীগত অনুষ্ঠানসমূহ’ গ্রন্থে লিখেছেন যে “. . .ড০ হীরেন গোঁহাইর মত এই যে ১৯৬১-৭১ সময়চোয়াত ৫৭%র পরা ৭১% শতাংশলৈ অসমীয়াভাষীর  এই চমকপ্রদ সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটোয়া হৈছে রাজনৈতিক হাত-সাফাইর জরিয়তে। তেঁও সকীয়াই দিছে যে এনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিমিষতে থান-বানো হৈ যাব পারে ।”( পৃষ্ঠা ৫৪৮)  আমাদের অনুমান এই ‘থান-বান’ ( টুকরো টাকরা ) হয়ে যাবার সময় সমাগত। 
 
      বরং গণতন্ত্রে যে ভাবে পৃথিবীর সব দেশে, মায় বাংলাদেশেও, 'সংখ্যাগরিষ্ঠরা' রাজ করে তাতে অন্য এক বিপদ মাথা তুলতেই পারে। সে বিপদ 'বাংলাদেশী'র নয়, বাঙালি উগ্রজাতীয়তাবাদের। বাঙালির ' আপনা মাংসে হরিণা বৈরি' দশা। পশ্চিম বাঙলা, বাংলা দেশ, ত্রিপুরা কোত্থাও অবাঙ্গালি দুর্বল সংখ্যালঘুরা নিরাপদে নেই। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির সমান সম্মান ও স্বীকৃতি নেই। পূর্বোত্তরের জনগোষ্ঠীগুলোকে এখনো বাঙালি বুদ্ধিজীবিরাও নির্বিকার 'পাহাড়ি' বলে গল্পে কবিতাতে লিখে চলে। এদের সম্পর্কে জানা র আগ্রহ অতি অল্প। বাঙালির উন্নাসিকতা দেখেই অসমিয়া মনেও 'অসমিয়াকরণে'র স্পৃহা জেগেছিল একদিন। আজো তাই আছে। তাই যারা 'ভাষা জাতীয়াতাবাদ'কে   ( এদের মধ্য আমাদের অনেক বামপন্থী বন্ধুরাও আছেন) ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার  দাওয়াই বলে ভাবেন তাদের দলে আমি। নেই। 'ভাষা সাম্প্রদায়িকতা' যে কী ভীষণ দম বন্ধ স্থিতির জন্ম দেয় জানবার জন্যে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাতে এসে বাস করার অভিজ্ঞতা চাই।  
     তাই আমরা যারা বর্তমান গণতন্ত্রের বদলে  'সংখ্যালঘুও তার ভাষা-ধর্ম নিয়ে সমান নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করবে' এমন এক উন্নত তথা নয়া গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখি তাদের দায়িত্ব আগামী দিনের অসমে বাড়ল বলে। আমাদের তখন অবশ্যই অসমিয়া সহ অন্য ভাষীদের সম্মানের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

Sunday, 18 October 2009

An Interview with the Poet Anshuman Kar


আমি অনেক দিন ধরেই লিখছিলাম কলকাতার সাহিত্য অঙ্গন এক ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এই সত্যকেই স্বীকার করছেন বাংলা একাদেমি পুরস্কার ও কৃত্তিবাস পুরস্কার পাওয়া কবি অংশুমান কর । শুভপ্রসাদ নন্দীমজুমদারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানাচ্ছেন তেমন কিছু কথা । প্রথমাংশ বেরিয়েছে ১৮-১০-০৯এ ।দ্বিতীয় অংশ বেরুলো ২৫-১০-০৯এর সাময়িক প্রসঙ্গে। এই দ্বিতীয় অংশে আমার মতে উল্লেখযোগ্য কোনো কথা নেই। তিনি লেখকদের মধ্যে প্রগতিশীল-প্রতিক্রিয়াশীল বিভাজন স্বীকার করেছেন। আমার মতে এগুলো নিরর্থক। তিনি নিজেই সিপিএমের মতো এক প্রতিক্রিয়াশীল দলের কর্মী।  পুরো লেখা পড়তে ছবিটি টিপে পিকাসাতে চলে যান। বড় করুন আর পড়ুন।

Friday, 9 October 2009

KOBITA: THE POEM

Swajatyer Ohomikar Theke Mukti Daner Shikkhai Ajaker Diner Prodhan Shikkha: Rabindranath Thakur




কবিতা
মূল অসমিয়াঃ নীলিম কুমার
বাংলা অনুবাদঃ সুশান্ত কর

ফেলে যাওয়া তোমার ঘরটাতে আমি দাঁড়িয়ে আছি ।
বিছানাতে ছড়িয়ে পড়ে আছে জিনিসগুলো
পাল্টে যাওয়া কাপড়টি, চিরুণি, চিরুণিতে পাক খাওয়া
একটি চুল, চুলের ক্লিপ। চেয়ারে
পড়ে রয়েছিল টাওয়েলখানা, তখনো সামান্য ভেজা ।
ছিটকে পড়ে রয়েছিল দু’দিকে দু’টো সেণ্ডেল, নির্জনতারো
হাত নেই যে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখবে !
খিড়কিটাও আধমেলা রইল ।
ফ্রিজের পানিগুলো এতো ঠাণ্ডা হয়ে গেল যে মুখে দেয়া যায় না ।
টেবিলে আধা গ্লাস পানি---খেয়ে রেখে গেছিলে
না খেতে ভুলে গেলে ?
দোয়ারখানা আজিয়ে গেছিলে শুধু । তালাও দিলে না।
তালা দিতে ভুলে গেছিলে না তালা চাবি খোঁজে পাওনি
তাড়াহুড়োতে !

এমনি করে কই চলে গেলে সোনা,
এতো তাড়াহুড়ো করে চলে যাবার জন্যে
তোমার যে অন্য আরেক জগৎ ছিল জানা ছিল না ।
( নীলিম কুমার একালের আধুনিক অসমিয়া কবিতার অগ্রণী পুরুষ; বাংলা কবিতাতে যেমন জয় গোস্বামী। ‘কবিতা’ শিরোনামেই কবিতাটি বেরিয়েছে ১৬সেপ্টেম্বর,০৯ সংখ্যা ‘প্রান্তিকে’)


The Autumn issue of ‘Byatikrom’ ; The Problem of Practicing Bengali Language and Literature in Assam

গুয়াহাটি থেকে প্রকাশিত ‘ব্যতিক্রম’ কাগজটি তাদের সেপ্টেম্বরে (০৯) প্রকাশিত পুজো সংখ্যা দিয়ে এক বছর পূর্ণ করে অসমের বাংলা প্রকাশনার সংজ্ঞাই  পাল্টে দিয়েছে। এর আগে বহু চেষ্টা হলেও অসমে
ব্যবসায়িক ভিত্তিতে  প্রকাশিত কোনো বাংলা সাময়িক পত্রিকাই এক বছর পার করতে পেরেছে বলে মনে পড়ে না। শিলচর থেকে সন্দীপ আচার্য দশকখানিক আগে এক চেষ্টা করেছিলেন। পরম ভট্টাচার্য , সুজিত
দাসেদের মতো ব্যক্তিত্ব এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু এক বছর পুরো করেছিল বলে মনে হয় না। তাই এর নামও ভুলে গেছি। একাধিক দৈনিক কাগজ বেরোলেও তাদের মালিকেরা কেঊ এই পথে  পা বাড়াতে
সাহস করেনি। এখন শুনছি যুগশঙ্খ পা বাড়াবে । ইতিমধ্যে ‘অন্যদেশ’ নামে অঞ্জলি সেনগুপ্তের সম্পাদনাতে আরো একটা কাগজ বেরুচ্ছে। ভালো কথা। যত বেরোয় অসমের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্যে ততই সুসংবাদ বয়ে নিয়ে আসবে।
    এর আগে সোনার কাছাড় ও যুগশঙ্খ শারদসংখ্যাও দু’একবার বের করেছিল । কিন্তু ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি। বোধহয় খরচ ওঠেনি। বরাক উপত্যকাতে যারা অলিতে গলিতে ঘটা করে উনিশ
–একুশ পালন করেন তারাও এ ধরণের কাগজ কিনে বাঁচিয়ে রাখাটা ধর্ম বলে জ্ঞান করেন না। শুধু লেখক-বুদ্ধিজীবিতে আর কতদূর এগুতে পারে! বরাক তথা অসমের বাঙালির বাঙালিয়ানার  মানে পশ্চিম বাংলার থেকে ধার করে আনা আধখানা ( পড়ুনঃ হিন্দু বাঙালিয়ানা)  । কলকাতার ছোঁয়া না থাকলে কিছুই তাদের মুখে রোচে না। মায়, ধর্মও না । কলাকাতার প্রকাশনাগুলো আমাদের টাকাতে সওদা করে।  কিন্তু তাদের রচনাতে এখানকার মাটির গন্ধ জুড়ে দিতে তাদের বয়েই গেছে! তাঁরা হিল্লী-দিল্লী বছরে বেশ ক’বারই করেন । কিন্তু অসমে বুড়ো বয়সে এলেও নির্দ্বিধাতে সরল মনেই বলে ফেলেন, এই প্রথম এলাম। এখানেও যে বাঙলাতে লেখা হয়, প্রচুর হয়, জানলে ‘বিপন্ন বিষ্ময়ে’ বলে ওঠেন ‘ওমা! এ কী! এখানেও হয় !’ সম্প্রতি ক’মাসের ব্যবধানে এসে গেলেন হর্শ দত্ত, জয় গোস্বামী, মহাশ্বেতা দেবী। সব্বারই মুখে আমরা শুনেছি ঐ একই কথা ।  
      এ অবস্থাতে ব্যতিক্রমের সম্পাদক সৌমেন ভারতীয়া  কী যাদুটি করেন , তা তিনিই জানেন। কয়েকটা সংখ্যা পড়ে গেলে অবশ্য যাদুর রহস্য অনুমান করাটা পাঠকের পক্ষে অসুবিধে হয় না । কিন্তু সেটি প্রকাশ্য করে দিয়ে তাদের ভাতে মারার ইচ্ছে আমাদের মোটেও নেই। শুধু আশংকা হয়ে এ যাদুতে বেশি দিন চলবেতো ! তা যাদুকর স্বয়ং জানেন। আমরা শুধু শুভেচ্ছাই জানাতে পারি। ইংরেজিতে যাকে বলে professionalism তা তাদের আছে পুরো মাত্রাতে। শুধু অর্থ নয় , তথাকথিত ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা’র  তত্বও আগেকার সম্পাদকদের পথ রোধে দাঁড়িয়েছিল। একটা বিকল্প প্রতিষ্ঠান তুলে ধরাই যে অসমের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের রাহু মুক্তির অন্যতম পথ এই সহজ কথা তাদের অনেকের মাথাতেই ঢুকত না। ফলে তাঁরা ‘অপসংস্কৃতি’ নামের অস্পৃশ্যতার ছোঁয়া মাড়িয়ে যা বের করতেন তা শুধু গুরু গম্ভীর বৌদ্ধিক জ্যেঠামশাইদেরই পাতে তোলবার মতো ছিল।  কখনো বা একেবারেই প্রাচীন  ছেঁড়া পুথির রঙে  ও রেখায়। এখনো এই কম্প্যুটার যুগেও অনেকে সেই ‘লেটারপ্রেসের’ যুগের নিরলঙ্কার রূপটিকেই সাময়িক
পত্রের আদর্শ রূপ বলে ভাববার কুসংস্কার মুক্ত হতে পারেন নি। কেবল তাই নয় সেই কুসংস্কার নিয়ে তাদের বেশ গর্বও আছে। তাদের নিজেদের কাগজ যেমন তেমন চলে যায়। তাতেই তাদের এক আত্মতুষ্টি
আছে। বাকি আঙিনা যে ঝরা পাতাতে নোংরা হয়ে আছে এ নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। এভাবে তারা ‘কলকাতা’র প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা বাঁচিয়েই রেখেছিলেন নিজেদের অজান্তে।  দৈনিক কাগজগুলো
দেড় দশক আগে থেকেই অসমে পশ্চিম বাংলার কাগজগুলোর বাজারে ভাগ বসিয়ে ছিল। কিন্তু সাময়িক পত্রগুলো পারে নি।
                ‘ব্যতিক্রম’ এদিক থেকে ব্যতিক্রম। তাঁরা এক বিকল্প  প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলবার পথে এগুচ্ছেন। তা করতে গিয়ে কিছু অশুভ আপোস করতে হচ্ছে। মায় প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে ভেতরের
পাতাগুলোতে সুন্দরী মেয়েদের ছবিতে ছড়াচ্ছড়ি। এতেও আমরা আপত্তির কিছু দেখিনা। মেয়েরা যত পাঠিকা হয়ে উঠে আসবেন তত ছেলেদের ছবিতেও ভরে যাবে  ব্যবসায়িক কাগজের পাতাগুলো। মানব
শরীরের থেকে সুন্দর কিছু আছে কি এ ধরণীতে ?! এ প্রশ্নটি নিয়েও ‘প্রগতিশীল’দের ভাববার যুগ বোধহয় পেরিয়ে গেল। শুধু মেয়েদের মর্যাদা যাতে শরীর মাত্রে নেমে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে অনুরোধ করব সম্পাদককে ।
    এমনিতে কাগজটি  জীবন-জীবিকা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের পরামর্শ দেয়াটেয়াতে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখে। সাহিত্যের খবর কিছু দিলেও , সাহিত্যের কাজ কিছু এতে রাখতেন না এতোদিন। কিন্তু শারদ সংখ্যাতে এর ব্যতিক্রম ঘটিয়েছেন আর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “আগামী সংখ্যা থেকে আমরা সাহিত্যের জন্যে কয়েকটি পাতা বরাদ্দ করছি।” সুতরং আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, “ সাহিত্যের পাতার জন্যে যে কেউ
আমাদের দপ্তরে মৌলিক লেখা পাঠাতে পারেন।” লেখাপড়া, জীবিকা নিয়ে এ সংখ্যাতেও বেশ কিছু ভালো লেখা ও তথ্য রয়েছে।  বিভাস লাহিড়ি লিখেছেন ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষাঃ ১০ টি পরামর্শ ; প্রশান্ত চাকলাদার
লিখেছেন ‘Career & Respect  দুটোই আছে মানবাধিকারের কোর্সে ; গীতার্থ সেঙ্গুপ্ত লিখেছেন ‘ তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের পেশা Visual Merchandising ; Interview সহজ, সাবলীল, সপ্রতিভ থাকুন লিখেছেন াবলীল, সপ্রতিভ থাকুন লিখেছেন নিখিল তালুকদার ; কর্মক্ষেত্রে—Sales & Marketing লিখেছেন ধনঞ্জয় মেধি ; ইতি মজুমদার লিখেছেন ‘পরীক্ষার মুখে নয় , পাঠ পরিকল্পনা করো এখন থেকেই । বিকাশ
সরকার প্রত্যেক সংখ্যাতেই লেখেন কোনো না কোনো এক ব্যতিক্রমী দেশি বিদেশী চেনা-অচেনা ব্যক্তিত্ব নিয়ে যাদের জীবন পাঠকদের জীবনের নতুন আশার আলো জাগাতে পারে বলে তাঁর মনে হয় । এ
সংখ্যাতেও  ‘ আমার শৈশবকে কি তুমি দেখেছো ?’ রচনাতে সদ্য প্রয়াত মাইকেল জ্যাকসনের  স্মৃতিচারণ করেছেন।  এ লেখার উপরী  পাওনা ‘Have you seen my childhood?’ গানের পূর্ণপাঠ । 
    শুরু থেকে প্রতিটি সংখ্যাতে দু’একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বেছে নিয়ে সাক্ষাৎকার নিয়ে এসছে ‘ব্যতিক্রম’। সে সাক্ষাৎকারকে প্রচ্ছদ নিবন্ধের মর্যাদা দিয়েছে ।  জানিয়েছে সেই ব্যক্তি ব্যতিক্রমী। তাতে
বুঝি, জীবনে তাঁদের সফলতার পেছনকার ইতিবৃত্য জানিয়ে কাগজটি তরুণদেরও উদ্বুদ্ধ করতে চেয়ে এসছে। শুরু করেছিল পাথারকান্দির বিধায়ক কার্তিক সেনা সিনহাকে দিয়ে। আমার এখনো মনে পড়ে সামান্য গরীব  কৃষকের ঘরের ছেলে যিনি ছেলেবেলাতে গরু চরাতে মাঠে যেতেন তিনি এখন একজন সফল রাজনীতিবিদই নন , একজন সফল বড়মাপের ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবীও। তাঁর রাজনীতির সঙ্গে বর্তমান লেখকের দূর দূর পর্যন্ত কোনো সহমত পোষণ করবার কোনো সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু অতি কম বয়সে  তাঁর উত্থানের যে গল্প ‘ব্যতিক্রম’ শুনিয়েছে সে এক কথাতে ‘রূপকথা’! মাঝে মাঝে মনে হয়েছে এর পেছনে প্রচুর বাঁকা পদক্ষেপ আছে নিশ্চয়ই। কিন্তু সে রকম পা বাড়াতেও কিছু সদর্থক গুণের দরকার পড়ে। সেই গুনগুলো আমাদের অনেক কম আছে , আমরাতো ব্যর্থতার ভয়ে আগে আগেই পিছিয়ে আসতে অভ্যস্থ । 
       এ সংখ্যাতে তেমন ব্যক্তিত্ব মহাশ্বেতা দেবী। তাঁকে নিয়েই প্রচ্ছদ নিবন্ধ। কিন্তু তিনি ছাড়াও এবারে আছেন আরো অনেকে।  ত্রিপুরার শিক্ষা সংস্কৃতি মন্ত্রী অনিল সরকার, ইংরেজি দৈনিক আসাম ট্রিবিউনের
সম্পাদক তুলসীগোবিন্দ বরুয়া,প্রতিদিন কাগজের সম্পাদক জয়ন্ত বরুয়া,যুগশঙ্খের সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ নাথ, নিউজ লাইভ টিভি চ্যানেলের সম্পাদক অতনু ভূঁইয়া ( অসমের বাংলা ভাষা যে এক স্বতন্ত্র চেহারা
নিচ্ছে তার প্রমাণ হলো , ব্যতিক্রম লিখেছে—ভূঞা) , গুয়াহাটির এক সফল বাঙালি ব্যবসায়ী গৌতম বন্দোপাধ্যায়, ফ্যাশন ডিজাইনার প্রশান্ত ঘোষ, সংস্কৃতি কর্মী মিতালি নাথ, নগাঁওয়ের নৃত্য শিল্পী মন্দিরা
ভট্টাচার্য , রাজ্যের বাঙালি  কৃষিমন্ত্রী নুরজামাল সরকার। তালিকাটি থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার এই উপত্যকার বাংলা কাগজ অন্তত বাঙালিদের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবেনা। আসাম ট্রিবিউন বা প্রতিদিনের মতো কাগজ এ রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমে বহুদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। কাগজগুলোর ভেতরের খবর আমাদের কমই জানবার সুযোগ হয়।   শারদ সংখ্যাতে ব্যতিক্রম সে সুযোগ করে দিলেন। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বাঙালি রাজনীতির নেতাদের কথা এলেই কিছু হিন্দু নেতৃত্বের কথা শুনে শুএনেই আমরা অভ্যস্থ ছিলাম। নুরজামান তেমন সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। কিন্তু যে জন্যে তাঁর সাক্ষাৎকারটি দরকারি মনে হল তা এই যে নুরজামানতো বটেই  ব্যতিক্রমও তাঁকে বাঙালি বলে চিহ্নিত করছে। এ উপত্যকার থেকে উল্লেখযোগ্য বাঙালি নেতা উঠে না আসার কারণ সম্পর্কে তিনি বলছেন, “ এই উপত্যকায় বাঙালিদের বসবাস বেশিদিনের নয়। আগে থিতু হোক , তারপর দেখবেন অনেক বাঙালি নেতা উঠে আসবে এখান থেকেই।” না প্রশ্ন না উত্তর –কোনোটাই কাজের নয়। দু’টতেই সত্যভ্রম আছে।   কিন্তু তাঁকে বাঙালি বলে তুলে ধরে ব্যতিক্রম অন্তত একজন বাঙালি বিধায়কের সংখ্যা এ রাজ্যে বাড়িয়ে দিল। এমন করে দেখলে আরো বহু  বাঙালি নেতার দেখা পাওয়া যাবে।  আশা করছি বুদ্ধিমানেদের জন্যে এই ইশারাই যথেষ্ট হবে। 

       মহাশ্বেতাকে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মের স্মরণ অনুষ্ঠানে পুরস্কার দিয়ে সম্মান  জানাতে ডাকা হয়েছিল।  উপেন্দ্রনাথ বডোদের জাতীয় পিতা বলে সম্মানিত হন। কিন্তু যে আন্দোলন তাঁর হাতে গড়ে উঠেছিল সেটি সব জনজাতীয়দের মুক্তির লক্ষ্যে পরিচালিত ছিল না। বরং সে  আন্দোলনের ধাক্কাতে বিপন্ন হয়েছে এ রাজ্যের রাজবংশি, ঝাড়খণ্ডি সহ অন্য প্রায় সমস্ত জনজাতি। আর ময়মনসিংহমূলীয় মুসলমান চাষিদের কথাতো বলেই লাভ নেই।  তেমন আন্দোলনের পুরোধার স্মরণে পুরস্কার নিতে তিনি কেন এলেন এ প্রশ্নটা মনে কাঁটা বিধিয়ে দেয় বটে। বোধহয় কিছু  জনজাতীয় আন্দোলন যে নিপীড়ক চরিত্রের হতে পারে সে  নিয়ে তাঁর ধারণা কম।  এমনিতেও  এ তাঁর দ্বিতীয়বার অসম ভ্রমণ। এর আগে একবার অসম হয়ে ত্রিপুরা গেছিলেন জানালেন। ‘সব মনে নেই, ভুলেও গেছি অনেকটা’—তাই বোধহয় এখানকার জনজাতীয় সমস্যার জটিল চরিত্রটা তেমন জানা নেই তাঁর।  সাক্ষাৎকারেও তেমন প্রসঙ্গ উঠে এলো না। কিন্তু সেই তিনি ব্যতিক্রমের সদস্যদের মৃদু ধমকে দিয়েছেন দেখে আমাদের বেশ কৌতুক বোধ হয়। কলকাতার লোকেরা ধমকে টমকে দিলে আমরাও বেশ বাধ্য ছাত্রের মতো মেনে টেনে নিই। ব্যতিক্রম জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল, “ আপনি এই যে লোধা, শবর, ওঁরাও, সাঁওতাল এদের নিয়ে . . .। তিনি বললেন, “ লোধা, শবরদের সঙ্গে ওঁরাও-সাঁওতালদের এক করে দেখলে চলবে না , ওরা আলাদা।” ব্যতিক্রম বলল, “ ঠিক আছে এই যে সমাজের অন্ত্যজ শ্রেণির কাছে . . .” তিনি বললেন, “ না , না ওরা অন্ত্যজ নয়। কয়েকটা ভালো ভালো শব্দ বললেই ইন্টারভিঊ হয় না।”  ‘অন্ত্যজ’ শব্দটা  কেবল ব্যতিক্রমের নয় এই উপত্যকার বাঙালি মধ্যবিত্তের সমাজবিচ্ছিন্ন চরিত্রকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় বটে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো এমন
ধমকে  দেবার অধিকারটা তিনি মহাশ্বেতা বলেই তাঁকে দিতে হবে? তিনি কি জানেন যে এ রাজ্যে আমাদের ভাষাচাষিদের অবস্থাও ‘অন্ত্যজ’দের থেকে খুব একটা ভালো নয়? তিনি কি জানেন না আমাদের
লেখকেরা সব্বাই একলব্যের স্কুলের ছাত্র ! তাঁর জানবার দরকার কী!  জয় গোস্বামীরো দরকার ছিল না এখানে আসবার আগে, ছিল না হর্শ দত্তেরও । যদিও শ্রী দত্তের কাগজটি ভারতের এই টুকরোতে লক্ষ লক্ষ
টাকার ব্যবসা করে প্রতি মাসে!  আমরা কেবল ‘অন্ত্যজ’ নই, ‘অন্ত্যজে’র মানসিকতার থেকেও মুক্ত নই । সে প্রমাণ এ সংখ্যা ব্যাতিক্রমের পাতাতেই আছে। কবিতা লিখেছেন অনেকেই। পীযুষ রাউত থেকে শুরু
করে স্বর্ণালি বিশ্বাস ভট্টাচার্য, অনীতা দাস টন্ডন, রবীন্দ্র  সরকার,  সুব্রত পাল, তপন মহন্ত, দিলীপ বিশ্বাস,অমরেশ দত্ত, কানাই লাল জানা স্মৃতি পাল নাথ এমন প্রায় বত্রিশজন কবি । আমিতাভ দেব চৌধুরী
লিখেছেন, এক অপূর্ব কাব্যোপন্যাস ‘ঈশ্বরের শেষ গুপ্ত চর’। সঙ্গে আছে জয় গোস্বামীর কবিতা ‘কী বিস্মিত নাম’। অসমের কোনো কাগজে এই প্রথম লিখেছেন –এই সংবাদটি ব্যতিক্রম জানিয়ে দিয়েছেন।
           আমাদের অভিমত হলো তিনি এখানকার কাগজে আর বেশি লিখবেনও  না। তাঁকে একেবারে কাগজটির শুরুতে অন্য নিবন্ধ-প্রবন্ধ সহ সব রচনার আগে  জায়গা করে দেয়া কেন ? এটি তাঁকে সম্মান জানানো না আমাদের লেখকদের অপমান করা হলো এই প্রশ্নটা ওঠাই  উচিৎ ।  আমাদের অশুভ ছায়া থেকে তাঁকে বাঁচানো হলো কি ? এই হীনমন্যতা যত তাড়াতাড়ি আমরা ছাড়তে পারি তত দ্রুত আমাদের রাহু মুক্তি ঘটবে। ব্রজেন্দ্র সিংহের আশ্চর্য সুন্দর ও তথ্য সমৃদ্ধ স্মৃতিকথা ‘আমাকে নিয়ে সাতকাহনে লিখেছেন, “ আমি মাঝে মাঝে অভিমানী হয়ে যাই । একবার সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাংলা কবিতা নিয়ে জোর তর্ক  বা আলোচনা চলছিল, মাঝখানে বীরেনবাবু ( রক্ষিত) বললেন, ইনি কিন্তু বাঙালি নন। সঙ্গে সঙ্গে সন্দীপনের কথা বলা বন্ধ। আর একটি শব্দও বলল না আমার সঙ্গে এই নিয়ে ।” এই অভিমানের সম্মান দিতে  আমরাই বা শিখব কবে ?
          ব্রজেন্দ্র বাবু না হয় অবাঙালি, বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি মানুষ। কিন্তু বাঙালি হলেই বা আমাদের অভিজ্ঞতা কেমন, তার সন্ধানও পাওয়া যাবে তাঁর লেখা থেকে। তিনি লিখেছেন, “ তিনি ( বীরেন রক্ষিত) দারুণ অভিমানী। নিজেকে প্রায় গুটিয়ে রেখেছেন । দল বেঁধে হইচইয়ের মধ্যে নেই সুনীল-শক্তিদের সঙ্গে তেমন ভাব নেই। কারো সঙ্গেই সম্ভবত বনত না। তিনি ছিলেন একা ও অভিমানী। তিনি বলতেন লিখে কী হবে । আমাদের জন্যেতো আর একটা চ্যাপ্টার থাকবে না । ফুটনোটেও নাম থাকবে কিনা ঠিক নেই। তাঁর সঙ্গে মিশে আমিও একজন পেসিমিস্ট হয়ে উঠলাম। . .  .  আমি আমার কবিতার বইয়ের প্রচ্ছদ সত্যজিৎ রায়কে দিয়ে আঁকাব, অন্তত অনুরোধ করব। বীরেন বাবু বললেন, সত্যজিৎ রায় কর্মচারীর আঁকা একটা ছবি দিয়ে দেবেন। ” চাকরি শেষে কলকাতাবাসি বীরেন রক্ষিতের সঙ্গে জীবনে প্রথম আমার দেখা হয়েছিল  ২০০৫এ পুনর্বিন্যাস পাঠক্রমে যোগ দিতে গিয়ে। রবীন্দ্রভারতীতে।  কমল কুমারের উপর বক্তৃতা করেছিলেন। বক্তৃতা শেষে দু’চারটে কথাতে আলাপ পরিচয়। আমার তাঁকে মনে হচ্ছিল হতাশ, নিঃসঙ্গ ও দুর্বল। তার দিন  বছর না ঘুরতেই তিনি মারা যাবেন তখন কি ভেবেছি! বীরেনবাবু না হয় পেসিমিস্ট ছিলেন। শক্তিপদ আমার কলেজের শিক্ষক ছিলেন। নিজে প্রবাসী হবার দিন কতক আগে একবার তাঁর বাড়ি গেছিলাম। তিনি জানালেন দিনকতক আগে এক সাহিত্যের অনুষ্ঠানে কলকাতা গেছিলেন। তাঁর যৌবনের বন্ধু সুনীল এখন আর তাঁকে, ‘কেমন আছো?’ জিজ্ঞেস করবারও সময় পান না। মৃত্যুর পর আনন্দ বাজার বোধহ্য় একটা ছোট্ট  সংবাদ ছেপেছিল। তাও শিলচরের কেউ তুলিয়েছিল বলে। ব্যস , ঐ টুকুনি। ব্রজেন্দ্র সিনহা ( এটিই বোধহয় তাঁর উপাধির আসল বানান)  লিখেছেন, “ শক্তিপদ কবি হিসেবে কারো থেকেই কম নয়। কিন্তু মৃত্যুর পর সেই সম্মান তাকে দেওয়া হয় নি     বাইরে ।”  সম্মান মৃত্যুর দিনে জীবনানন্দেরও মেলেনি । কিন্তু তাঁর সঙ্গে শক্তিপদের ভাগ্যকে মেলানো যাবে কি ? এ হচ্ছে আমাদের মতো  ‘অস্পৃশ্যদের অদৃষ্ট’ । সে অদৃষ্ট ফেরাতে আমরা পাটকেলটি ছোঁড়ব , সে পরামর্শ আমাদের   নয় । জয় –মহাশ্বেতাদের আমাদের লাগবে। কিন্তু তাই বলে আমাদের অতি সম্মানের আর ভালোবাসার শিক্ষক, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার সাহিত্যের আকাশে  সুর্য টেনে আনবার রথের  যিনি সারথী, সেই  উষা রঞ্জন মহাশ্বেতাকে তিন বছর আগের পাওনা প্রণাম করবার জন্যে উতলা হবেন আর প্রত্যাখ্যাত হবেন এর ভার আমাদের সহ্য করবার কোনো দায় নেই ।
         ‘গুয়াহাটিতে আমার সাহিত্য আড্ডা’ নামে মানস শিকদার এক অতি সুন্দর স্মৃতি কথা লিখেছেন। যাকে বলে সাহিত্যিক প্রবন্ধ—তার মর্যাদা পাবার যোগ্য এটি। শুরু হয়েছে এরকম, “ ঢ্যাঢারং ঢ্যাটাং ঢ্যাটাং,
ঢ্যাঢারং ঢ্যাটাং ঢ্যাটাং শব্দটা কনে বাজতেই চোখের সামনে যেন খুলে যায় এক রঙিন ক্যালাইডোস্কোপ , বুকের ভিতর থেকে উড়াল মারে হাজার পাখির অক্লান্ত ডানার বিস্তার, যেন খুলে যায় সিমসিমের হীরক
দ্যুতিময় গুহামুখ। . .” প্রবন্ধটি গুয়াহাটির বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত  জানতে গেলে পরের কালের লেখকদের জন্যে এক ভালো আকর হবে। এতে তিনি লিখেছেন এক জায়গায়, “  ‘ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার
লেখালেখির সমস্যা, একটি খসড়া’ নামক মানিক দাসের একটি প্রবন্ধ যা লেখাকর্মীর শরৎ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল, যথেষ্ট বিতর্ক তুলেছিল। বেশ কিছু দিন সেই প্রবন্ধ উত্তেজনার ঢেঊ তুলেছিল বিভিন্ন আড্ডায়।
পরবর্তী শরৎ সংখ্যায় তার জবাবে অখিল দত্ত পাল্টা লিখেছিলেন এক দীর্ঘ প্রবন্ধ ‘আমাদের সৃজনশীল সাহিত্য কি শূন্য?’ এবং পাশাপাশি ছাপা হয়েছিল মানিক দাসের জবাবমূলক প্রবন্ধ ‘ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার
লেখালেখির সমস্যা বিতর্কের জবাব এবং সিদ্ধান্ত’ । সেই পাল্টা প্রবন্ধ এবং তার জবাব নিয়েও লেখা কর্মী শরৎ সংখ্যা বেশ কিছুদিন যাবৎ উত্তাপ তুলেছিল সাহিত্য আড্ডায়। সেই আগুনে আমরা সকলেই
অল্পবিস্তর হাত সেঁকলেও এবং চায়ের কাপে তুফান তুললেও লিখিত আকারে, পক্ষে বা বিপক্ষে কোনোও যুক্তিসমৃদ্ধ বিশ্লেষণাত্মক লেখায় বিষয়টিকে টেনে নিয়ে যাইনি। সেটা হলে অসমের বাংলা সাহিত্য বিষয়ে
চিন্তা ও চর্চার কিছু দিক নিশ্চয়ই উঠে আসত। উপেক্ষার বিরোধীতা এবং এড়িয়ে যাওয়ার আলস্যপরায়ণতা আমাদের সেই দিকটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ”  এই শেষ বাক্য ক’টি নির্ঘাৎ এক সবল সত্য ভাষণ। এমন বাচনে গুয়াহাটি বা এই উপত্যকার লেখকেরা অভ্যস্ত বলে মনে হয় না। বছর কয় আগে বর্তমান লেখকও এ নিয়ে একটা তর্ক তোলবার চেষ্টা করেছিলাম ‘কবিতার পূর্বোত্তর’ কাগজে। কিন্তু যুক্তি তর্ক কোথায় ! শেষ অব্দি ব্যক্তিগত আক্রমণে সে তর্কের ইতি পড়েছিল। এক ‘নক্ষত্র’কবিতো একবার ফোনেই আমাকে যা নয় তা গালি গালাজ করে বসলেন। বিষয় আর কিছু নয়। প্রশ্ন শুধু এই করেছিলাম যে তিনি  এতো বিদেশি  লেখকদের উদ্ধৃতি ব্যবহার করেন কেন?  যাই হোক সমস্যাটি আছে তার স্বীকৃতি আছে এই লেখাতে। মানিক দাসের বক্তব্য কী ছিল জানবার সুযোগ করে দেন নি মানস। যাই থাক এ নিয়ে তর্ক একটা নিরন্তর  চালিয়ে যাওয়া উচিত। এখনো গুয়াহাটির বাইরে বেশির ভাগ জায়গাতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে কথা বললে একটি বাঙ্গালি বন্ধু জোটা মুসকিল হয়। এমন কি বেশির ভাগ বাংলার শিক্ষক-অধ্যাপকেরাও মাইনে নেবার  অমানবিক-অসামাজিক কল মাত্র।  বাংলা ভাষা  ও সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে গেলে কী ভীষণ মাজাদার কৌতুককর অভিজ্ঞতার মধ্যি দিয়ে যেতে হয় এ নিয়ে পরে আমার লেখার ইচ্ছে আছে।
            এখানেতো অনেক বাঘা বাঘা সংস্কৃতি কর্মীও ভাবেন, কবি মানে রবীন্দ্রনাথ আর তাঁর একটাই বই আছে সেটির নাম ‘সঞ্চয়িতা।’ একবার এক বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী যখন জেনেছিলেন যে আমার কাছে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ আছে কিন্তু ঐ ‘সঞ্চয়িতা’ নেই বেশ হতাশ হয়েছিলেন! কারণ আর কিছু না, কলাকাতার থেকেও কোনো অতিথি এলেও তিনি দেখেছেন ঐ ‘সঞ্চয়িতা’রই খবর করেন। কলকাতার অতিথির থেকেতো আর  আমি বেশি জানতে পারি না!
আরো আসছে অপেক্ষা করুন।